সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তত্ত্বকথা - ২

ক'দিন আগে ইয়াহু মেসেঞ্জারে কলেজের এক ফ্রেন্ডের সাথে কথা হচ্ছিলো। অনেকদিন তার সাথে আমার দেখা হয় না, কথা হয় না। "কেমন আছো ?"- জিজ্ঞাসা করলে সে বলে- "আলহামদুলিল্লাহ।" আমাকেও একই কথা জিজ্ঞাসা করলো সে। আমি বললাম, "ভালো আছি, বেশ ভালোই আছি। গতদিন আমার বাসায় অমুক, অমুক আর অমুকেরা এসেছিলো। বেশ এক আড্ডা হয়ে গেলো।"
- আমার কেনো জানি আর ফ্রেন্ড ভালো লাগে না। মেবি অনেক ধাক্কা খেয়েছি ফ্রেন্ডদের থেকে, এইজন্য। আমি ফ্রেন্ডদের জন্য আছি কিন্তু ফ্রেন্ডরা কেউ আমার জন্য নাই।
- ঠিক ধরেছো। এই জিনিসটা বুঝতে তোমার এতদিন লেগেছে।
- জানো মাসুদ, আমি সবসময় ফ্রেন্ডদের জন্য যা করেছি, নিঃস্বার্থভাবে করার চেষ্টা করেছি। আলাদা একটা দুনিয়া-ই ছিলো আমার ফ্রেন্ডদের জন্য। ওদের প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে দিন নেই রাত নেই যখন বলেছে ঠিক তখন পাশে পেয়েছে আমাকে। সত্যি বলতে আমি সেটা পাই নি।
- হুম, তা ঠিক।
- সবাই শুধু স্বার্থ দেখে। খুব কষ্ট হয় মাঝে মাঝে।
- ......., তুমি খুব আবেগী ছেলে।
- আমি এখন আমার ফ্যামিলির মানুষগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি কেয়ারিং। লাইফে যা করছি বা করবো শুধু তাদের জন্যই করবো। আমি জানি আমি আবেগী। হয়তো একটু বেশি-ই। যেটা খুব একটা ভালো না হয়তো।
- ......., আবেগ কিন্তু খারাপ নয়। কিন্তু সেই আবেগটা যদি যুক্তিবাদী, বিবেকবান মানুষের হয় তাহলেই সেটা চমৎকার হয়।
- আমি স্বার্থপর হতে চাই না মাসুদ।

