সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

লংমার্চ নিয়ে আশা-হতাশা : ৬-ই এপ্রিলের একটি পূর্বাপর বিশ্লেষণ।

সকালে পত্রিকায় দেখলাম news analysis : Hefazat's  tough threat, soft program. RTNN.net লিখেছে : হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য খুব দুর্বল। প্রথম আলো লিখেছে : ১৮ দলীয় জোটের আশা পূরণ হয়নি। অন্তত টানা দু'দিন হরতালসহ হেফাজতের অবস্থান গ্রহণ আশা করেছিলো তারা। আমার দেশ পত্রিকাটির উপলব্ধি অবশ্য ভিন্ন ছিলো, সম্পাদকীয়তে তারা পূর্বাপর এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে ফোকাস করে bigger picture দেখানোর চেষ্টা করেছে। ছবি : ৬-ই এপ্রিল ২০১৩, মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ আমরা বাংলাদেশীরা একটি লজ্জাজনক কাজ করে ফেলেছি। অবশ্য আমাদের লাজ-লজ্জা কম কিনা; তা হলো -- যেকোনো বড় ধরণের মুভমেন্ট শুরু হবার আগেই তাকে তাহরির স্কয়ারের সাথে তুলনা করছি। এটা একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি ইসলামের বিরুদ্ধে কার্যতঃ যুদ্ধ ঘোষণাকারী শাহবাগ আন্দোলনকে ইসলামী জাগরণ তাহরির স্কয়ারের সাথে তুলনার ধৃষ্টতাও দেখানো হয়েছিলো। অবশ্য জনগণকে দোষ দিয়েই বা কী -- খোদ সরকারই এই ভয়ে কয়েকবার কেঁপে উঠেছে। মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে একবার খালেদা জিয়ার "চলো চলো ঢাকা চলো" কর্মসূচীকে কেন্দ্র কর...

DIY Laptop Stand

কুলিং প্যাডে ল্যাপটপ cool হয় না। আর বিভিন্ন ল্যাপটপের কনস্ট্রাকশন বিভিন্ন রকম, একারণে বাজারের কুলিং প্যাডে কাজ হয় না -- সেগুলোতে কেবল মাঝখানে একটা ফ্যান লাগানো থাকে : কোথায় বাতাস দেয়ার দরকার তা না বুঝে বোকার মত মাঝখানেই বাতাস দিতে থাকে, লাভের মধ্যে ব্যাটারি ড্রেইন হয়ে যায়। আমার ল্যাপটপের নিচে ভেন্ট হলো একদম সামনের দিকে, গরম হলে সেখানেই হয় -- কুলিং প্যাড তার কোনো উপকারই করে না : ল্যাপটপের ভেন্ট এর অবস্থান বুঝে বানাতে হবে। কিছুদিন আগে মেজাপু তার ল্যাপটপের কুলিং প্যাড বাদ দিয়ে দুটো বন্দুক রেখে তার উপর ল্যাপটপ রাখা শুরু করলো -- এখন ল্যাপটপ একদম cool ! অথচ আগে ওটাতে প্রায় ডিম পোচ করা যেতো। ওহ, বন্দুক মানে হচ্ছে অনেকগুলো কলম একটার পর একটা স্ট্যাক করে দুটো লম্বা লাঠির মত জিনিস -- সামনে থেকে দেখলে বন্দুকের নল মনে হয়। যাকগে। সেদিন নেটে একজনের সাথে কথা বলছি, তার দেশে গরম সবে শুরু হয়েছে -- ল্যাপটপ ঠাণ্ডা করতে সে কার্ডবোর্ড বক্স পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে : নিচ দিয়ে প্রচুর বাতাস যাতায়াতের সুযোগ থাকায় এখন তার ল্যাপটপ ঠাণ্ডা। (তারও মোটামুটি মেজাপুরটার মত একই ল্যাপটপ -- Dell Inspiro...

শত লাশ যখন ধ্রুব হয়ে যায়...

