সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জাফর ইকবাল : একজন স্বাধীন লেখক



আজকের প্রথম আলোতে জাফর ইকবাল সাহেবের একটি সাদাসিধে কথা প্রকাশিত হয়েছে : “বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। আবেগী কথাবার্তা আর "স্যার-স্যার” সম্বোধনের আড়ম্বর বাদ দিয়ে মুল কথাটা বলে যাই।

গত ৭ ডিসেম্বর ও আজকে, ২০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে জাফর ইকবালের দুটি লেখা। শিরোনাম যথাক্রমে "তোমরা যারা শিবির করো” এবং “বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। তার আজকের লেখার শিরোনামটা চমৎকার, তবে তার লেখনীতে আমরা এমন শিরোনাম দেখি না :
"মুজাহিদের সাদা টুপি" (১৭ বছর বয়সী শিবির কর্মী, যাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে)
"নাম-না-জানা ছেলের নীল শার্ট" (৪ ডিসেম্বরে মিরপুরের কালশীতে রাস্তায় ফেলে যেই শিবিরকর্মীকে লীগের ছেলেরা পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলো)
নাম-না-জানা বৃদ্ধের স্বজনদের কান্না” (বিশ্বজিত হত্যার একই দিনে, ৯ ডিসেম্বরে যেই বৃদ্ধ জামাত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিলো)
২৮শে অক্টোবরের দুঃসহ স্মৃতি (২৮শে অক্টোবর, ২০০৬ এ লীগের ছেলেরা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে ৫ জন শিবির কর্মীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশের উপর নেচেছিলো)
কিংবা আরো অনেক শিরোনাম – এগুলো আমরা জাফর ইকবালের লেখনীতে দেখি না। স্বাভাবিক – জাফর ইকবালের কী দায় পড়েছে বাংলাদেশের প্রতিটা অনাচার নিয়ে লেখার ? আর আমিই বা সেকথা বলবার কে ?

শিবির-ছাত্রী সংস্থা-জামায়াতে ইসলামীর লোকজনের উপর মানবতাবিরোধী অপরাধ (অন্তঃসত্তাসহ ২০ জন ছাত্রী সংস্থার সদস্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচারের সাম্প্রতিক ঘটনাসহ) করা হলেও সেগুলো জাফর ইকবালের চোখে পড়ে না, কখনো পড়বেও না। আর বাংলাদেশের প্রতিটা অনাচার নিয়ে লেখার দায়িত্বও জাফর ইকবালের না। তবে ৪ ডিসেম্বরের ঘটনাটা আমাদের মিডিয়া প্রায় চাপা দিয়ে দিলেও সেটাকে আরো চাপা দেয়ার জন্য উল্টা শিবিরের স্বরূপ উন্মোচন করে (!) দুইদিন পর "সাদাসিধে কথা” লেখার মানবিক দায়িত্ববোধ (!) আছে তার। আমি দেখলাম অনলাইনে মানুষ তার সেই লেখার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু দুই দিন আগে ঘটে যাওয়া বর্বরতা নিয়ে কেউ কথা বলছে না ! ঘটনাটিকে বেমালুম গিলে ফেললো আমাদের মিডিয়া ! সেদিন টিভিতে ঐ দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিলাম, এবং কিছু মানুষের উদ্দেশ্যে আমার ব্যক্তিগত ব্লগে "মেসেজ” লিখেছিলাম। সেই মানুষদের মাঝে এই জাফর ইকবালরাও পড়ে।

যাহোক, "তোমরা যারা শিবির করো" এর বিপরীতে "তোমরা যারা লীগ করো” এমন লেখা কেনো জাফর ইকবাল লিখছেন না – নিন্দুকের এই সমালোচনার মুখে ছাই দিয়ে জাফর ইকবাল লিখে ফেললেন : “বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। (তবে এর মাঝেও যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গ টানতে ভুললেন না, কারণ যুদ্ধাপরাধের বিচার তো আল্লাহ-বিসমিল্লাহর মতো করে সব কাজের শুরুতে ও শেষে বলা তাদের দায়িত্ব !)