বাকী চ্যাট আর্কাইভ তুলে দেয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
ছেলেটা বেশ চমৎকার মানুষ। প্রথম সাক্ষােত মুগ্ধ হতে হয়। ক'দিন পর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সেই মুগ্ধতা থাকতে থাকতেই যদি নিয়মিত যোগাযোগ কমিয়ে দেয়া যায় তো ভালো- নইলে কালো বেরিয়ে পড়ে। যাহোক, তাকে দেখলে মানুষ যেটাকে তার সবচে' বড় গুণ বলে উল্লেখ করবে, তা এই যে বন্ধুদের জন্য যখন-তখন যে কোনো কাজে সে হাজির- খুব সহায়তাকারী মনোভাবের মানুষ।
আমি নিজেও এর অনেক প্রমাণ দেখেছি। যাহোক, সেটা আমার ব্লগের বিষয়বস্তু নয়। ঘটনা হলো, এতদিন তার সাথে আমার খুব সাধারণ কথাবার্তা হয়েছে নেটে, কিন্তু সেদিন হঠাৎই সে বেশ আবেগী হয়ে পড়লো। তারপর সে যা বললো, তা আর ব্লগে দেবার নয়।
ব্যাপার হলো, সে একটা মেয়েকে ভালোবাসে। মেয়েটির সাথে এতদিন ভালোই চলছিলো, কিন্তু কোনো এক কারণে (খুব সম্ভবত ছেলেটির বদরাগের কারণে) মেয়েটি তাদের সম্পর্ককে 'ভালোবাসা' থেকে 'বন্ধুত্বে' ফিরিয়ে নেয়। তাই সে খুব মনোকষ্টে আছে। "আমার পক্ষে ওকে ছাড়া থাকা সম্ভব না।" "ওকে পাবার জন্যে আমি নিজেকে বদলাতে চাই। অবশ্যই সেটা যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।" এখন সে নিজেকে বদলাতে চাইছে। নিজেকে বদলে মেয়েটিকে 'দেখিয়ে দিতে' চাইছে।
মেয়েটি তাকে 'ভালোবাসতে' শিখিয়েছে, 'কেয়ার করতে' শিখিয়েছে। এসব চিন্তায় এখন সে এলোমেলো, অস্থির হয়ে পড়েছে।
জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মেয়েটি তার ভালোবাসা ফিরিয়ে নেবার পক্ষে কী যুক্তি দিয়েছে ? উত্তর : "ও প্রধান কারণ যা বলেছে তা হলো আমার বদরাগ আর ওর প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ না করা।"
................................................................................................................
কেইস স্টাডি শেষ। এবার আমি তত্ত্বকথায় আসি।
১. বন্ধুত্ব পর্যন্তই সবকিছু ঠিক ছিলো। তার অনেক বন্ধু ছিলো, সে বন্ধুদের জন্যে জান কোরবান ছিলো। মানুষের বন্ধু থাকবেই- কেউ স্বার্থপর হবে, আবার কেউ জান-কোরবান হবে, কেউবা নিতান্তই জড়বস্তুর ন্যায়, কিন্তু বন্ধু থেকে যাবে।
২. একটা মেয়ের সাথে সে প্রেম করতে শুরু করলো। স্বাভাবিকভাবেই বন্ধুদের সাথে শেয়ারিং কমে আসবে, মেয়েটার সাথে শেয়ারিং বাড়বে। বন্ধুরা এক এক জনে এক এক রকম প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিছু বন্ধু ছুটে যাবার সম্ভাবনা তৈরী হবে।
৩. একটা সময় এমন হলো যে সে মেয়েটির সাথে ভালোবাসায় মত্ত- তার সাথে সে 'লাইফ' 'শেয়ার' করছে, ভালোবাসার নানান দিক উন্মোচন করছে- এমন সময়ে বন্ধুর সাথে মানুষের শেয়ারিং সত্যিই খুব কমে আসে। বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো ভালো লাগে না, ইচ্ছে করে মেয়েটির সাথে সময় কাটাতে।
৪. বন্ধুদের সাথে খুব একটা যোগাযোগ নেই, কিংবা অনেক বন্ধুই ছুটে গিয়েছে- এমন সময় মেয়েটির সাথে তার সম্পর্কে চিড় ধরলো। এখন সে দিশাহারা অবস্থায় পড়ে গিয়েছে। যার সাথে 'লাইফ' 'শেয়ার' করতো, সে পাশে নেই, বন্ধুরাও পাশে নেই; তাছাড়া, মেয়েটির সাথে 'যেসব' 'শেয়ার' করতো, সেগুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা সম্ভবপর নয়, কিন্তু 'সেসব' নিয়মিত শেয়ার করবার একটা চাহিদা তৈরী হয়ে গিয়েছে- এখন সে এলোমেলো হয়ে পড়েছে। এখন তার পক্ষে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসাটা খুব কষ্টকর এবং দুরূহ হবে। এখন যদি বন্ধুরা তার সাথে আগের মতন সময় কাটায়, গল্প-গুজব করে, তার সেগুলো ভালো লাগবে না, মনের একটা অংশ পূরণ হবে, কিন্তু আরেকটা অংশে বিশাল শূন্যতা থেকে যাবে, যে শূন্যতা শুধু ঐ মেয়েটিই পূরণ করতে পারতো, পারে।

