সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রকমারি - ১

আমার ছাত্র সাজিদ। ক্লাস এইটে পড়ে, মনিপুর স্কুলে। আমি তাকে ইংরেজী পড়াই। এক বছর হলো পড়াচ্ছি।
বাসায় এসে প্রথমে সে চেয়ারে বসে। আমি হয়তো বলি -- একটু বসো, আমি নামাজটা পড়ে আসি। কিংবা, এখনও ভাত খাই নি ভার্সিটি থেকে এসে, আমি একটু খেয়ে আসি। সে বসে পত্রিকা দেখতে থাকে। তারপর আমি আরেকটা চেয়ার নিয়ে আসি। টেবিলের এক পাশে রেখে বসি। আমি বসামাত্রই সে "হাহ....." করে দম ছাড়ে। এটা ঘটবেই। এমন নয় যে সে ক্লান্ত, কয়েক মিনিট পথ হেঁটে এসেছে, চেয়ারে বসে দম ছাড়ছে। কিন্তু না -- আমি দশ মিনিট পরেই আসি কি সাজিদ চেয়ারে বসবার পরপরই আমার চেয়ারে বসি -- সে দম ছাড়বেই ! তার এই দম ছাড়ার বিষয়টি আমার চেয়ার বসার সাথে সম্পর্কিত। মাঝে মাঝে এমন হয় -- আমি হয়তো খেয়াল করি নাই ও দম ছাড়লো কিনা, আমি হঠাৎ জিজ্ঞাসা করি -- কী ব্যাপার, আজকে সাজিদ দম ছাড়লে না ? তখন সে হেসে বলে -- হুম, ছাড়সি। :D
এবার আমার ঘটনা। সেদিন গুগলে চ্যাটিং হচ্ছে কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং এর এক ছাত্রীর সাথে। সে নতুন নতুন বাংলা লেখা শিখেছে। আমি বাংলায় চ্যাটিং শুরু করেছি দেখে সেও আমাকে "দেখিয়ে" দেবার জন্য বাংলায় রিপ্লাই দেওয়া শুরু করলো। তারপর আমাদের কনভার্সেশান এমন :
M : -- পড়া লেখা কেমন চলছে ?
আমি -- ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস ছাড়া বাকিগুলো ভালোই। তোমার ?
M : -- হুম। আমার মতামুতি.... ঃপ :p
আমি -- হা হা হা.... হি হি হি... হো হো হো... :D :P

আমার হাসা শেষ। এবার আপনারা হাসুন। (বি:দ্র: সে ফোনেটিকে লিখেছে)


অস্বস্তিকর ঘটনা বলি। আপনি দূর থেকে দেখছেন "অমুক" আপনমনে নাকে অঙ্গুলি চালনা করছে। তারপর আপনার সাথে চোখাচোখি হলো, আপনি এগিয়ে গেলেন বা সে এগিয়ে এলো, তারপর ভদ্রতা দেখিয়ে করলেন হ্যান্ডশেইক !

ডাইনিং টেবিলে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে, গেস্ট আছেন একজন। গেস্ট অতি ভদ্র মানুষ। আপনি নিজের জন্য আরেক চামচ ভাত তুলছেন, আর গেস্ট বললো -- না না, আর দেবেন না। তখন কী আর করা -- তাকেই দিয়ে দিলেন। :D

বাসের সিটে বসে আছেন। শা*** কন্ডাক্টর ঠেসে ঠেসে লোক উঠিয়েছে। গায়ের উপর এসে পড়ছে প্রায়। আপনার ঠিক সামনেই একটা ছেলে, প্রায় নেমে যাওয়া জিন্স পরে বেশ করে দাঁড়িয়ে আছে ! তার অত্যাধুনিকতা দেখে ইচ্ছে হচ্ছে কষে লাথি বসাই -- কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না ! :$

