সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

UNTITLED - 9

এক ফ্রেন্ডের স্বপ্নের কথা বলি। স্বপ্নটা এমন --

মনে হয় আমি বাড়ির বারান্দায় বসে থাকবো। হাতে কোনো বই থাকবে। বিকেল বেলা। "ও" বারান্দায় এসে বসবে। বলবে, কী করছো। বলবো, এইতো, কিছু না। তারপর ও বলবে, দাঁড়াও, তোমার জন্য চা বানিয়ে আনি।
চা আমার খুব পছন্দ। তারপর ও আমার জন্য চা বানিয়ে আনবে। তারপর...



বাকিটুকু বলবো না। বন্ধুটি যখন তার কল্পনার সংসারের গল্প বলতে থাকে, তখন -- না, আমি নিজের সংসার কল্পনা করি না। তবে আমি তার কল্পনার প্লট তৈরী করে ফেলি মনে মনে ! উপরের কথাগুলো এক ফ্রেন্ডের, কিন্তু সেগুলো শুনবার সময়ে আমি কল্পনা করলাম গুলশান-২ এর ১০৩ নাম্বার রোডের এক বাড়ির D শেপের খোলা বারান্দাটা। সেখানে একটা দোলনা রাখা -- দু'জন বসা যায়, এমন। ছিমছাম, রডের তৈরী মিনিমালিস্টিক ডিজাইনের দোলনা। সেখানে বসে বন্ধুটি কোনো একটা বাংলা উপন্যাস পড়ছে। পাতলা একটা বই। বিকেল বেলা। যদিও সামনেই ব্যস্ত রোড, কিন্তু আজ সেখানে শব্দ নেই। মৃদুমন্দ বাতাস, যেটাতে গরম লাগে না। তারপর তার "ও" (ওয়াইফ) বারান্দায় এলো। এসে পেছন থেকে "কী করছো" বলে... । তারপর বন্ধুটা একটু হেসে বলবে, এইতো, কিছু না। তারপর সে বলবে, দাঁড়াও, চা বানিয়ে আনি। বলে তার হাতের বইটা পাশের ছোটো টেবিলে রেখে উঠে যাবে। ও হ্যাঁ, আরেকটা কথা -- সে শাড়ি কিংবা অন্য যেকোনো ড্রেস পরে থাকবে। তবে শাড়ি হলে সেটা খুব পরিপাটি করে নিভাঁজ কুঁচি দিয়ে পরা থাকবে। যেনো বসে কোলের 'পর বই রাখলে সেটা দেখতে সুন্দর লাগে !
তারপর চা বানাতে চলে যাবে। বন্ধুটি দোলনায় বসেই থাকবে। তার চেহারায় আনন্দের ছাপ। যদিও সে দোলনায় বসে আছে, সে দোল খাচ্ছে না। ছেলেরা দোলনায় দুলতে থাকলে ভালো দেখায় না। আর দুলতেও ভালো লাগে না। তবে সে যখন এসে পাশে বসে, তখন...।

গল্প এটুকুই। ফ্রেন্ড গল্প বলছে, আমি শুনে যাচ্ছি আর তার কল্পনার গায়ে মাংস চড়াচ্ছি -- এমন সময় তার গল্প শেষ। ওটুকুতেই শেষ। আমি বললাম, তারপর ?
-- তারপর আর কী।
-- তারপর আর কী ?
-- আর কিছু না।


তার কল্পনা বেশিদূর এগোয় না। গভীর আবেগী মানুষ সে, কিন্তু কল্পনায় রং চড়াতে পারে না। তার গল্প ওটুকুতেই শেষ হয়ে যায়। আমার যদি তার মতো ভালোবাসার মানুষ থাকতো, আমি বহু আগেই সারা জীবনের সংসারে যত যা ঘটা সম্ভব, সেগুলোকে সুন্দরতম উপায়ে কল্পনা করে লিখে রাখতাম।


গতকাল কী পরশু, ঠিক খেয়াল নেই, বৃষ্টির সাথে অনলাইনে কথা হচ্ছিলো। দাঁড়ান, হিস্ট্রি থেকে একটু দেখে নেই।
আমি : আজকে হঠাৎ মনে হচ্ছে ভালোবাসার তত্ত্বকথা নিয়ে একটা ব্লগ লিখবো।
বৃষ্টি : লেখো। আমি সবাইকে নিজ দায়িত্বে মেনশন করবো।
-- LOL. মেনশন নিয়ে চিন্তা নাই। ভাবতেসি এই ব্লগ লিখতে গিয়ে নিজের কাহিনী ফাঁস করে ফেলি কিনা :(
-- ওরে... তোমার কাহিনী কী !! অবাক হলাম !! অনেক।