এবার আমার মতামত দিই।
ভুলের শুরুটা হয়েছিলো ঐখানে, যেখানে সে বিবেকের আদেশের বাইরে গিয়ে একটা মেয়ের সাথে 'লাইফ' 'শেয়ার' করতে শুরু করেছিলো। একটা মেয়ের সাথে একটা ছেলে লাইফ শেয়ার তখনই করবে, যখন তারা পরস্পর বিবাহিত থাকবে। অবিবাহিত দুটো ছেলে-মেয়ের পরস্পরের মাঝে শেয়ারিং বিবেকমতে, ইসলামী মতে হতে হয় খুব সতর্কতার সাথে, অনেক রেস্ট্রিকশান মেনে, অনেক খেয়াল করে। অবিবাহিত দুটো ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে ভালোবাসতে পারে, কিন্তু সেই ভালোবাসার 'মানসিক রূপ' এবং 'বাহ্যিক প্রকাশ', উভয়ের উপরেই বিবেক বিধি-নিষেধ আরোপ করে। নইলে 'চিন্তার পাপ' এবং 'সমাজের চোখে খারাপ কাজ' ঘটে থাকে।
অনুচিত একটা কাজ তারা শুরু করলো এবং সেটাকে কয়েক বছরে ধরে বাড়তে দিলো, সেটা ফুলে ফেঁপে তাদের মাঝে আসন গেড়ে বসলো। সেই অনুচিত কাজটির ফলাফল ধাপে ধাপে নানান ভাবে প্রকাশ পেলো, কোনো কোনো প্রকাশ তাদের কাছে ভালো লাগলো, কোনো কোনো প্রকাশ তাদের কাছে ভালো লাগলো না।
ফলাফল- একজন বিরহে আছে, অপরজনের খবর আমি জানি না। হয় সেও বিরহে আছে নয়তো স্বাভাবিক হয়েছে কিংবা আরেকজনের সাথে 'লাইফ' 'শেয়ার' শুরু করে দিয়েছে।
ছেলেটা এখনও বিবেকের কথা শুনছে না- সে নিজেকে বদলে ফেলতে চাইছে ঐ 'মেয়েটার' মনমতো করে- 'বিবেকের' মনমতো করে নয়। সুতরাং আবারো ভুল করছে। এই কাজটি সে করতে পারলে তার জীবনে আরেকটি ভুল আসন গেড়ে বসবে, যার ফলাফল হিসেবে আরো অনেককিছু দেখা যাবে।
বিবেকের কথা না শুনে সে নানান সময়ে নানান কাজ করেছে, করছে- আপনার কি মনে হয় সে শান্তি পাবে ? কখনো চরম সুখে ভালোবাসায় মত্ত থাকবে, কখনোবা বিরহে অশান্ত থাকবে। আর এখন তার যে অবস্থা, ইসলামের কথা, বিবেকের কথা এখন সে কিছুই শুনতে প্রস্তুত নয়। কারণ ইসলাম যে তার সমস্যাটিকে গোড়াসুদ্ধ উপড়ে ফেলতে বলবে !

.....................................................................................................................................................................

এবার আরেকজনের কথা বলি। তার সাথে গুগল টক এ কথা হচ্ছিলো। G+ এ তার প্রোফাইল পিকচার প্রাইভেট না পাবলিক, তাই নিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলো। আমি প্রোফাইল এডিট করার একটা স্ক্রিনশট নিয়ে তাতে কিছু টেক্সট লিখে দিয়ে বললাম, "আরেকটা ছবি দিলাম, দেখো।"
- এতো দেখি যে কেউ দেখতে পারবে। আমার ছবি দেখে আমার কাজিনরা আমাকে আস্ত খেয়ে ফেলবে। G+ ভালো না। গুগল থেকে খুব সহজে পেয়ে যাবে।
- না দিলে নাই।
- পিকচারের লেখা কিছু বোঝা যায় না।
- আমি তো সবই বুঝি।
  কাজিনের ভয়ে অস্থির। কিছুই হবে না। হুদাই ঢং করছো।
- আরে নাহ। তুমি কী ভেবেছো। এই তোমরা একটু বেশি বোঝো। আমার ভাইরা বলেছে আমার যেনো কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকে। আর এটা এমন অ্যাকাউন্ট যে সবাই দেখতে পাবে। তোমরা একটু বেশি বোঝো বলেই ভালো লাগে না।
আমি 'হতভম্ব' হয়ে গেলাম ! বিরক্ত হয়ে বললাম, "ঠিক আছে, তাহলে কথা বোলো না।"
- আমি বলি কী আর তুমি বোঝো কী।
- বুঝাতে না পারলে বোলো না।
- তোমরা কথায় কথায় bf নিয়ে আসো কেনো ?
- আমি এখন bf এর কথা বলেছি ? আজব !
- তাহলে কী বললে- "সবই বুঝি"।
- আমি কি bf এর কথা বলেছি ? অদ্ভুত !
- আমি ঘুমাতে গেলাম। bye.
- যাও, খোদা হাফেজ।

মেয়েটির বয়ফ্রেন্ড আছে, মেয়ে ফ্রেন্ড আছে, ছেলে ফ্রেন্ডও আছে। কলেজে থাকতে তার অনেক বন্ধুই ক্ষণিকের জন্য তার প্রেমে পড়েছিলো। কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড ছিলো, আছে। এইসব নিয়ে অনেক অ্যামবিগিউয়াস কথাবার্তা চলতো বন্ধুদের মাঝে। আমি কারো বয়ফ্রেন্ডের খোঁজ নিয়ে বেড়াতাম না, জানতামও না; আর কোচিং-টোচিং করা হতো না আমার, তাই কলেজের বাইরে যত যা ঘটতো, আমার কিছু জানা হতো না।
যাহোক, মেয়েটির মাথায় তার বয়ফ্রেন্ডের চিন্তা ঘুরছিলো, তাই সুন্দর করে আমাকে বলে দিলো- একটু বেশি বোঝো বলেই ভালো লাগে না।