এখন ভোর হচ্ছে। আসলে ভোর পেরিয়ে এখন সকাল, সকাল সাতটা। শীতকালটা কেবল যেতে শুরু করেছে, তাই রোদের তেজ এখনও কম। ছবিটা তুলেছি ক'দিন আগে, তবে এখনও ছবির মতই আলো এসে পড়ছে দেয়ালে।

মেসেজ : সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আমার অবস্থান

বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশীরা বহুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মুসলিম ছাড়া আর কোনো লেবেল নিজের গায়ে লাগাতে না চাইলেও ট্যাগিং অস্ত্রের শিকার হয়ে পড়েছি। দুঃখজনকভাবে সেটা "রহিম-করিমদের" কাছ থেকেই। একারণে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা কর্তব্য। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাহরির স্কয়ারের মত ইসলামী বিপ্লবের আলো দেখা যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামের কবর রচনা করার প্রকাশ্য ঘোষণা হচ্ছে। আমরা যে মুসলিম বিশ্ব ও বৈশ্বিক ইসলামী জাগরণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উল্টো পথে চলছি, তা আশঙ্কাজনকভাবে সত্য। সাম্প্রতিককালে ঢাকার শাহবাগে যে মুভমেন্টটা শুরু হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ইসলামপন্থীরা একে বরাবরের মত একটি "ব্যর্থ সরকারী প্রচেষ্টা" মনে করলে ভুল করবেন। এটা সত্য যে পাঁচদিন ধরে সমস্ত মিডিয়ায় ঢাক-ঢোল পিটিয়েও তারা ৫০ হাজার লোক আনতে পারে নাই। কিন্তু এ-ও সত্য যে ইসলামবিরোধী সকল শক্তি এখানে একত্রিত হয়ে একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কার্যতঃ ইসলামকে ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে। এই "নতুন মুক্তিযুদ্ধের" মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বপন করে আসা ঘৃণার বীজে...

জাফর ইকবাল : একজন স্বাধীন লেখক

আজকের প্রথম আলোতে জাফর ইকবাল সাহেবের একটি সাদাসিধে কথা প্রকাশিত হয়েছে : “ বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। আবেগী কথাবার্তা আর " স্যার - স্যার” সম্বোধনের আড়ম্বর বাদ দিয়ে মুল কথাটা বলে যাই। গত ৭ ডিসেম্বর ও আজকে , ২০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে জাফর ইকবালের দুটি লেখা। শিরোনাম যথাক্রমে " তোমরা যারা শিবির করো” এবং “বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। তার আজকের লেখার শিরোনামটা চমৎকার , তবে তার লেখনীতে আমরা এমন শিরোনাম দেখি না : " মুজাহিদের সাদা টুপি " ( ১৭ বছর বয়সী শিবির কর্মী , যাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে ) " নাম - না - জানা ছেলের নীল শার্ট " ( ৪ ডিসেম্বরে মিরপুরের কালশীতে রাস্তায় ফেলে যেই শিবিরকর্মীকে লীগের ছেলেরা পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলো ) “ নাম - না - জানা বৃদ্ধের স্বজনদের কান্না” ( বিশ্বজিত হত্যার একই দিনে , ৯ ডিসেম্বরে যেই বৃদ্ধ জামাত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিলো ) “ ২৮শে অক্টোবরের দুঃসহ স্মৃতি ” ( ২৮শে অক্টোবর , ২০০৬ এ লীগের ছেলেরা লগি - বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে ৫ জন শিবির কর্মীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশের উপর নেচেছিলো ) কিংবা আরো অনে...

