সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

UNTITLED - 5

আমি এখন দুইটা টিউশনি করি। একজন ক্লাস সেভেনের ছাত্র, আরেকজন ক্লাস টেন-এর। গতরাতে সিদ্ধান্ত নিলাম এদেরকে নিয়ে একটা ব্লগ লেখা যেতে পারে।
আসলে গতরাতে সেহরি পর্যন্ত না ঘুমিয়ে জেগে থেকে যীনাতের সাথে নানান তত্ত্বজ্ঞানী আলোচনা করেছি। আমাদের বিভিন্ন 'বন্ধু'-'বান্ধবদের' নিয়ে। নানান কথা...। তারপর একফাঁকে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কথা উঠল। যীনাতও নিজের প্রশংসা করার চেষ্টা করলো, আমিও করলাম। সেই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকেই আমার ছাত্রদের কথা।


সেভেনের ছাত্রটি সাজিদ। সে দুলে দুলে পড়তে থাকে। আমি বলি- সোজা হয়ে বসো। সে টেবিলের উপর একটু ঝুঁকে পড়লে আমি আবার ততটুকু পিছিয়ে যাই- এইভাবে একটা ব্যক্তিগত sphere বজায় রাখি।
তেমনি করি ক্লাস টেন-এর ছাত্র সাদমান এর ক্ষেত্রেও। সে আর আমি পাশাপাশি সোফায় বসে থাকি। দুই সোফার হাতলের উপর বই থাকে, খাতা থাকে (যদিও সামনে টেবিল আছে)। আমি সোফার হাতাদ্বয়ের উপর একটু ঝুঁকে পড়ে বুঝাই, কিন্তু যখনই ছাত্রটি wren and martin এর উপর একটু ঝুঁকে পড়ে, তখনই আমি ততটুকু ডানে সরে ব্যক্তিগত sphere বজায় রাখি।
এই ছাত্রটিকে নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছি। সমস্যা এই যে সে হাসে। শুধু শুধু হাসে। অকারণে হাসে। আমি ভাবলাম, মনে হয় আমার কোনকিছু খেয়াল করে হাসছে। ওর মা একদিন জিজ্ঞাসা করলেন ছাত্রের অবস্থা কী। আমি বললাম, ভালোই, তবে কথা কম বলে আর অকারণ হাসে।
আন্টি বললেন যে এই রোগ তার ছোটবেলা থেকে। ক্লাস ফোরে থাকতে এরকম শুধু শুধু হাসার কারণে একশবার কান ধরে উঠবস করিয়েছিলো স্কুলের টিচার। এবং এখনও তার সেই অভ্যাস।
:(
এখন, কেউ যদি শুধু শুধু হাসে, তখন কি না হেসে পারা যায় ? আমি প্রথমদিন থেকেই অতি সাবধানে ছোটবেলার সেই হাসি কন্ট্রোলিং পাওয়ার অ্যাপ্লাই করে ওর প্রতিটা হাসির উত্তরে মুখ গম্ভীর করে বলেছি- এতে তো হাসির কিছু নেই। কিংবা- হাসছো কেনো ?
প্রথমে সে ঠোঁটের নিচে তর্জনী আর মধ্যমা আঙুলদ্বয় এক করে চেপে ধরে মুচকি হাসে। তারপর আবার আমি যদি বলি, হাসছো কেনো, কিংবা- হাসির কিছু নেই এতে, তখন সে সারা শরীর দুলিয়ে আট-দশ সেকেন্ড ধরে বেশ করে নিঃশব্দ হেসে নেয়। আমি তখন মুখ গম্ভীর করে আট-দশ সেকেন্ড দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর হঠাৎই যখন তার হাসি বন্ধ হয়ে যায়, তখন আবার- to talk about the person already referred to, ইত্যাদি পড়াতে থাকি।


সাদমানের বাসা হল চার নাম্বার রোডে। আমার বাসা থেকে বের হয়ে সামনে তাকালেই চার নাম্বার রোড। কিন্তু ঐ রোডের প্রথম দুই কদম (যেহেতু আমাদের পরিচিত এক আন্টির বাড়ি) ছাড়া আমার আর কখনো সামনে আগানো হয় নি। আর কিছুদুর গেলেই ওর বাসা। এই এলাকায় পনরো বছর ধরে আছি, কিন্তু কখনো ওখানে যাওয়া হয় নি আগে !


সেদিন tense বুঝাতে গিয়ে যখন বললাম- এই যেমন আমি আজকে তোমার বাসায় আসতে গিয়ে দেখলাম রাস্তার ডান হাতে যে বাড়ি বানানো হচ্ছে, সেখান থেকে বৃষ্টির মত পানি পড়ছে, তাই আমাকে অনেক সাবধানে দৌড় দিয়ে ঐ অংশটুকু পার হতে হলো- তখন সে ব্যাপক হাসাহাসি শুরু করলো। একেবারে দুলে দুলে। কী কল্পনা করে হেসেছে আল্লাহ জানে। আমারও একটু হাসি পেয়ে গেলো। কিন্তু ভয়েই আমি সে হাসিকে কন্ট্রোল করলাম। কারণ, আমি ভয়ানক সব হাসি কন্ট্রোল করতে পারলেও মাঝে মাঝে হাসতে হাসতে আমার দম বন্ধ হবার মত অবস্থা হয়। শেষদিকে চোখে পানি চলে আসে, হাসি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, এমনকি শরীর কাঁপতে থাকে।
একদিন যীনাত আমাকে এভাবে হাসিয়ে তো প্রায় মেরেই ফেলেছিলো। পরে যখন আমার চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে এলো আর শরীর কাঁপতে লাগলো, তখন ভয়েই যীনাত ভাগলো রুম থেকে।


............................................................................................
দুটো টিউশনি, সপ্তাহে কমপক্ষে তিন-তিন ছয় ঘন্টা সময় ব্যয় করা লাগে। গুলশান যাওয়া আসায় আমার সময় নষ্ট হয় অনেক। তারপর আর পড়াশুনার সময়ই থাকে না :( টাকা পাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু টাকা দিয়ে সময় কেনা যায় না।
time and money, waits for none.
............................................................................................
চারদিকে পাগল বেড়ে যাচ্ছে। বোহলুল, খলিফা হারুনকে বলেছিলো, প্রাসাদের ভিতরে থেকে বাইরে তাকালে দেখি পাগল, আর বাইরে থেকে প্রাসাদের ভিতরে তাকালেও তা-ই। সর্বত্রই পাগল।
আমিও তা-ই দেখছি। তবে বাসার বাইরে তাকালেই শুধু। বাইরে থেকে ভিতরে তাকাই নি। বাসার পাগলে সব একপদের- এক ঘরে বহু পীর, কিন্তু বাইরের বাকি সব পাগল একরকম।
গতরাতে যীনাতের সাথে সব পাগল নিয়ে আলোচনা করলাম। যীনাতের দেখা পাগল। আমার দেখা পাগল। আমাদের উভয়ের দেখা পাগল। সাম্প্রতিক পাগল, পুরনো পাগল, চেতন পাগল, অচেতন পাগল। আর বন্ধু পাগল আর বান্ধবী পাগল।


পাগলদের গল্প আরেকদিন হবে।
আজ এ পর্যন্তই।


নূরে আলম
অগাস্ট ২৬, ২০১১।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…