মেয়েটা পারিবারিক জটিলতার কারণে মানসিক চাপে থাকে। কলেজে থাকতে প্রায়ই তুচ্ছ সব কারণে কেঁদে দিত। আমার মনে পড়ে অনেক সময়ই চুপচাপ বসে কিংবা দাঁড়িয়ে তার কথা শুনতে শুনতে ব্রিটিশ কায়দায় টিস্যু পেপার বাড়িয়ে দিতাম। স্বভাবগত কারণেই উপদেশ দিতাম, দিয়েছিলাম বেশ। কিন্তু আমি তখন জানতাম না যে সে actively প্রেম করছে। তা জেনেছি অনেক পরে। জানলে হয়তো কাউন্সেল করা থেকে বিরত থাকলাম !
মেয়েটা কেনো প্রেম করা শুরু করেছিলো (কলেজ লাইফে), তা আমি জানি না। হয়তো নিজের ভবিষ্যতকে নিশ্চিন্ত করবার জন্য, কিংবা পারিবারিক কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকে মনোযোগ সরিয়ে অন্য কিছুতে ব্যস্ত থেকে মুক্তি খুঁজতে- কে জানে !

কলেজলাইফ শেষ হবার পর থেকে সে বন্ধুদের কারো সাথে তেমন একটা যোগাযোগ রাখে না। বন্ধু-বান্ধবরা অভিযোগ করলে একই অজুহাত- পারিবারিক সমস্যা। এদিকে বয়ফ্রেন্ডটির সাথে তার নিয়মিত ফোনালাপ কিন্তু ঠিকই চলছে।
আমি ক'দিন আগে চ্যাটিঙে তাকে বললাম, "দেখো, তোমার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার কোনো ইচ্ছা নেই। কতদিন হয়ে গেলো, কিন্তু তুমি আগের মতই রয়ে গেলে। তোমার ফ্রেন্ডরা হয়তো তোমাকে কাউন্সেল করতে পারতো, কিন্তু তুমি তাদের কথা শোনো নাই। কিন্তু বয়ফ্রেন্ড-ই কি পেরেছে সে সমস্যার সমাধান করতে ? বরং সচেতনভাবেই তুিম তার কাছে অনেককিছু চেপে যাও, যা বন্ধুদের সামনে বলতে কোনোই সমস্যা নেই। সে তোমার সমস্যার সমাধান করবে কী করে ? তুমি তো আসলে মুক্তি চাও না। তুমি কাঁদতে পছন্দ করো। আমাদের সামনে কেঁদে তুমি সাময়িক মুক্তি নিতে।"
আমার এসমস্ত কথায় সে ইন্টারনেটের অপর পাশে কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো- "তুমি বুঝবে না আমি বন্ধুদের কত ভালোবাসি... আমি ভেবেছিলাম তুমি অন্তত বুঝবে...", ইত্যাদি।