আমার ছাত্রী তন্বী। আমি তাকে ইংরেজী পড়াই। টাইমলাইন এঁকে টেনস পড়াচ্ছি, এমন সময় অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন -- কলা ভেরি অর্থ কী ? !!! আমি বললাম -- জিঘাংসা। তারপর বুঝিয়ে দিলাম জিঘাংসা অর্থ কী। আর যেহেতু আমি ইংরেজীর শিক্ষক, তাই সাথে তার ইংরেজীটাও বলে দিলাম। তারপর একদিন : আমি পড়াচ্ছি : "I've read রবীন্দ্রনাথ।" কিংবা "I've read নজরুল" মানে হলো, আমি নজরুল, রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, গল্প, এগুলো পড়েছি। তখন সে আমাকে জিজ্ঞাসা করছে -- উপন্যাস কী ? এটা কি ভালোবাসার গল্প ?
আমি বললাম -- ঠিক তা নয়, উপন্যাস হলো বড় ধরণের গল্প।

আমাকে ইউনিভার্সিটিতে CSE 212 জিজ্ঞাসা করছে -- এই মাসুদ, কলাভেরি অর্থ কী ?
আমি বললাম -- এটা তামিল শব্দ, অর্থ হচ্ছে -- rage.
-- rage অর্থ কী ?
-- rage অর্থ জিঘাংসা।
-- জিঘাংসা মানে কি কৌতুহল ?
আমি কী বলবো তখন !

আমার দুই বন্ধুকে আমি বারকয়েক বলেছি, তারা যেনো আমার কাছে ইংরেজী পড়তে বসে, কারণ তাদের ইংরেজীতে এমন সব ভুল হয় যা অপমানজনক। সেদিন তারা আমার কাছে এসেছে। আমি প্রথমেই দুজনকে দুটো কাগজ হাতে ধরিয়ে বসিয়ে দিলাম -- যত verb মনে আসে, লেখো। একজনের লেখার গতি আরেকজনের অর্ধেক। কারণ তার মাথায় তখন বিয়ের দাওয়াত খাওয়া আর তাস পিটানোর চিন্তা ! সে যাক। দুজনই আমাকে জিজ্ঞাসা করছে -- kiss লিখতে পারবো তো ? আমি বললাম -- চিন্তা কোরো না, ওজাতীয় শব্দগুলো যে তোমরা জানো, সেটা আমি জানি। আমি ঐ সংখ্যা যোগ করে দেবো ! :D

বোনের বান্ধবীকেও বিনে পয়সায় পড়িয়েছি ক'দিন, সম্ভবত আরো পড়াতে হবে। সে অত্যন্ত সাধারণ শব্দের ভুল উচ্চারণ করে মাঝে মাঝে, যখন আমি তাকে দিয়ে Wren & Martin পড়াই। আমি হাসতে চাই না, কিন্তু যীনাত হেসে দেয়। তখন বুড়ো ছাত্রী বলে -- আরে আমি চোখে দেখি না !
(ছাত্রী, রাগ কইরো না ! :p)
হা হা হা....

কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং পড়ি বলে অনেকে মনে করে, আমি হলাম টাইপিং শেখা, মাইক্রোসফট অফিসের প্রবলেমের সমাধান জানা -- ইত্যাদির জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। কিংবা কারো কিছু টাইপ করে দেওয়া, ইন্টারনেটে নিউজপেপার বের করে দেওয়া, অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে দেওয়া... :((
গুগল প্লাসে ইদানিং কিছু ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। এই প্রসঙ্গে দেওয়া যেতে পারে বলে মনে হলো।
মনোযোগ দিয়ে দেখুন।




আমার সম্পর্কে বিশেষ কিছু ভেবে থাকলে এখনই জেনে নিন আসল অবস্থা-- সব রহস্য ফাঁস করে দিলাম। তবে গুগল সার্চে আমার বিশেষ দক্ষতা আছে (বলে আমি মনে করি !), আমি আর কিছু না পারলেও এই কাজটা পারি। একাজে দরকার হলে আমাকে বলতে পারেন !

ব্লগ শেষ !


নূরে আলম,
মার্চ ১১, ২০১২।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…