মেসেজ

কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই বাংলাদেশে মানুষকে অনেক ভাবে ভাগ করা যায়। আওয়ামী লীগ সমর্থনের ভিত্তিতে, বিএনপি সমর্থনের ভিত্তিকে, জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থনের ভিত্তিকে এবং আরো অনেক কিছুর ভিত্তিতে। কিন্তু এই বিবেচনার বাইরে আমি এদেশের মানুষকে ভাগ করেছি ২৮শে অক্টোবর, ২০০৬ এর ঘটনার ভিত্তিতে। ঐদিনের ঘটনাকে যারা সমর্থন করেছে, তাদেরকে অসভ্য বর্বর জানোয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছি। সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে শিবিরের কয়েকজন ছেলেকে রাস্তার উপর ফেলে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশের উপর নেচেছে আওয়ামী লীগ। এক সাংবাদিক ভাইয়ের আনা সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছিলাম সেই সময়ে। সেই ঘটনা হয়তো এখন পুরনো হয়ে গিয়েছে। হয়তো সেসময়ে অনেকের বয়স কম ছিলো, অনেকে ঘটনাটি দেখেনি কিংবা অনেকের বিবেক-বিচারবুদ্ধি সম্পূর্ণ গড়ে ওঠেনি। তাই আজকে আবার চিন্তা করতে বসেছি। গতকাল, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে যা ঘটে গেলো এই বাংলাদেশে, তার ভিত্তিতে আবার মানুষকে আলাদা করতে বসেছি। শিবিরের মিছিলে কয়েকজন ছেলের উপর সেই ২৮শে অক্টোবরের নারকীয় তাণ্ডব চালালো আওয়ামী লীগ। রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, মাথায়-মুখে লাথি দিয়ে, ...

ঘেটুপুত্র কমলা : হুমায়ুন আহমেদের শেষ কর্ম

হাওরে পানি এলে তিন মাস জমিদারের কোনো কাজ থাকে না। এই কর্মহীন সময়ে আমোদ ফূর্তি করার জন্য জমিদার সাহেব ঘেটুগানের দল ভাড়া করে আনে। ঘেটুগানের দলে কমবয়েসী সুন্দর ছেলে থাকে। এই ছেলে মেয়ে সেজে নাচ - গান করে এবং জমিদারের ইচ্ছানুযায়ী তার সাথে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। এজাতীয় ছেলেদেরকে ঘেটুপুত্র বলা হতো। মুভির ঘেটুপুত্রের নাম কমলা। টাকার অভাবে সে এই কাজে আসে। ঘেটু দলে তার বাবাও থাকে , সে হলো দলের অধিকারী। বেশ ক ' দিন জমিদারকে আনন্দ দেবার পর একদিন জমিদারে স্ত্রীর হিংসার শিকার হয়ে কমলার অপমৃত্যু ঘটে : কাজের মহিলা টাকার বিনিময়ে কমলাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। হুমায়ন আহমেদের শেষ কর্ম হলো এই " ঘেটুপুত্র কমলা” নামক মুভি। মুভির মূল বিষয় সমকামিতা (homosexuality) । ইতোমধ্যেই এটা বেশ আলোচিত - সমালোচিত হয়েছে। ঈদের দিনে প্রচারিত হয়েছিলো টিভিতে , সেই ভার্সন দেখলাম গতকাল। হুমায়ুন আহমেদের কথা - কর্ম নিয়ে কখনো সেভাবে লেখার প্রয়োজন বোধ করি নাই , কিন্তু মুভিটা দেখা হয়ে যাওয়ায় লেখার প্রয়োজন বোধ করছি। কেউ হয়তো দেখেছেন , কেউ হয়তো দেখেন নি , কেউ হয়তো শুধু পত্র - পত্রিকা ক...

বাংলাদেশ এবং ভালোবাসা

এখনকার দিনে কি কেউ আর ছবির অ্যালবাম দেখে ? এমনকি পিসিতেও স্টোর করে বলে মনে হয় না। সব অ্যালবাম তো এখন "ফেসবুক অ্যালবাম" ! বাসায় কতগুলো অ্যালবাম আছে। সবচে' পুরনো অ্যালবামটা হলো ইরানি অ্যালবাম। কী আশ্চর্য ! আব্বু-আম্মু সেখানে আট বছর ছিলো, আমাদের ছ'জনের মাঝে চার ভাই বোনেরই জন্ম হলো সেখানটায়, কিন্তু ছবি মোটে শ' খানেক হবে কিনা সন্দেহ ! অথচ সেখানকার কত প্রভাব আমাদের উপর -- আমরা "সালাম" বলি, "আসসালামু আলাইকুম" বলি না, এবং আরো অনেক কিছু। এই নিয়ে কতবার নানাজীর কাছে শুনতে হয়েছে -- "তোমাদের ইরানি কায়দা...।" বাংলাদেশ যখন কঠিন সময় পার করে, তখন উদ্বিগ্ন হই, কাগজে-কলমে, পত্রিকায় কিংবা কিবোর্ডে চিন্তার ঝড় তুলে ফেলি। আবার যখন আমেরিকার মুখের উপর কঠোর জবাব দিয়ে ইরান প্রযুক্তিতে এগিয়ে যায়, তখন ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা অনুভব করি। ইউটিউবে হঠাৎ-ই ইরানি ঘুমপাড়ানি গান আবিষ্কার করে থ্রিলড হই। সেজাপু-মেজাপুকে ডেকে শুনাই। কিংবা সেজাপু যখন ইরানি মুভি ডাউনলোড করে -- Song of Sparrows -- তখন মুভি না দেখা আমিও মুভি দেখতে বসি। কিন্তু সেই ইরানের শ' খা...