বৃষ্টির অবাক হওয়া দেখে আমিই অবাক হলাম। আমাকে কী মনে করে ? অমানুষ ? নাকি রোবট ? আমার যেনো জীবনে কোনো কাহিনী থাকতে পারে না। ও "অবাক" না হলে হয়তো এই কথা বলতাম না, কিন্তু আমিও তখন ভাব নিয়ে বললাম --
-- জীবনে কত কাহিনী ঘটে গেলো... জানতে পারলো না অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কেউ...
তৎক্ষণাৎ বৃষ্টির উত্তর --
-- আরে... বলো। আমি কাউকে বলবো না।

বাপরে ! সিক্রেট বলার অফার দিয়েই একই সাথে সে যে কাউকে বলবে না, তার নিশ্চয়তা দেয়া ! অবশ্য মেয়েদের একটা ভালো গুণ হলো, তারা অপরের সিক্রেট জানতে চায়। যদিও গোপন রাখতে পারে না সহজে, তবে জানার আগ্রহ প্রবল।
এদিক দিয়ে ছেলেরা অনেকটা গর্দভের মতো। সেদিন এক ফ্রেন্ডকে বললাম -- আমার একটা মেয়েকে পছন্দ হয়েছে। সে একটু হেসে আবার আগের কথায় ফিরে গেলো। পাত্তাই দিলো না ! অতঃপর অপমানিত হবার আগেই আমি তার কথা থামিয়ে জোর করে শুনিয়ে দিলাম। আমার বন্ধু-বান্ধব খুব কম, তবে ধারণা করতে পারি, দুটো ছেলে বন্ধুর মাঝে একজন যখন বলে -- "দোস্ত, একটা সিক্রেট কই।"
তখন আরেকজন বলে -- "দোস্ত, তোর থেকে যে একটা সিগারেট পাইতাম, সেইটা...।"
এটা কল্পিত কনভার্সেশান, আমার কারো সাথে "দোস্ত" সম্বোধন করা হয় না, এবং তুই-তোকারিও হয় না। যাদের এমন হয়, তােদর মাঝে এধরণের কথা হতে পারে।
কিন্তু যদি হয় একটা মেয়ে ! আপনাকে বলতেও হবে না যে "সিক্রেট" -- সিক্রেটের গন্ধ পেলেই সে সিক্রেট কিপার হবার অফার দেবে ! আমিও তেমন অফার পেলাম, এবং ... 
-- তোমাকে বলা যাবে না। তুমি স্থিতিশীল নও। :p
-- কেনো, আমি আবার কী করলাম ?? না, আমি তো অনেক ভালো। যীনতুকে জিজ্ঞাসা করো।

এদিকে ফেসবুকে বৃষ্টি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। গান। লিরিক্স দেখেই মনে হচ্ছিলো রবীন্দ্রনাথ। কথাগুলোও খুব ভালো লাগলো। সে কথা জিজ্ঞাসা করলাম। দ্রুত "maybe robi dhakur" (ঢাকুর !!!) লিখে তারপর বললো -- 
-- এখন আসল কাহিনী বলো। কথা ঘুরিও না।
আমি কিন্তু সত্যিই কথা ঘুরানোর উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করি নাই। রবীন্দ্র সঙ্গীতের প্রতি দুর্বলতা আমার, সেজন্যে খাস-দিলে জিজ্ঞাসা করলাম। কিন্তু আমি নাকি কথাকে "ঘুরিয়েছি" !
-- কই ঘুরালাম। ভালোবাসার কথা বলে লাভ নাই। যারা সরাসরি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে ভীত, তারাই সাধারণত তত্ত্বকথা লেখে।
-- তোমার কাহিনী বলো। জলদি।

যেনো বিজনেস deal হয়েছে উনার সাথে। তাও সিক্রেটের বিনিময়ে টাকা দিলে হতো (বৃষ্টির টিউশনি ভাগ্য খুলে গিয়েছে, অনেক হাজার হাজার টাকা ইনকাম করে ! আর বাসা চেইঞ্জ করার পর থেকে আমার টিউশনি নাই :-( )
-- ধুর। ... টপিক চেইঞ্জ করো।
-- bolo
-- bolo
-- bolo
--bolo
-- না বলা পর্যন্ত জ্বালাতেই থাকবো।
-- bolo
-- bolo
তারপর কপি-পেস্ট স্প্যামিং চলতে লাগলো। কিন্তু আমি কি অত সহজে বলি ? বিশ বছরের সব সিক্রেট মনে হয় একদিনে বেচে দেবো ? আমি লিখলাম-- 
-- কপি-পেস্ট "বলো" দিয়ে কাজ হবে না। ঐ কৌশল আমি জানি।