জাফর ইকবালের মতে : "আমাদের খুব সৌভাগ্য, আমাদের সংবাদমাধ্যম যথেষ্ট স্বাধীন এবং এবার আমরা দেখেছি, বিশ্বজিৎকে হত্যা করে সত্যিকারের অপরাধীরা যেন পার না পেয়ে যায়, সেটি এই সংবাদপত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।"

৪ ডিসেম্বরের ঘটনাকে মিডিয়া প্রায় গিলে ফেললো, জাফর ইকবাল উল্টো শিবিরের সমালোচনার জন্য মুখরোচক লেখা লিখলেন দুইদিন পর, এবং সেই ঘটনা সত্যিই হারিয়ে গেলো, ৯ ডিসেম্বরের হতভাগা বৃদ্ধের কথা কেউ জানলো না, সবাই বিশ্বজিতকে নিয়ে টকশো পর্যন্ত করে যেতে লাগলো – হ্যাঁ, আমাদের মিডিয়া তো স্বাধীনই – তবে কিনা, একপক্ষের কথাই তারা বলে, পরাধীনতার প্রশ্নই আসে না !
আর হ্যাঁ, এই কথা এমন সময়ে তিনি বললেন, যখন –
. গুম হবার আশঙ্কায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এক সপ্তাহ যাবৎ পত্রিকা অফিসে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নিজেকে।
. নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে।
. সরকার নিয়ন্ত্রিত বিচার বিভাগের নির্দেশে বিচারপতির স্কাইপ সংলাপ সংক্রান্ত যেকোনো কথাবার্তা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
. লন্ডনের দি ইকোনমিস্ট সাময়িকীর ৭ হাজার কপি বিমানবন্দের খালাস হবার সময়ে বাংলাদেশ সরকার সমস্ত কপি আটক করেছে তিনদিন আগে।
. সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কথা একপাক্ষিক মিডিয়ার কল্যাণে (!) জনগণ প্রায় ভুলতে বসেছে।
. সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ৪৯ টি মামলায় দশ মাস অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা, তাঁর পত্রিকাটিকে অবৈধভাবে বন্ধ করে দেয়া – ইত্যাদি ঘটনাও একপাক্ষিক মিডিয়ার কল্যানে মানুষ ভুলতে বসেছে।

এবং আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে। হ্যাঁ, এমন সময়েই জাফর ইকবাল তার ভক্তদের শিখিয়ে দিলেন : “আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো যথেষ্ট স্বাধীন”। হায়রে মিথ্যাচার !

হ্যাঁ, স্বাধীন-ই তো বটে ! "আমার দেশের" মতো দু-একটা কণ্ঠ ছাড়া আর সবাই-ই তো "যা-ইচ্ছা-তাই" করে, সরকার তাদের সেই সুযোগ দিয়ে রেখেছে। সুতরাং তারা বিবেকের দংশন থেকেও স্বাধীনতা লাভ করেছে। বিবেক নামক স্বৈরশাসক থেকে আমাদের মিডিয়া মুক্ত – সুতরাং তারা যা খুশি লিখতে পারে !
সুতরাং ছোটগল্পকার বাংলানিউজ২৪.কম লিখতে পারে যে বিশ্বজিতকে হত্যা করেছে ছাত্রদলের ছেলেরা।
তারা লিখতে পারে যে বিশ্বজিত অবরোধবিরোধী মিছিলে অংশ নিয়েছিলো লীগের ছেলেদের সাথে।
সুতরাং সংবাদ বদলে দেয়া প্রথম আলো লিখতেই পারে যে "ছাত্রদল সন্দেহে বিশ্বজিতকে কুপিয়েছে ছাত্রলীগ”, আবার পরক্ষণেই সেই নিউজ মুছে দিতে পারে।
"ছাত্রলীগের সন্দেহ-রোষে প্রাণ গেলো পথচারীর” শিরোনাম বদলে নতুন সংবাদ লিখতে পারে : “অবরোধে চাপাতির কোপে যুবক নিহত, ছাত্রলীগকে সন্দেহ” এবং নিউজের তৃতীয় ভার্সনও বের করতে পারে : “ছাত্রলীগের রোষে প্রাণ গেলো পথচারী বিশ্বজিতের”। হ্যাঁ, প্রথম আলোর কাছে তো সত্যেরও বিভিন্ন ভার্সন থাকে। (অবাক হই, এতকিছু দেখেও মানুষ প্রথম আলো পড়ে, প্রথম আলোর নিউজ বিশ্বাস করে, আর প্রথম আলোতে লেখে !)

