সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শত লাশ যখন ধ্রুব হয়ে যায়...

এখন ভোর হচ্ছে। আসলে ভোর পেরিয়ে এখন সকাল, সকাল সাতটা। শীতকালটা কেবল যেতে শুরু করেছে, তাই রোদের তেজ এখনও কম। ছবিটা তুলেছি ক'দিন আগে, তবে এখনও ছবির মতই আলো এসে পড়ছে দেয়ালে।



ব্লগ লেখার কথা প্রায় ভুলতে বসেছি। একসময় বেশ সুন্দর সুন্দর ব্লগ লিখতাম, যেগুলো নিজেরই পড়তে ভালো লাগতো। কোথায় গিয়েছে ঐসব ব্লগ পড়া ! এখন নেটে ঢুকেই আগে নিউজ দেখি -- কতজন মারা গেলো আজকে, কোথায় কী হলো না হলো, কে কী বললো, এইসব।

যে সময়টাতে মনের সূক্ষ্ম বৃত্তিগুলোকে বিশ্লেষণ করেছি, সেগুলো নিয়ে লাইনের পর লাইন লিখেছি, সেসময়েও ফিলিস্তিনে মানুষ গৃহহারা হয়েছে, সন্তান পিতৃহারা হয়েছে, মায়ের কোলে এসে পড়েছে সন্তানের গুলিবিদ্ধ লাশ। এখনও সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি ফিলিস্তিনে, গাজা উপত্যকায়। সেসময়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে শুনতে আবেগে ভেসেছি বলেই এখন এদেশ আরেক ফিলিস্তিন হতে বসেছে। সমগ্র মুসলিম এক জাতি -- বাঙালি নয়, ইরাকি নয়, ফিলিস্তিনি কিংবা আফগানী নয়। এই বোধটি চলে যাবার কারণে দুর্দশার শেষ নেই। ইসলামকে প্রাইভেট রিলিজিয়ন বানানোর চেষ্টা চলছে, আর সেইসাথে চলছে জাহেলিয়াতের যুগের মত বাজে জিনিস নিয়ে গর্ব আর মারামারি। আল্লাহ, কোরআন, রাসূলের চেয়ে উপরে উঠে গিয়েছে কোনো ছবি, মূর্তি, বই কিংবা দালানের মর্যাদা। কাফিরদের রক্ষায় মুনাফিকদের মুনাফেকি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী ?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে ?
সিতারা হেলাল এখনও উঠেনি জেগে ?
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে,
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা হেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী ?
.................................................
পাঞ্জেরী !
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি !
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি !!

ফররুখ আহমদের সেই পাঞ্জেরী জেগে উঠেছিলো কিনা জানি না। তবে আমরা সম্বোধন করার মত কোনো পাঞ্জেরীকেও দেখি না। সবাই-ই নিজ শক্তি সম্পর্কে সন্দিহান -- "আমি কি আর পারবো..." বলতে বলতে গলা বুঁজে আসে।

দেশে এখন বিভাজনের সময় চলছে। প্রথমে ভেবেছিলাম কেবল আমিই বুঝি একটু বেশি "প্রতিক্রিয়াশীল"। পরে সেই ভুল ভেঙেছে। বাসা থেকে স্কুল, কলেজ আর ইউনিভার্সিটি, এই তিনের বাইরে কোথাও আমার যাওয়া হয় না, হতো না -- তার মাঝেও আমি সবসময় ক্ষুদ্র সিলেক্টিভ সার্কেল মেইনটেইন করেছি। ইউনিভার্সিটি থেকে বাসায় আসলে ইন্টারনেটে আমার দুনিয়া ওপেন হয়। আর ভাই-বোনদের আড্ডায় যেটুকু জ্ঞান আহরণ হয় -- ব্যস, এই। তবে আর পাঁচজন ভাই-বোনের কাছ থেকে কমপক্ষে আরো পাঁচ রকম দুনিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়, এ এক বিশাল ব্যাপার। আমার নিজস্ব ধরণের কারণেই কিনা, এই "বিভাজনটা" আমার ক্ষেত্রে শুরু হয়েছিলো পাঁচ-ছ'মাস আগে। না - না, আরো আগে, প্রায় বছরখানেক হবে। তারপর ধীরে ধীরে সার্কেল ছাঁটতে ছাঁটতে কোনোটা এক-এ, কোনোটা শূন্যে, আর কোনোটা বা চার-পাঁচ জনে এসে ঠেকলো।
গত মাসখানেক যাবৎ দেখছি সেই বিভাজন অন্যদের মাঝে প্রকটভাবে বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে। তবে ভালো, এমন বিভাজনের দরকার আছে। কাফির-মুনাফিকেরা নিজেদেরকে আলাদা করে নিয়ে যখন সংঘবদ্ধ হয়ে গেলো, তখন মিলে-মিশে থাকার ইচ্ছা সত্ত্বেও আমরা আলাদা হয়ে পড়লাম। আমাদের মুসলমানদের অনেক ভুল, অনেক ভ্রান্তি। তবু ওদের চাপে আমরা এক হয়ে গিয়েছি, কোণঠাসা হয়ে পড়েছি। এখন পরস্পর দ্বন্দে লিপ্ত এই কোণঠাসা মুসলমানদেরকে এক সূতায় বাঁধার জন্য একজন পাঞ্জেরীর বড় প্রয়োজন।
সেজন্যে নিয়মিত প্রার্থনা করি। আমার দোয়া কবুল না হতে পারে, কিন্তু এর চেয়েও বেশি মজলুমের দিকে আল্লাহ তাকাবেন ঠিকই।
গত মাসখানেক যাবৎ প্রতিটা দিন খুব দ্রুত পার হচ্ছে, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ অনুভুতি রেখে যাচ্ছে এক একটা বছরের -- সবকিছু এতই দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যাচার-জুলুম দেখে আসতে আসতে সর্বশেষ গণহত্যা প্রত্যক্ষ করতে হলো গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি। কোটি মানুষের অশ্রুসজল প্রার্থনা আল্লাহর আরশে না পৌঁছে পারে না; গত ক'দিন যাবৎ তীব্র হতাশা হঠাৎই দূর হয়ে গিয়ে কেবলই বোধ হচ্ছে -- বিজয় অত্যাসন্ন। সেই আশায় হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করছি, শত চাপ আর হুমকির মুখেও।