যাহোক, এরপর কপি-পেস্ট bolo চলতে লাগলো, আর আমি তার মাঝেই লিখলাম --
-- মেজাপু একবার এক কাহিনী বলসিলো। ফেসবুকে এক মেয়েকে এক ছেলে অনেক লাইন I love you লিখসে। মেয়েটা তো মুগ্ধ। ফ্রেন্ডরা বুঝালো যে এটা কপি-পেস্ট। কিন্তু "প্রেমের মরা চোখে দেখে না" -- সে বলে, না, ও এগুলো সব লিখসে।

দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির মাথায় অনেক বুদ্ধি, সে যে কপি-পেস্ট করছে না, তা বুঝানোর জন্য এখন টাইপ করতে লাগলো ভুল বানান --
-- bolob
-- obolo
-- bolod
ইত্যাদি।

কপি-পেস্ট স্প্যামিঙের জ্বালায় বলতে স্বীকৃত হলাম। আর এ-ও বললাম যে মুখে এতবার বলতে হলে মজা টের পেতে। আর বললাম, থামো, বলতেসি। তবে আসল কাহিনী তো আর বলবো না।
-- ছেমরা। বলো। ভনিতা কইরো না। ঐ...
-- ঐ, এই ভাষা কনথেন শিকলু ? ইরাম বাষা ব্যাভার করবি না। মুই তর থেন ম্যালা বরো।

তারপর আমি আমার "কাহিনী" বললাম (প্রস্তুত হন !)।
-- আরে নাই।
মনে মনে প্রেম।
বাস্তবে না।
মনে মনে যখন কাউকে পছন্দ করেছি, পরে সে বড় হবার পর অথবা তার সম্পর্কে আরো জানার পর দেখলাম যে আমার যোগ্য না।
চলা সম্ভব না।
তখন কল্পিত সংসার ভেঙে দিলাম !

ভাই, সত্যি কথা বলি, আমি যদিওবা জীবনে কাউকে কাউকে মনে মনে পছন্দ করেছি, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো সেই মানুষটাকে না বুঝে বন্ধু-বান্ধবরা আর কাউকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেছে। আমি তাকে পছন্দ করি, তার জন্য এই করি, সেই করি -- এইসব গল্প। তখন বেশ মজাই লাগে ! মনে হয় সবাইকে ফাঁকি দিতে পেরেছি। তবে যীনতু মনে হয় দু-একজনের ক্ষেত্রে বুঝতে পেরেছিলো। সবসময় আমার পিছে লেগে থাকে তো, তাই আরকি। যাক, সে কথা তো আর আমি বলবো না !

বৃষ্টির কথা যখন বললামই, তখন ওর সম্পর্কে আরো দু-একটা কথা বলি। বৃষ্টি হলো যীনাতের বান্ধবী। আমি আর যীনাত একই স্কুলে পড়েছি। এক ক্লাসে পড়তাম। আমাদের যে ব্যাপারটা হতো এবং এখনও হয়, তা এই যে উভয়ের ফ্রেন্ড সার্কেলের সাথে উভয়েরই বেশ একটা সুসম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। যেমন আমার এক ফ্রেন্ড মনে মনে যীনাতকে বেশ ভয় পায়, কারণ যীনাত নাকি কাউকে খুব অবজার্ভ করে মনের কথা বের করে ফেলে ! আমাদের ফ্রেন্ডদের আবার প্রায়ই ড্রয়িং রুমে একসাথে আড্ডা হতো। সেখানে বহুবার ধরা খেয়ে বোধহয় এই শিক্ষা হয়েছে ! আবার, বৃষ্টির ল্যাপটপের সমস্যা আমাকে সমাধান করে দিতে হবে, কিংবা তন্বীর ছোট বোন কলমের তৈরী মোমদানি বানিয়ে দিতে বললে তা-ও।