৪ ডিসেম্বরের ঘটনার মাত্র দুইদিন পর জাফর ইকবাল উল্টা শিবিরের সমালোচনার জন্য ভক্তদের মুখে চানাচুর টাইপ লেখা তুলে দিয়েছেন। আর ৯ ডিসেম্বরে বিশ্বজিত হত্যার পর "কিছু একটা" লিখতেও তার দশদিন সময় লাগলো। আর সেই লেখাতেও ঐ হতভাগা বৃদ্ধের কথা থাকলো না, থাকলো কেবল বিশ্বজিতের কথা।

এই লেখা যখন জাফর ইকবাল লিখলেন, তখন বিশ্বজিত হত্যার দশ দিন পার হয়ে গিয়েছে।
সবাই বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের নাম-ধাম-পদবী-শিক্ষাগত যোগ্যতা, সবই জানে। এমনকি সেই শাকিলের বক্তব্যও মানুষ শুনেছে এই দশদিনে। শাকিলের বাবার স্ট্রোকের খবরও সবাই-ই জানে। জাফর ইকবালের হাতে কিন্তু অনেক তথ্য ! কিন্তু তিনি সেসবের কিছুই লেখেন নাই। তিনি লেখেন নাই যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য প্ররোচনা ছিলো হত্যাকাণ্ডের পিছনে এবং শাকিল এই বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে : "বিশ্বজিতকে শিবির মনে করে কুপিয়েছি"। এই কথা নীতিবান-হৃদয়বান (!) জাফর ইকবালের লেখা উচিত ছিলো, এবং তার নিজস্ব ঢঙে লেখা উচিত ছিলো : “আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, শিবির হলেই কি তাকে কুপিয়ে মারতে হবে ? এই ন্যুনতম নীতিবোধটুকু কি তাদের নেই ?”

আরে ধুর, এসব কী বলছি। দেশের প্রতিটি অনাচার নিয়ে লেখা কি জাফর ইকবালের দায়িত্ব নাকি ? আর তিনি কি আমার কথা অনুযায়ী লিখবেন ? আমি পেয়েছিটা কী যে যখন-খুশি যেভাবে-খুশি জাফর ইকবালের সমালোচনা করবো ? বরং এখন জাফর-ভক্তদের উচিত তানভির আরজেলের মত করে আমারও হাত-পা ভেঙে দেয়া, যেনো আর কোনোদিন জাফর ইকবালের সমালোচনা করতে না পারি। ( ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র তানভির আহমদ আরজেল সাত ডিসেম্বরে জাফর ইকবালের সমালোচনাসহ হেদায়াত প্রার্থনা করে একটা নোট লিখেছিলেন, যেটা প্রায় আড়াই হাজারবার শেয়ার হয়েছিলো এবং সাড়ে তিন হাজার লাইক পেয়েছে এ পর্যন্ত। একদিন বাদে তাকে মেরে রক্তাক্ত করে হসপিটালাইজড করা হয়)

জাফর ইকবালের মনে প্রশ্ন : দেশের সব মানুষের মতো আমার মনেও অনেক প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে, খবরের কাগজ, টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান আর সাংবাদিকেরা শুধু ছবি তুলেই তাদের দায়িত্ব পালন না করে বিশ্বজিৎকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি কেন?