মাঝে মাঝেই গুলির শব্দ কানে আসে। হঠাৎই পরপর দু-তিনটা বোমা কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। তাড়াতাড়ি রুমের লাইট নিভিয়ে জানালা একটু সরিয়ে উঁকি দেই বাইরে। ত্রস্ত পায়ে মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে দৌড়াচ্ছে। সবার হাতে মোবাইল, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নিচ্ছে।
দিন-রাত বিরাম নেই, পুলিশের গাড়ির শব্দ কানে আসে। কখনওবা শব্দ এতই তীব্র হয়ে ওঠে যে জানালায় না দাঁড়িয়ে পারি না। তাকিয়ে দেখি পুলিশের ট্যাংক, জলকামানসহ মানুষ মারার সবকিছু রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। হয়তোবা কিছুক্ষণ পরেই কোনো মায়ের বুক খালি হবে, কিংবা হয়তো গোটা পরিবারই শেষ হয়ে যাবে -- পত্র-পত্রিকায় ক'টা ঘটনার নিউজ আসে ?

ফজরের নামাজের পর কোরআন শরীফ ওপেন করলাম। সর্বশেষ সূরা আনফাল পড়া শুরু করেছিলাম, সেটাই শেষ করলাম। দেখলাম, আল্লাহ বলেছেন যে মুমিনগণ যদি দৃঢ় থাকে, তবে বিশ জনকে দু'শ জনের উপরে বিজয়ী করবেন, আর একশ দৃঢ় মুমিনকে জয়ী করবেন হাজার কাফেরের উপর, কারণ ওরা জ্ঞানহীন।

২৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই সম্ভবত এক বন্ধু ফোন করে খুব দুঃখ করে অনেকগুলো কথা বললো। আমি বললাম, দেখো, আল্লাহর কাছে মিথ্যা অপবাদ পৌঁছায় না। সুতরাং যে সৎ নিয়তের অধিকারী, সে নিজেও তা জানে, তেমনি আল্লাহ তা'আলাও তা জানেন। যারা মিথ্যার পক্ষে গলাবাজি করছে, মিথ্যার মাঝে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে আছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বিবেক নিশ্চয়ই তাকে দংশন করেছিলো, ধিক্কার জানিয়েছিলো ! আপন সত্ত্বায় সত্যের উপরে মিথ্যাকে বিজয়ী করতে করতে তারা এখন বিবেকে এমনভাবেই তালাবদ্ধ করে ফেলেছে যে, সেই তালা ভাঙবার সাধ্য আমাদের নেই। আল্লাহ যাদের গোমরাহ করেন, তাদের ফিরবার কোনো পথ থাকে না।

দেশব্যাপী যে বিভাজন শুরু হয়ে গিয়েছে, তার প্রভাব এই বন্ধুটির উপরেও পড়েছে। আমি জানি না তার অতীত সার্কেলগুলো আমার মত শূন্য কিংবা এক এ এসে ঠেকেছে কিনা, তবে সেগুলোর বর্তমান অস্তিত্ব নিয়ে আমিও তার মতই সন্দিহান। আক্ষেপ করে ও বলছিলো, দেখো মাসুদ, আমি ওদেরকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছি, এবং একটা সময় ছিলো যখন ওরা আমার সামনে অন্তত খারাপ কথা বলতো না, খারাপ কাজগুলো করতো না। কিন্তু এখন যেনো একটি বেশিই দেখিয়ে দেখিয়ে করে।
বললাম, শোনো ভাই, আল্লাহ যে বলেছেন ওদের অন্তর সিলমোহর করে দেন, সেটা আসলে কিভাবে ?