গানেতিহাস - ২

আমার গান শোনার স্মৃতি ছোটবেলা থেকে। তখন বাসায় রেকর্ডার ছিলো। সেটাতে ক্যাসেট লাগালেই বেশ গান শোনা যেতো ! ভাইয়া যা আনতো, তা-ই শোনা হতো। মাঝে মাঝে খালা-মামাদেরটা ধার করে এনে চালানো হতো। আমাদের রেকর্ডারটা বহু পুরনো ছিলো, কিন্তু ভালোই চলতো। আমার চেয়েও বয়স বেশি ছিলো সেটার। গান শোনা হতো মাইলস, এলআরবি, সোলস এবং আরো কিছু ব্যান্ডের গান। নাম মনে আসছে না। হাসান এর গানও শোনা হতো। সে তো এখন মিডিয়া থেকে উধাও। ইংলিশ গানও শোনা হলো সেই ক্যাসেটেই। প্রথম গান ছিলো মাইকেল জ্যাকসনের। এরপর থেকে যে কত গান চলেছে ! আবার আমি যখন ক্লাস 6-7 এ উঠলাম, ততদিনে ঐ রেকর্ডারটা ঘুম দিয়েছে, নিউজ শোনার জন্য একটা জিনিস কেনা হলো, যেটাকে বোধহয় ট্রানজিস্টর বলাই ভালো। সেখানে VOA Music Mix শুনতাম আমি, স্কুলে যাবার আগে। যাক, রেডিওর মাধ্যমে চার্ট টপার অনেক চমৎকার চমৎকার গান শোনা হতো। এখনও হয় নাকি ঐসব অনুষ্ঠান ? কে জানে ! হায়রে এসব কথা ভুলেই গিয়েছি ! এমনভাবে ভুলেছি যেনো জীবনটা মাত্র এই ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ভিডিও সং দেখলাম প্রথম নানাজীর কম্পিউটারে। সেসময় বাংলাদেশেই কম্পিউটার নতুন। টেক-প্রিয় নানার বদৌলতে কম্পিউটারের চ...

You can only connect the dots backwards...

বহুদিন পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হারিয়ে যাওয়া কোনো বন্ধুকে ফেইসবুকে খুঁজে পেলে মনটা লাফ দিয়ে আকাশ ছুঁয়ে আসে। তারপর স্থির হয়ে বসি। একটু প্রোফাইলটা ঘুরে দেখা যাক। মনে মনে বলি -- বাপরে... ও কত বদলে গিয়েছে ! চেনাই যায় না। কিংবা -- আরে এইটা অমুক ! একদম হুজুর হয়ে গেলো কবে ? স্টিভ জবসের বিখ্যাত একটা কোটেশান হলো -- you can only connect the dots backwards. তা বটে ঠিক। একজন সফল ব্যক্তি যখন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে বক্তব্য রাখে, তখন সে সহজভাবে বলতে পারে -- you can only connect..., সে সহজভাবে বলতে পারে -- আমি টিনের ক্যান কুড়িয়ে খাবার যোগাড় করতাম। কিন্তু যে ব্যক্তির ক্যানভাসে এই কষ্টের ডটগুলোর শেষ মাথা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যায় না, কিংবা অনারারি পিএইচডি বয়ে আনে না, সে আর বয়স হবার পর বলতে পারে না -- you can only...