আমি বারবার বলছি : একই প্রশ্ন জাফর ইকবাল কেনো করলেন না ৪ ডিসেম্বরের ঘটনায় ? সেখানেও তো পুলিশি প্রহরায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো। একই প্রশ্ন জাফর ইকবাল কেনো করলেন না ২৮শে অক্টোবর, ২০০৬ এর ঘটনায়, যেখানে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো, মানবতার বিরুদ্ধ জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো ? তখন জাফর ইকবালের কলম উঠবে না হাতে, কারণ উনার কলম কেবল ইসলামপন্থীদের বিরোধীতা করতেই হাতে ওঠে, হাতে ওঠে কেবল বোরকা-হিজাবের বিরোধীতা করতেই। হ্যাঁ, জাফর ইকবালও মিডিয়ার অংশ, এবং তিনি যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করছেন। কারণ গোটা মিডিয়াটাই তাদের, এবং একপেশে লেখা লিখে ভক্তদের একচোখ কানা করে রাখার অধিকারও তাদেরই। সত্যবাদীদের কোনো স্থানই তো জাফর ইকবালদের মিডিয়াতে নেই, সুতরাং স্বাধীনতা তো ভোগ করবেই ! তাদের তো স্বাধীনতা আছেই, বরং বেশি আছে – যা ইচ্ছা তাই করার স্বাধীনতা আছে। আর স্বাধীনতা নেই আমার মত সাধারণ মানুষদের, যারা বিডিনিউজ২৪.কম কিংবা প্রথম আলোর আর্টিকেলে কমেন্ট করলে তার আংশিক ছাপানো হয় কিংবা গোটা কমেন্টটাই গুম করে দেয়া হয়। স্বাধীনতা নেই "আমার দেশ”, মাহমুদুর রহমানের মত অল্প কিছু সত্যাশ্রয়ী প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের, যারা সত্য প্রকাশের কারণে অত্যাচারিত হয়, বিচার বিভাগ যাদের বাক স্বাধীনতা হরণ করে।

জাফর ইকবালের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন : টিভি না দেখা মানুষ হিসেবে আপনি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলেন, আপনার বাসায় টিভি নেই বলে দেশের প্রকৃত অবস্থা আপনার জানতে হয় না। কিন্তু শিবিরের ছেলেরা পুলিশকে পিটিয়েছে, তা আপনি দেখেন কিভাবে ? আর শিবিরকর্মীকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে, তা আপনার অদেখা থাকে কিভাবে ? ৯ ডিসেম্বরে বিশ্বজিতকে হত্যা করা হলো। টিভি থেকে পালিয়ে থাকলেও আপনি এই খবর থেকে পালাতে পারেন নাই। তাহলে একইদিনে যে বৃদ্ধকে হত্যা করা হলো, সেই বৃদ্ধের খবর আপনার অজানা থাকলো কেনো ? ওহ হো, আপনি তো সেই সত্যবাদী পত্রিকা পড়েন, যার নাম প্রথম আলো, যে সংবাদ বদলে দেয়, যে ঐ হতভাগা বৃদ্ধের খবর সিম্পলি গুম করে দেয়। হ্যাঁ, আপনাদের মিডিয়া তো সম্পূর্ণ স্বাধীন, বরং অতিমাত্রায় স্বাধীন – স্বেচ্ছাচারী।

তোমরা যারা ছাত্রলীগ করো” এমন শিরোনাম আপনার লেখায় কোনোদিন আসবে না, যদিও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড গত চার বছর ধরে মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। বিশ্বজিতের হত্যাকারী হিসেবে ছাত্রলীগ, এবং সেই সূত্রে গোটা ছাত্রলীগেরই সমালোচনা আপনি করবেন না, বরং ফোকাস অন্যদিকে সরিয়ে মিডিয়াকর্মীদের সমালোচনা করবেন যে তারা কেনো বিশ্বজিতকে বাঁচালো না। আর অন্যদিকে শিবিরকে কেউ কোপাকুপি করতে না দেখলেও আপনি শিবিরকে "আশ্চর্য চিড়িয়া” হিসেবে উপস্থাপন করবনে, এবং অদেখা অজানা অনেক পাপ-ই তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবেন !

