সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

HP ProBook 4430s

২০ জুন ল্যাপটপ কিনলাম। ভেবেছিলাম খুব কম সময়ে কাজ সেরে বেরিয়ে আসবো। কিন্তু তা হয় নি। আমি যে মডেলটা চেয়েছি, ঠিক আগেরদিন সেটার লাস্ট পিস বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নিচতলা থেকে চারতলা খুঁজেও পেলাম না। একটা পাওয়া যেতো, কিন্তু কনফিগারেশানে ছাড় দিতে হতো। দামেও কম হতো। কিন্তু কনফিগারেশানে কিছুতেই ছাড় দেয়া যাবে না। শেষমেষ Superior Electronics নামের এক দোকানে তারা বললো, এনে দেয়া যাবে, কিন্তু সময় লাগবে। BCS Computer City তে নতুন এক চালান এলো, তার মাঝে এই ProBook 4430s একটা ছিলো। এই জিনিস পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হলো প্রায় তিন ঘন্টা। সবই মিললো, শুধু স্ক্রিন সাইজ মিললো না। তাতে কী -- এই 14"-ই খারাপ কি বা !

মিডটার্ম পরীক্ষা চলে এসেছে, এখন দুই ঘন্টাও অনেক সময়। যাহোক, "জিনিসটা" নিয়ে বাসায় এলাম আমি আর মেজাপু।


ProBook 4430s এবং Logitech M185
উবুন্টু সেটাপ হতে ঠিক পাঁচ মিনিট সময় নিলো। ব্যস, ঝামেলা শেষ। কাজের সফটওয়্যারগুলোর লিস্ট আগেই করা ছিলো, সেগুলো setup queue এ দিয়ে দিলাম। দু-ঘন্টা পর এসে দেখি পুরো পিসি আপডেটেড।

( কনফিগারেশান )
HP ProBook 4430s :
Processor : intel CORE i5
HDD : 500 GB
RAM : 4 GB
Screen : 14"
Speaker : SRS Premium Sound
Security Feature : Finger Print recognition
এছাড়া ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, ইউএসবি, কার্ড রিডার -- ইত্যাদি তো সব নোটবুকেই থাকে।

যারা উইন্ডোজ ব্যবহার করেন, তারা এটাতে খুবই আরাম পাবেন। কোনো ঝামেলা ছাড়াই সবকিছু ঠিকঠাক চলবে। উবুন্টু ব্যবহার করতে গিয়ে আমি প্রবলেম পেলাম মাইক্রোফোনে। ইন্টারনাল মাইক্রোফোন (স্টেরিও) কাজ করছে না। সলিউশন একটা আছে, এখনও সেটা হাতে পাই নি। আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকগনাইজ করে না। এছাড়া আর সবই ঠিকঠাক চলছে। আর যারা উবুন্টু ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয় সলিউশন খুঁজে পাবেন, সুতরাং এটা কোনো সমস্যা না।


[edit :
solution to "Unknown Graphics Card" problem : sudo apt-get install mesa-utils
Solution to internal mic problem : sudo apt-get install ffmpeg libavcodec-extra-53
actually, the problem is not specific to ProBook 4430s, rather it is a problem of Ubuntu 12.04]

ও, ভালো কথা, দাম পড়লো ৫৫,০০০। আর তেমন টাকা ছিলো না, সুতরাং বিশাল লিস্টের কিছুই কেনা হলো না, কিছু CAT-5 কেবল, একটা নেটওয়ার্কিং সুইচ আর একটা মাউস ছাড়া।
প্রোবুক যারাই ব্যবহার করেছেন বা দেখেছেন, তারা নিশ্চয় বলবেন যে এর চেয়ে সুন্দর নোটবুক আর হয় না। looks এর ক্ষেত্রে ম্যাকবুকের চেয়ে কোন অংশে কম না, বরং আমার কাছে বেশিই মনে হয়।

Aluminium body
সে যাক, সৌন্দর্য দিয়ে লাভ নাই। গরম তেমন হয় না, এটা খুবই সুবিধাজনক একটা ব্যাপার। টাচপ্যাডের বাম পাশেই যা একটু গরম হয়, তাও খুব কম। আর পুরো ল্যাপটপই একদম ঠান্ডা।

ল্যাপটপ নিয়ে আমি মোটেও এক্সাইটেড নই। মেজাপু আর আমি একসাথে কাজ করতে করতে মেজাপু যখন জিজ্ঞাসা করলো -- "তোমার অনুভুতি কী ?", আমি বললাম -- "অনুভৃুতির আর কী ! সারা জীবনই এখানে ওখানে OS setup করলাম, সফটওয়্যার সেটাপ করলাম, আবার এখনও করছি। বিশেষ কোনো পার্থক্য নাই !"