সেদিন আমার ভিনদেশী বন্ধুর সাথে থিয়োলজির লেকচার বিনিময়ের এক পর্যায়ে সে লিখেছে, Did God make us (non-believers) to put us in the eternal fire ? For there is a verse that says about not worrying about the non-believers, for God has hardened their hearts and made them blind to the truth. প্রশ্ন হলো, আল্লাহ যদি কারো অন্তর তালাবদ্ধ করে দেন, তবে সে সত্যের সন্ধান পাবে কী করে ? এতো অবিচার হয়ে গেলো ! সে প্রশ্নের উত্তরটিই বললাম -- ন্যায় ও সত্যপন্থী লোকদেরকে বর্জন করাটা ওদের জন্যই ক্ষতিকর, কিন্তু ওরা সেটা বোঝে না। এই যে যেসব ছেলে-পেলে এই বিভাজনের সময়ে মিথ্যার পক্ষ নিয়ে আমাদেরকে ত্যাগ করছে, তারা কি লাভবান হচ্ছে ? বরং সত্যপন্থীদেরকে ত্যাগ করার ফলে তাদেরকে আর ভালো উপদেশ দেবার কোনো লোক থাকলো না। আর আগে যা-ও বা ভালো-মন্দ লোকজন মিলে-মিশে ছিলো, এখন কাফির-মুনাফিকেরা একদল হয়ে যাওয়ায় তারা আরো গোমরাহীতে নিমজ্জিত হবে, এমনভাবে নিজেদের বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলবে যে সত্যের কঠোরতম আঘাতও তাদের অন্তরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না। এটা তাদের জন্য দুনিয়াবী শাস্তি যে আল্লাহ তাদের অন্তরকে সিলমোহর করে দিলেন (তাদের নিজেদের দ্বারা), আর পরকালে তো অনন্ত শাস্তি অপেক্ষা করছেই।

এতে একদিক দিয়ে ভালোই হলো। ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক সত্যপন্থী লোকেরা এক হয়ে যাবার ফলে পরস্পর জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সত্যকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবার আশা জাগলো। অতঃপর বিজয়ের পদধ্বনি।

কত সুন্দর মন, কত সুন্দর চেহারা, সুন্দর বাচনভঙ্গী, নামী-দামী পোশাক আর মনোমুগ্ধকর "স্মার্টনেস" -- সব পানসে হয়ে আসছে সত্যের পরীক্ষায়। সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আমরা গোড়াতেই যে ভুলটা করি, তা হলো তাক্বওয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে অন্য কিছুকে প্রাধান্য দিয়ে বসি। তারপর এমন সব বিভাজনের সময়ে হৃদয় ভেঙে যায়, খুব ভালোবাসার মানুষগুলোকেও কুফর কিংবা মুনাফেকির জন্য ত্যাগ করতে হয়। অথচ যে মানুষটা ইসলামপন্থী ছিলো, দাড়ি-টুপি কিংবা মাথায় ওড়না দিয়ে চলতো, সে "অতটা স্মার্ট নয়" বলেই তো তার সাথে বন্ধুত্বটা গড়ে ওঠেনি ! তার সম্পর্কে বড়জোর -- "হুম, অমুক বেশ ভালোমানুষ, ভদ্র" বলা হয়, কিন্তু ও পর্যন্তই। তারপর বিভাজনের সময় এলে যেকোনো এক পক্ষকে বেছে নিতেই হয় !

*                               *                               *                               *                               *

আজ আলোটা বেশ চমৎকার ছিলো। তাই দেখে ব্লগ লিখতে বসেছিলাম। কিন্তু "আসল" বাদ দিয়ে "নকল" নিয়ে তো আর বেশিক্ষণ পড়ে থাকা যায় না, তাই না চাইতেও বিষয়গুলো চলে এলো।

আজকের দিনটা সুন্দর। হ্যাঁ, সত্য যে এই সুন্দর দিনেও হয়তো কেউ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতলের বেডে শুয়ে আছে, কিন্তু এ-ও সত্য যে এই দিনেই হয়তো নতুন একটা শিশু একরাশ সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে, হয়তোবা আমাদের ভবিষ্যতের পাঞ্জেরী, কিংবা হয়তো সে আজকে কেবল হাঁটতে শিখলো, আর তাই দেখে বাবা-মা আনন্দে ভাসছে। Valley of the Wolves : Palestine মুভিটা আবার দেখলাম সেদিন। চারিদিকে শত লাশ যখন ধ্রুব হয়ে যায়, তখন এর মাঝেও মানুষ ভালোবাসা, হাসি-কান্না খুঁজে নেয়। শত লাশ আর রক্তের মাঝেও তাই আজকের দিনটাকে সুন্দর লাগছে, আলোটা মায়াময় হয়ে ধরা দিয়েছে, আর প্রিয় গানগুলো শুনতে শুনতে মনের দুর্গের আর্চওয়ে দিয়ে এলোমেলো পায়ে হাঁটতে মন চাইছে।

বর্তমানে আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। তবে এর মাঝেও যে পাষাণ হয়ে যাই নি, তার একটা চিহ্ণ রেখে গেলাম।


নূরে আলম
মার্চ ৬, ২০১৩।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…