যাহোক, বৃষ্টির সম্পর্কে বলি। যীনাতের জীবনে অনেক ফ্রেন্ড আসলে-গেলেও, এই বৃষ্টি কিভাবে যেনো রয়ে গিয়েছে। বছরের সবসময় বৃষ্টি হয় না, তবে এমন কোনো বছর যায় না যে বৃষ্টি হয় না ! বৃৃষ্টির সম্পর্কে বলতে গেলে আমি যেটা বলি সেটা হলো -- এমন কোনো কাজ নাই, যা সে পারে না। এমনকি আপনি যদি বলেন যে আমি আগামী এক মাসের মধ্যে লন্ডন যেতে চাই, আমার পাসপোর্ট-ভিসা-টিকিট -- যা লাগবে করে দাও, ও করে দিতে পারবে। কিংবা -- চাওমিন তৈরী করি কী করে, একটু বলো তো ? অথবা -- কড়ই গাছ লাগাবো বাড়িতে, চারা কোথায় পাবো ?
অর্থাৎ, যত উদ্ভট কিছুই হোক না কেনো, আমার যা ধারণা -- বৃষ্টি করতে পারে না এমন কিছু নাই। তার আবার অতি বিশাল নেটওয়ার্ক। একারণে অবশ্য প্রায়ই যীনাতকে তিশা কিংবা আরো অনেক নামে ডাকে।

আমি কেঁচো মানুষ -- ঘর হৈতে আঙিনা বিদেশ, এখনও স্কুল টু বাসা, কলেজ টু বাসা আর বাসা থেকে ইউনিভার্সিটির রাস্তার বাইরে আর কিছু চিনি না। আর চিনি বিসিএস কম্পিউটার সিটি। ব্যস। আমার মনে আছে, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির আইবিএর-র ফর্ম তোলার জন্য আমাকে আর যীনাতকে বৃষ্টি নিয়ে গিয়েছিলো। অবশ্য এখন ও সেখানেই পড়ছে।

কিছু কিছু মানুষ আছে, খুব সিগনিফিক্যান্ট। তাদের প্রত্যেকটা বৈশিষ্ট্য-ই এত চমৎকার যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। যদিও প্রত্যেকেরই দোষ-গুন থাকে, তবে কিছু মানুষ নিতান্তই পানসে, একেবারে সাধারণ। অর্থাৎ, আমি তাদেরকে বলি -- "শুধু মানুষ"। আর কিছু মানুষ এই বৃষ্টির মতো। যেমন আমার কলেজের বন্ধু মোর্শেদ। ও যে কাজই করবে -- সেখানে শ্রেষ্ঠ কিছু ঘটতে পারে, সম্ভাবনা আছে। এমন সব মানুষের প্রতি মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। যেমন বৃষ্টি খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারে, আবার মোর্শেদও।
মাঝে মাঝে ভেবেছি, এই মানুষদের নিয়ে একটা একটা করে ব্লগ লিখবো, কিন্তু তা করা হয়ে ওঠে নি। আজও হলো না মনে হয়। সে যাক।

তবে কি, আমাকে একবার একজন বলেছিলো -- "আমাকে বেশি উন্মোচন কোরো না। যতটুকু জানতে দিই, ততটুকুই জানো।" কথাটিকে তখন পাত্তা দেই নি, কিন্তু এখন অনেক সুবিবেচক চিন্তা বলে মনে হয়। একটা মানুষ নিজেকে যতটুকু প্রকাশ করে, তা দেখে মুগ্ধ হয়ে যদি সেই মানুষটির আরো কাছাকাছি হই, কিংবা তাকে আরো বেশি জানি, কিংবা ঐযে -- "উন্মোচন করি", তখন নিতান্তই অমুগ্ধকর জিনিসও দেখতে হতে পারে। এটা সবার ক্ষেত্রেই সত্য। এজন্যে কারো ব্যাপারে "সব ভালো" কিংবা "অতি উচ্চ" ধারণা পোষণ করে খুব আগ্রহভরে কিংবা ভালোবাসা সহকারে মিশতে যাওয়া ঠিক না। পরে মন ভেঙে যায়।

আমার জীবনে অনেক বন্ধু ছুটে গিয়েছে। তার মাঝে একবার এই ব্যাপারটি ঘটেছিলো। তখন আমার শিক্ষা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে আমি ছিলাম পূজার বস্তু, আর সে ছিলো পূজারী। সে কথা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে। যখন বুঝেছি, তদ্দিনে আর কিছু করার নেই।

সে অন্য গল্প।




নূরে আলম
অগাস্ট ১৬, ২০১২।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…