তবে যে জিনিসটাতে আমি আরাম বোধ করছি, তা হলো লজিটেক এর ওয়্যারলেস মাউস।

লজিটেক এর ওয়্যারলেস মাউস M185
৩০০ টাকায় যেখানে মাউস পাওয়া যায়, সেখােন ওয়্যারলেস এর জন্য চারগুন খরচ করলাম। হয়তো আরো কমে ওয়্যারলেস মাউস পেতাম, কিন্তু লজিটেক হতো না সেটা, আর 3 years warranty পেতাম না।

মাউসের ব্লুটুথ রিসিভারটা খুবই ছোটো, ল্যাপটপ থেকে খুলতে হয় না। ব্যাটারি ব্যাকআপ এক বছর। আর অন-অফ সুইচের সদ্ব্যবহার করলে আরো বেশিদিন ব্যাটারি টিকতে পারে।
মাউসটা প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে, আর ব্যবহারে মনেই হয় না যে ওয়্যারলেস। খুবই smooth কাজ করে।

আর এতদিন ডেস্কটপকে সার্ভার বানিয়ে রেখেছিলাম। এবার হোম নেটওয়ার্কিং করে ফেললাম।

কিউবি গিগাসেট মোডেমের সাথে প্যাকিং টেপ দিয়ে সুইচ লাগিয়ে দিলাম।
ডেল এর মেশিনে উবুন্টু খুব ভালো চলে। এইচপিতেও চলে, তবে শতভাগ সন্তুষ্ট হওয়া যায় না। তবে আমার কাজ চলবে। খুব চলবে। LAMP সার্ভার সেটআপ করা, কয়েকটা IDE চালানো -- আপাতত এটুকুই। আর কিছু ফোটো এডিটিং হয়তো। সেজন্যে এই কনফিগারেশানের মেশিনই যথেষ্ট।

*                                    *                                    *                                    *                                    *
আমি সাধারণত রিভিউ লিখি না। এই প্রথম মনে হয় লিখলাম, তাই একটু অগোছালো। অবশ্য ইচ্ছে করেই প্রফেশনাল রিভিউয়ের মত করে লিখি নি, তাতে ব্লগ-ব্লগ ভাবটা থাকে না।
আরো একটু বলি -- স্কাইপ-এ ভিডিও অন দেবার প্রায় মিনিট খানেক পর ভিডিও চালু হয়। তবে ওয়েবক্যামের কোয়ালিটি ভালো, ছবি পরিষ্কার আসে।

কেউ এখান থেকে পরামর্শ নেবেন কিনা জানি না, তবে বলি -- যা-ই কেনেন ভাই, ওয়ারেন্টি বেশি দেখে কিনবেন। মাউস-কিবোর্ড-হেডফোন-স্পিকার-সাউন্ড সিস্টেম -- এগুলোতে লজিটেকের জুড়ি নেই। ওয়ারেন্টিও বেশিরভাগ প্রডাক্টে তিন বছর। দাম হয়তো একটু বেশি, কিন্তু জিনিস ব্যবহারে যে স্যাটিসফ্যাকশান পাবেন, তাতে মনে করবেন যে টাকা খরচ সার্থক হয়েছে। অডিও ডিভাইসের ক্ষেত্রে অবশ্য ক্রিয়েটিভের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে, তবে অন্যান্য জিনিসে আমি লজিটেককে খুব ভালো পেয়েছি।

ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে পরামর্শ শোনা ভালো, তবে কি, এক এক মেশিন এক এক রকম হয়। একই মডেল বাংলাদেশে যেগুলো আসে আর লন্ডনে যেগুলো যায়, তার মাঝে কোয়ালিটিতে তফাৎ থাকে। ল্যাপটপের ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার হলো, একহাতে চালানো উচিত, আর যত্নে রাখা উচিত। তাহলেই আর সমস্যা করে না।

সর্বোপরি ভালো অপারেটিং সিস্টেম (উবুন্টুর প্রচারণা :D) চালান, নিশ্চিন্ত থাকুন। আর আমার উবুন্টু ডেস্কটপের ছবি দেখুন -- কী সুন্দর !
With Ubuntu's intelligent browsing system, you don't have to put files in desktop anymore.



নূরে আলম
জুন ২৩, ২০১২।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…