কলেজের বন্ধুরা যখন দু-এক সপ্তাহ পরপর মিটআপ করছে, তখন সে বাইরে থাকছে। ফেসবুকে নানান পদের স্ট্যাটাস দিচ্ছে, দুঃখগাথা গাইছে, মানুষজন তাতে কমেন্ট করছে, সে-ও প্রতিউত্তর করছে। সবমিলিয়ে দুঃখজনক এবং অস্বাভাবিক এক অবস্থা। এদিকে কলেজের বন্ধুরা সবাই তার উপর বিরক্ত- এসব বন্ধু ছুটে যাবার উপক্রম হয়েছে কিংবা প্রায় ছুটে গিয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে 'প্রেম করা' নিয়ে যখন একদিন তার সাথে কথা হলো, তখন সে বললো, "কেনো, একজন মানুষ কি আরেকজনকে ভালোবাসতে পারে না ?"
আমি বলেছিলাম, "হ্যাঁ, অবশ্যই পারে। কিন্তু সেই ভালোবাসার প্রকাশটা কী রকম, আর সেইরকম ভালোবাসার প্রকাশকে ইসলাম অনুমোদন করে কিনা, তা দেখতে হবে।"
মেয়েটি তার নিজের বয়ফ্রেন্ড থাকার বিষয়টি আমার সামনে জাস্টিফাই করতে চেয়েছিলো। কিন্তু কোনো যুক্তি তার মুখে এলো না। এখন, এই যে সে একটা ছেলের সাথে 'লাইফ' 'শেয়ার' করছে, তাকে 'ভালোবাসছে' (এই ভালোবাসার প্রকাশটা কিন্তু অবশ্যই লক্ষ্য করার মতন ব্যাপার, কিন্তু আমি জানি না বলে লিখতে পারলাম না। তবে, বিবেকের বাইরে গিয়েই যে তা হচ্ছে- এতো নিশ্চিত।), এর ফলাফল কী ?
ফলাফল এই যে একজনের সাথে যেহেতু লাইফ শেয়ার হয়েই যাচ্ছে, সেহেতু অন্য বন্ধুদের সাথে শেয়ারিং স্বাভাবিকভাবেই কমে আসছে। তাইতো আমি একদিন কলেজের এক ফ্রেন্ডের কথা জিজ্ঞাসা করায় বলেছিলো, "যোগাযোগ রেখে কী লাভ !" এদিকে বন্ধুদের সাথে নিজের প্রয়োজনে যোগাযোগ করা চলতে থাকলো ঠিকই। তখন স্বাভাবিকভাবেই বন্ধুরা বললো- মেয়েটা স্বার্থপর। হয়তো সে বন্ধুদের মনে মনে খুব ভালোবাসে, কিন্তু তার প্রকাশটা এমনই যে যোগাযোগ হয় শুধু নিজের প্রয়োজনে। আর অন্যসময় যোগাযোগের ক্ষেত্রে পারিবারিক সমস্যা উপস্থিত হয়। এদিকে বয়ফ্রেন্ডটির সাথে যোগাযোগ ঠিকই চলতে থাকে।

সবমিলিয়ে অস্বাভাবিক এক অবস্থা। এই বয়ফ্রেন্ডটিকে যদি সে শেষমেষ বিয়ে করতে না পারে, তখন বিষয়টা কেমন দাঁড়াবে ? পাঁচ-ছয় বছর একটা ছেলের সাথে অবিবাহিত অবস্থায় লাইফ শেয়ার করে বিয়ে হবার পর আবার আরেকটা মানুষের সাথে লাইফ শেয়ার শুরু করা।
দুইবার সংসার করা- একবার অবিবাহিত অবস্থায়, একবার বিবাহিত অবস্থায়। আমার জানতে ইচ্ছে হয়, এমন ঘটলে তখন তার স্বামীটি যদি জানতে পারে, তখন তাদের সংসারটি কেমন হবে ? পরস্পর পরস্পরের প্রতি কতটুকু বিশ্বস্ত থাকতে পারবে ? বিবেক তাকে কতটুকু দংশন করবে ? নাকি সে সময়ে পৌঁছবার আগেই বিবেককে মাটিতে আছড়িয়ে তার জান বের করে দেবে ?

এই যে এজাতীয় জীবনযাত্রা, এগুলো কি ভালো ? মোটেও ভালো ? একটা ভালো কিছু বয়ে আনে ?
কিন্তু এখন তাকে বিবেকের কথা শুনাতে গেলে সে সব কথা শুনবার পর একহাতে সমস্ত কথা ঠেলে আরেক হাতে ফোনকল রিসিভ করবে।

এই জেনারেশানের কী হয়েছে ? এমন হয়ে যাচ্ছে কেনো সব ? দু-একজন বন্ধু এমন থাকলে মেনে নেয়া যায়, কিন্তু যখন দেখি শতকরা নিরানব্বই ভাগ বন্ধু-বান্ধবই কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবেকের কথা মোটেও শোনে না, ইসলামী অনুশাসনের ধারেকাছ দিয়েও যায় না- তখন কেমন লাগে ?
এই অনুভুতি তারা কখনোই বুঝবে না।

.............................................................................................................................................................
(ব্লগ লিখতে গিয়ে যাদের ব্যক্তিগত কথা এই পোস্টে চলে এসেছে, তাদের কাছে কোনো অজুহাত দেখাতে চাই না। তাদেরকে বলতে চাই- তোমাদের ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে এই ব্লগ না, সেজন্যেই নাম উল্লেখ করি নি। তবুও, ক্ষমাপ্রার্থী।)


নূরে আলম,
অগাস্ট ২৮, ২০১১।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…