আপনার লেখার এবং আপনার কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে সেটা একটা আস্ত বই হয়ে যাবে। আর দু-একটা কথা বলে লেখাটা শেষ করবো।
বিশ্বজিতকে নিয়ে লেখা আপনার আর্টিকেলে আপনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা লিখলেন। আর একথাও গর্ব করে লিখলেন যে এক ছেলের মাঝে পিতা-মাতার প্রতি ঘৃণা তৈরীতে কিভাবে আপনি সফল হয়েছেন আপনার লেখনীর দ্বারা। (যদিও ঘটনা সত্য কিনা জানি না, এবং মিথ্যা বলতে আপনার কোনো অসুবিধা হয় না।)

সারাজীবন আপনি ইসলামের বিরোধীতা করেছেন, এই প্রথম আলোতেই হিজাবের বিরোধীতা করে গত বছরের শেষাশেষি একটা লেখাও লিখেছিলেন। আর এখন যখন লোকে আপনাকে নাস্তিক বলে নিন্দা করছে, তখন আপনি আপনার অন্ধ ভক্তদের জন্য যুক্তির অস্ত্র তুলে দিলেন আপনাকে রক্ষা করার জন্য : আর্টিকেলে কোরআনের আয়াত উল্লেখ করলেন। কিন্তু তা দিয়ে কি আপনার সারাজীবনের ইসলামবিরোধী কর্ম ঢাকতে পারবেন ? মৃত্যুর পরেও তো ইসলামের বিরুদ্ধে আপনার কাজগুলো আপনার জন্য ঐ দুনিয়ায় "উপহার" পাঠাতে থাকবে।

মি মনে করি, আপনি নাস্তিক নন।
আপনার অন্তর ঠিকই আল্লাহর অস্তিত্বকে অনুভব করে, এবং আপনি নিশ্চিতভাবেই জানেন যে ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। তবে আপনি মুসলমানও নন। কারণ আপনি আল্লাহর কাছে, ইসলামের কাছে আত্মসমর্পন করেন নি, আপনি বরং আল্লাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও গোপন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আপনি আত্মসমর্পন করেছেন শয়তানের কাছে। আপনি জেনে শুনে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অসংখ্য কম-বয়েসী ছেলেমেয়েকে আপনি সত্য থেকে পথচ্যুত করেছেন।

আমি তথাকথিত সুশীল ভাষা পছন্দ করি না। আমি মিষ্টি করে লিখবো না : “স্যার, আপনিতো ২৮শে অক্টোবর নিয়ে কিছু লিখলেন না !” আমি মনে করি এই ভূখণ্ডে ইসলামের ক্রান্তিকালে আপনার মত ইসলামবিরোধীদের বিপরীতে আমাদের বক্তব্য শক্ত হতে হবে। এজন্যে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, যেভাবে আমি বলি অন্যান্য ইসলামবিরোধীদের বিপরীতে।

আপনিতো প্রথম আলোর মতই জেনে-শুনে সত্যকে গোপন করেন।
প্রথম আলোর মতই সত্যকে বদলে দেন।
এবং জেনে-শুনে সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করেন।

আপনি একজন মুনাফিক। আপনার প্রতি আমার কোনো শ্রদ্ধা তো নেই-, আমি আপনার হেদায়াতের জন্য প্রার্থনাও করি না। আপনি এই দেশে ইসলামের যে ক্ষতিসাধন করেছেন, তার জন্য আমি আল্লাহর কাছে আপনার বিচার প্রার্থনা করি, আপনার শাস্তি প্রার্থনা করি। আপনার তো বয়স হয়েছে, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করুন। আর অপেক্ষা করুন তার জন্য, যা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

নূরে আলম
ডিসেম্বর ২০, ২০১২।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…