রকমারি - ৪

"নিজের মতো" বলে যে একটা ব্যাপার আছে, সেটা বুঝতেই আমার অনেক সময় লেগেছে। স্বকীয়তাকে চিনেছি আমি অনেক দেরীতে। আমরা ছয় ভাইবোন। প্লাস বাবা-মা -- এই আটজন মানুষ। প্রত্যেকেই "স্বকীয়তায়" ভরপুর। প্রত্যেকেই অপরের থেকে অনেক আলাদা। এর মাঝে ছোটবেলায়ই সেজাপুর তীব্র স্বকীয়তা প্রকাশ পেয়েছিলো। তার-ই বোধকরি সবচে' কমবয়েসে -- আর বাকিদের কথা অতটা মনে নেই, বলতে পারবো না। যীনাত ছোটবেলায় অনেকটা ভ্যাবলাকান্ত টাইপের ছিলো। কিন্তু পরে বুঝলাম যে সে আসলে অভিনয় করতো, ঐসময় বোকা সেজে থেকে আমার সাথে সাথে ঘুরে আমার যত কর্ম-অপকর্ম রেকর্ড করতো, যেনো পরে ব্ল্যাকমেইল করা যায়। এদিকে আমার আবার অনেকটা এয়ারপ্লেনের ব্ল্যাকবক্সের মতো অবস্থা -- পুরনো দিনের কিছু মনে থাকে না। সেই সুযোগে আমার নামে বানোয়াট গল্পও চালিয়ে দেয় সে। বাকি তিনজনও এক-একজন boss, কিন্তু সেকথা বলতে গেলে লেখা বড় হয়ে যাবে অনেক। আমি দেখাদেখি boss হতে চাইতাম ছোটবেলায়। কিন্তু "নকল করা" কাজটা আমাদের পারিবারিক-ঘৃন্য-বিষয়। সুতরাং, স্বকীয়তা তৈরী করতেই হলো -- উপায় ছিলো না আর। নইলে আমি বাকি ভাইবোনদের নকল করেই চাল...

UNTITLED - 9

এক ফ্রেন্ডের স্বপ্নের কথা বলি। স্বপ্নটা এমন -- মনে হয় আমি বাড়ির বারান্দায় বসে থাকবো। হাতে কোনো বই থাকবে। বিকেল বেলা। "ও" বারান্দায় এসে বসবে। বলবে, কী করছো। বলবো, এইতো, কিছু না। তারপর ও বলবে, দাঁড়াও, তোমার জন্য চা বানিয়ে আনি। চা আমার খুব পছন্দ। তারপর ও আমার জন্য চা বানিয়ে আনবে। তারপর... বাকিটুকু বলবো না।  বন্ধুটি যখন তার কল্পনার সংসারের গল্প বলতে থাকে, তখন -- না, আমি নিজের সংসার কল্পনা করি না।  তবে আমি তার কল্পনার প্লট তৈরী করে ফেলি মনে মনে ! উপরের কথাগুলো এক ফ্রেন্ডের, কিন্তু সেগুলো শুনবার সময়ে আমি কল্পনা করলাম গুলশান-২ এর ১০৩ নাম্বার রোডের এক বাড়ির D শেপের খোলা বারান্দাটা। সেখানে একটা দোলনা রাখা -- দু'জন বসা যায়, এমন। ছিমছাম, রডের তৈরী মিনিমালিস্টিক ডিজাইনের দোলনা। সেখানে বসে বন্ধুটি কোনো একটা বাংলা উপন্যাস পড়ছে। পাতলা একটা বই। বিকেল বেলা। যদিও সামনেই ব্যস্ত রোড, কিন্তু আজ সেখানে শব্দ নেই। মৃদুমন্দ বাতাস, যেটাতে গরম লাগে না। তারপর তার "ও" (ওয়াইফ) বারান্দায় এলো। এসে পেছন থেকে "কী করছো" বলে... । তারপর বন্ধুটা একটু হেসে বলবে, এইতো, কিছু ন...

আমি বাড়ি যাচ্ছি...

