সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

You can only connect the dots backwards...

বহুদিন পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হারিয়ে যাওয়া কোনো বন্ধুকে ফেইসবুকে খুঁজে পেলে মনটা লাফ দিয়ে আকাশ ছুঁয়ে আসে। তারপর স্থির হয়ে বসি।
একটু প্রোফাইলটা ঘুরে দেখা যাক। মনে মনে বলি -- বাপরে... ও কত বদলে গিয়েছে ! চেনাই যায় না। কিংবা -- আরে এইটা অমুক ! একদম হুজুর হয়ে গেলো কবে ?

স্টিভ জবসের বিখ্যাত একটা কোটেশান হলো -- you can only connect the dots backwards. তা বটে ঠিক। একজন সফল ব্যক্তি যখন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে বক্তব্য রাখে, তখন সে সহজভাবে বলতে পারে -- you can only connect..., সে সহজভাবে বলতে পারে -- আমি টিনের ক্যান কুড়িয়ে খাবার যোগাড় করতাম।
কিন্তু যে ব্যক্তির ক্যানভাসে এই কষ্টের ডটগুলোর শেষ মাথা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যায় না, কিংবা অনারারি পিএইচডি বয়ে আনে না, সে আর বয়স হবার পর বলতে পারে না -- you can only...

যাহোক, কী বলতে কী বলছি। তো, একটা সাদা ক্যানভাসে অনেকগুলো কালির ফোঁটা ফেললে একটা পথ তৈরী হয়ে যায়। এই পথের একটা অংশে কেউ কেউ স্কুলের সাথী ছিলো। সেই কয়েকটা বছরে আমাদের ডটগুলো ওভারল্যাপ করেছে। তারপর আমার ডটগুলো আমাকে এক পথে নিয়েছে, তারা তৈরী করেছে নিজেদের পথ। কেউ গিয়েছে স্ট্যানফোর্ডে, আর কেউ সেই টিনের ক্যান কুড়িয়ে খাবার যোগাড় করছে। কেউ সন্ত্রাসী হয়েছে, কেউ হয়েছে দরবেশ।
তখন, যখন বহুদিন পর সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে দরবেশ কিংবা সন্ত্রাসী হিসেবে ফেইসবুকে দেখি, তখন চমকিত না হয়ে পারা যায় না।

মানুষ তো আর ভাগ্যের শিশু না। আমরা এখানে কোনো নাট্যকারের নাটক মঞ্চস্থ করতে আসি নি। আমরাই নাটকের স্ক্রিপ্ট তৈরী করি, এবং সেটা শুধু আমাদের জন্যই। কেউ আরেকজনের স্ক্রিপ্ট লিখে দেয় না। প্রত্যেকে নিজের জীবনের স্ক্রিপ্ট নিজে লেখে, এবং নিজেই তাতে অভিনয় করে। তাই, you can only connect the dots backwards কথাটা না বলে বলা উচিত -- you and you alone can create the dots forward, writing your own script for the play.

যে মানুষ সন্ত্রাসী হতে চেয়েছে, সে তা হয়েছে। যে দরবেশ হতে চেয়েছে, সে তা পেরেছে। Defined set of dots, অর্থাৎ, সুনির্দিষ্ট কোনো পূর্বলিখিত স্ক্রিপ্ট থাকলে সেটা প্রায় সর্বাংশে হলো ধর্মীয় বিধান। সুতরাং, যারা সেমতে ডটগুলো এঁকেছে, তারা বহুদিন পর দেখা হলেও চমকে ওঠে নি -- অমুক এত বদলে গেলো কী করে ? তারা ক্লান্ত, বিধ্বস্ত হতে পারে, কিন্তু তাদের দৃঢ় পদক্ষেপ তাদেরকে হাঁটার শক্তি দিয়েছে। তারা নানান স্ক্রিপ্টের নাটকে অভিনয় করে নি, তারা অনেক স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, কিন্তু তারা জানে তাদের ডটগুলো কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে। They know where the playwright will take them, and they know where they can rest. They know where the dots lead.

এই মানুষগুলোর সাথে সবারই কোনো না কোনো সময়ে ডটগুলো ওভারল্যাপ করে। কেবল অন্যরা জানে না তাদের নিজহাতে আঁকা ডটগুলো তাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কিন্তু এরা জানে। তাদের চোখেমুখে তাই কী অসীম প্রশান্তি !




নূরে আলম
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…