দুপুর আড়াইটা। পরীক্ষা শেষে ইউনিভার্সিটি থেকে বের হলাম সবাইকে বিদায় জানিয়ে। পরিচিত এক আঙ্কেলের কাছে গেলাম। আঙ্কেল বলেছিলো যে আমি যেদিন বাড়ি যাবো, তার আগে তার কাছে যেতে। সে আমাকে একটা বেল্ট গিফট করলো। বিকাল চারটা। বাসায় আসলাম। বাসা ভাড়ার আমার অংশটুকু অপুকে দিলাম, যেনো দশ তারিখ ও ভাড়া দেওয়ার সময় আমারটাও দিয়ে দেয়। তারপর আমার ব্যাগ গুছালাম। বোনের জন্য কিছু জিনিস কিনেছি ঈদ উপলক্ষে। আমার বার্থডে তে ফ্রেন্ড চকোলেট গিফট করেছিলো, ওখান থেকে আমি অনেকগুলো চকোলেট রেখে দিয়েছিলাম আমার বোনের আর মা-র জন্য -- ওগুলো নিলাম। আমার রুমমেট তার অফিস থেকে অরেঞ্জ ফ্লেভারড টি এনেছিলো আমার জন্য, কারণ আমি চা খুব পছন্দ করি। সেখান থেকে কয়েকটা টি ব্যাগ আমার বোনের জন্য নিলাম। অপু ন্যুডলস রান্না করেছিলো, সেটা বক্সে ভরে ব্যাগে নিলাম। মোবাইল আর ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে রেখেছিলাম, সেগুলো ব্যাগে ভরলাম। ছয়টা বেজে গেলো। ব্যাগ গুছানোর সময় আম্মু একবার ফোন দিয়েছিলো। জানতে চায় আসবো কবে। আমি বলেছি বাড়ি নাও আসতে পারি। আজই আসবো, তবে নানু বাড়ি। তারপর আমার বোনকে ফোন দিলাম। ওর সাথে টুকটাক কথা হলো। আমি এখন বাসে, ...

রকমারি - ৩

জীবনের অনেক সময় অনেক কাজে নষ্ট করেছি। কিন্তু সেজন্যে অনুতাপ করি না। মনে হয় জীবনের অনেকটা সময় বাকি আছে। মনে হয় আরো অনেক কিছু করতে পারবো। রঙিন মুহুর্ত তৈরী করার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করেছি। যখনই সুযোগ পেয়েছি, আর সব ফেলে রেখে সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করেছি। স্মৃতি তৈরী করেছি। ডায়রির পাতা ভরিয়েছি। পরে, এক একটা সময়ে ঐ কাজগুলোকে অর্থহীন মনে হয়েছে; যখন দেখেছি সেই রঙগুলো সাদাকালো হয়ে গিয়েছে ! কিন্তু তবু আমি অনুতাপ করি নি। মনে হয় করবোও না কখনো। কারণ , অন্তত ঐ মুহুর্তের জন্যে হলেও তো সময়গুলো চমৎকার ছিলো ! এটা তো নির্দোষ মদের মত, যে মদে পাপ হয় না। খাবার সময়টা অনেক সুখানুভুতি, কিন্তু আফটার ইফেক্টস সুখের হবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না ! এই নির্দোষ মদে অনেক সময় পার করেছি। আফটার ইফেক্টগুলো যখন চমৎকার হয় নি, তখন ঘড়ির দু' ঘন্টাকে চার ঘন্টা মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, চারটি ঘন্টা শেষ করে ফেলেছি, এবং তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তবে অনুতাপ করি নি। শিক্ষা হয়েছে অনেক। এখন মনে হয় ভালো মদ চিনতে শিখেছি ! নইলে অন্তত "মাত্রা" জানি ! তবু এই নেশা ছাড়তে পারি না। ভাগ্যের শিশুর মত ...

পয়লা রমজান, আমার নতুন বছর

১লা জানুয়ারীতে আমার এক বছর যায় না। আমার এক বছর যায় ১লা রমজানে, রোজার ঈদে আর আমার জন্মদিনে। আজ তেমনি আমার একটা বছর শুরু হচ্ছে। এসময় আমি ডায়রি কিংবা ব্লগ লিখবোই। গত রোজা থেকে এই রোজায় অনেক পার্থক্য। একটা সময় ছিলো, যখন এত দ্রুত সবকিছুর পরিবর্তন হতো না। কিন্তু তখন লিখবার প্রবল আগ্রহের কারণে পাতার পর পাতা ডায়রি লিখে যেতাম। এখন, যখন লিখবার এত্তকিছু আমার হাতে, তখন কেনো যে শিরোমানহীনের গান শুনতে শুনতে লেখার হাত অসাড় হয়ে আসে ! ভাড়া থাকা জীবন। সাড়ে ষোল বছর একই বাসায় থাকবার পর নতুন বাসায় এলাম। ভালো হোক, মন্দ হোক -- ওটাই ছিলো "আমাদের" বাসা। ওখানেই আমি আমার স্মৃতিগুলো তৈরী করেছি, আমার শৈশব-কৈশোর, আমার ছেলেবেলা -- সবতো ওখানেই ! এই নতুন বাসায় এসে এমন একটা অনুভুতি হয় যে এই বাসা "আমাদের" নয়, এটা ছেড়ে দিতে হবে একসময়। যদিও আগের বাসাটাও নিজেদের ছিলো না, কিন্তু সেখানে এমন অনুভুতি হতো না। তখন ছোট ছিলাম যে ‍!

প্রথম আলো, বিশ্বাস-অবিশ্বাস আর তথ্য-প্রমাণের দৌড়

ফেইসবুকে বন্যার পানির মত ভেসে যাওয়া শত শত পোস্টের মাঝে একটা পোস্টে চোখ আটকে গেলো। ফেইসবুকে নয়া দিগন্তের  পেইজ একটা লেখা শেয়ার দিয়েছে, সেটা আবার শেয়ার করেছে যীনাত। আমি নয়া দিগন্ত পত্রিকায় খুঁজে নিউজটা পেলাম না। যাহোক, পোস্টের শিরোনাম : " চট্টগ্রামের ফয়'স লেকে মাদক বিরোধী কনসার্টের নামে অশ্লীলতা ছড়ানো অভিযোগ   " পোস্টে কোনো পত্রিকার লিঙ্ক দেয়া হয় নি, এবং কোনো তারিখ উল্লেখ ছাড়াই একটা ছবির সাথে যা যা লেখা হয়েছে, তার মূল কথা এই : "প্রথম আলো, কনকর্ড, বাংলালিঙ্ক এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম ফয়'স লেকে আয়োজিত মাদক-বিরোধী কনসার্টে অশ্লীলতার চর্চা হয়েছে -- তরুণ-তরুণীরা একত্রে পানিতে নেমে উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে।" আমি সাধারণত এজাতীয় জিনিস ইগনোর করে যাই, তবে যে জিনিসটা আমাকে এই ব্লগ লিখতে এবং একঘন্টা গুগল সার্চে ব্যয় করতে বাধ্য করলো তা এই (স্ক্রিনশট) :

HP ProBook 4430s

২০ জুন ল্যাপটপ কিনলাম। ভেবেছিলাম খুব কম সময়ে কাজ সেরে বেরিয়ে আসবো। কিন্তু তা হয় নি। আমি যে মডেলটা চেয়েছি, ঠিক আগেরদিন সেটার লাস্ট পিস বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নিচতলা থেকে চারতলা খুঁজেও পেলাম না। একটা পাওয়া যেতো, কিন্তু কনফিগারেশানে ছাড় দিতে হতো। দামেও কম হতো। কিন্তু কনফিগারেশানে কিছুতেই ছাড় দেয়া যাবে না। শেষমেষ Superior Electronics নামের এক দোকানে তারা বললো, এনে দেয়া যাবে, কিন্তু সময় লাগবে। BCS Computer City তে নতুন এক চালান এলো, তার মাঝে এই ProBook 4430s একটা ছিলো। এই জিনিস পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হলো প্রায় তিন ঘন্টা। সবই মিললো, শুধু স্ক্রিন সাইজ মিললো না। তাতে কী -- এই 14"-ই খারাপ কি বা ! মিডটার্ম পরীক্ষা চলে এসেছে, এখন দুই ঘন্টাও অনেক সময়। যাহোক, "জিনিসটা" নিয়ে বাসায় এলাম আমি আর মেজাপু। ProBook 4430s এবং Logitech M185

বন্ধু - বন্ধুত্ব - জন্মদিন

ডিসট্র্যাকটেড মানুষের সাথে কথা বলা কঠিন। অনেকটা কথা বলার পর দেখা যায়, আমার কথা সে কিছুই খেয়াল করে নাই। তখন রাগ হয়। আর যে মানুষের সাথে রাগ করা যায় না, তার ক্ষেত্রে হয় কষ্ট। কিন্তু কিছু করার থাকে না। *                                        *                                        *                                        * ব্লগ লেখার সময় হঠাৎ করে উঠে যেতে হলে কিংবা কারেন্ট চলে গেলে পরে আবার বসলে সেই আগের মুড আর থাকে না। ভালোলাগার মুডে যখন-তখন যাওয়া যায় না, কিন্তু দুঃখ-বিষাদকে যেকোনো পরিস্থিতিেত মনের ভিতর থেকে টেনে বের করা যায়। যাহোক, আমি মনে হয় না দুঃখ-বিষাদের গল্প লিখব এখন। *                             ...

UNTITLED-8

বেশ ক'দিন হলো ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিচ্ছি। ক'দিন মানে মোটামুটিভাবে এই সিমেস্টারের শুরু থেকে। এতে আমার বেশ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। একটা ক্লাস শেষে পরবর্তী ক্লাস কিভাবে নিলে আরও ইফেক্টিভ হবে, তা চিন্তা করেছি। প্রশ্ন / নোট তৈরীর সময় স্টুডেন্ট সাইকোলজি নিয়েও একটু ভেবেছি। শিক্ষকতার মাঝে আনন্দ আছে। কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং দুনিয়ায় সত্যিকারের কাজ না করলে যেনো কিছুই করা হয় না -- এমন ধারণা অনেকের। আমারও অনুভুতি অনেকটা তেমনই। কিন্তু মানুষকে পড়ানোর মাঝেও অনেক আনন্দ ! খুব ভালোভাবে কাউকে কিছু বুঝাতে পারলে ভালোই লাগে ! আমাদের স্কুল অব সায়েন্সের ডিন একরাম স্যার অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি। পরীক্ষার খাতা দেখে উনি এভাবে বলে দিতে পারেন -- অমুকের খাতা দেখেছে অমুক, আর তারটা থেকে দেখেছে এ। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা মানুষের সাইকোলজি বোঝেন সহজে। নিতান্তই অ-ভালো ছাত্র ছাড়া আর সবারই হয়তো এমন অভিজ্ঞতা আছে যে টিচার সারাটা ক্লাস তার দিকে তাকিয়েই পড়া বুঝিয়েছে। এমন হলে একটু অস্বস্তি লাগে। Integral Calculus ক্লাসটা ছাড়া মোটামুটি অন্যান্য ক্লাসে স্যার আমার দিকে তাকিয়ে পড়া বুঝান প্রায়...

UNTITLED-7

সব সাংবাদিকই কি এভাবে গান গায় ? যেমনটা আব্বু গায় -- "হুঁহু হুঁহু হুঁ.... উহু হু... হু হু হু... মমম.. হম... হুম... হু..." সেজাপু বলে, সাংবাদিকেরা সবাই নাকি এভাবেই গান গায়। অবশ্য আমাদের তেমন একটা সাংবাদিক দেখা হয় না -- আমরা প্রায় আলাদা একটা দুনিয়ায় বাস করি। তবে খেয়াল করেছি, আরিফ ভাইয়াও এভাবে গান গায়। (হঠাৎ মনে পড়লো, বিয়ের আগে আরিফ ভাইয়া যখন শুধু আমাদের বাসায় আসত আর আমরা তাকে সত্ত্বর বিয়ে দেওয়ার পক্ষে বাসায় ওকালতি করতাম, তখন সে শুধু তার ল্যাপটপ বের করে "আমি তোমার মনের ভিতর" গানটা বাজাত !) আমি গান গাইতে পারি না।