সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মতিঝিল গণহত্যা বিষয়ে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন : একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

৫ই মে'র গণহত্যার ইন্টারন্যাশনাল কাভারেজকে ইসলাপন্থীরা গুরুত্বসহকারে প্রচার-প্রকাশ করছেন। কিন্তু একইসাথে খেয়াল রাখা দরকার যে, ৫ই মে সহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে ইসলাম সার্বিকভাবে জড়িত, এবং ইসলামের বিষয়ে এই মিডিয়াগুলোর অ্যালার্জির কথা অজানা নয়। এজন্যে এদের বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।

আমি সাধারণত এগুলো পড়ে দেখি না। কয়েকটা কারণে :
১. বাংলাদেশের বিষয়ে বাস্তবতা জানার জন্য আমাকে বিদেশী (এবং বাংলাদেশের শত্রু দেশের) মিডিয়ার শরণাপন্ন হতে হবে না।
২. ইসলামবিরোধী দেশগুলোর মিডিয়া সত্য-মিথ্যা বিকৃত করে কী লিখলো, এটা জানা থাকা দরকার বটে, কিন্তু সেটা দরকার পড়লে ঐ তারিখের নিউজ বের করে দেখা যাবে। তারা সাধারণত বাংলাদেশের আওয়ামী সরকারের মত নিউজ / তথ্য গুম করে না।

মোটামুটি একই কারণে আমি পড়ি না প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, বিডিনিউজ২৪, ইত্যাদি। কারণ কোনো ঘটনায় ওরা কী নিউজ করবে তা ওদের আগেই লিখে দেয়া সম্ভব।

যাহোক, ইকোনমিস্টের আগামীকালের প্রকাশিতব্য ম্যাগাজিনের এই লেখাটি অনলাইনে এসেছে : 
Political violence in Bangladesh
In hot blood
The killing of Islamist hardliners promise further instability


আমি আগে থেকেই বলি যে প্রথম আলোর হলুদ সাংবাদিকতার গুরু হলো ব্রিটিশ মিডিয়া, বিশেষত বিবিসি। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস করে ইকোনমিস্ট সম্প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে। যাহোক, তাদের এই প্রতিবেদনের "হলুদ" অংশগুলো দেখুন :

1. European diplomats say as many as 50 people were killed as security forces cracked down on members of an extreme Islamist group, Hefajat-e-Islam.
অনুবাদ : চরমপন্থী ইসলামি দল হেফাজতে ইসলামের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর ক্র্যাকডাউনে ৫০ জনের মত নিহত হয়েছে বলে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।

[লক্ষ্য করুন, হেফাজতে ইসলামকে চরমপন্থী ইসলামী দল বলে বিশ্বে পরিচিত করা হচ্ছে। শিরোনামেও হেফাজতকে Islamist hardliners বলে উল্লেখ করা হয়েছে।]

2. Just what happened remains murky, not least because a cowed local press has kept largely silent. Before opening fire in Dhaka, police cut the power supply in the city's commercial area.
অনুবাদ : আদতে কী ঘটেছিলো তা অস্পষ্ট রয়ে গিয়েছে, শুধু এই কারণে না যে ভীত সংবাদ সংস্থাগুলো নিরব ছিলো; গুলি চালানোর আগে ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

[লক্ষ্য করুন, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভিকে ঐ রাতে বন্ধ করে দেয়া এবং দিগন্ত টিভির যন্ত্রাংশ ও ডকুমেন্টস লুট করার কথা উল্লেখ নাই। এবং নীরব থাকা মিডিয়াগুলোকে সরকারের ভয়ে "ভীত" হিসেবে বলা হয়েছে, বাস্তবে এই মিডিয়াগুলো সরকারের প্রচারযন্ত্র, সরকারের অপকর্মের সঙ্গী।]

3. Other Taliban-style demands were for an end to Bangladesh's pro-women development policy, a ban on men and women mixing in public; an end to "shameless behaviour and dresses"; and a call for the gentle Ahmadiyya sect to be declared non-Muslim.
অনুবাদ : অন্যান্য তালিবান-স্টাইল দাবীগুলো হলো বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাতিল করা, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষ মেলামেশা বন্ধ করা; নির্লজ্জ পোশাক এবং আচার-আচরণ বন্ধ করা; এবং নিরীহ আহমদিয়া গোত্রকে অমুসলিম ঘোষণা করা।

[লক্ষ্য করুন : হেফাজতের দাবীগুলোকে তারা  "তালিবান-স্টাইল" বলছে, যেই তালিবানদের তারা বিশ্বে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত করিয়েছে। এবং --
হেফাজতের দাবী ছিলো "ইসলাম বিরোধী" নারী নীতি বাতিল করা, গণহারে "নারী উন্নয়ন নীতিমালা" বাতিল নয়।
হেফাজতের দাবী ছিলো নারী-পুরুষের "অবাধ" মেলামেশা বন্ধ করা, আমার মনে হয় না ইকোনমিস্ট অবাধ মেলামেশার ইংরেজি অনুবাদ "free-mixing" কথাটা জানে না।
"নির্লজ্জ পোশাক এবং আচার-আচরণ" বন্ধের কথা হেফাজতের ১৩ দফায় ছিলো বলে মনে পড়ে না, তবে ব্যাভিচার ও অশ্লীলতা বন্ধের কথা ছিলো। "ব্যাভিচার" আর "নির্লজ্জ আচার-আচরণ" এক কথা নয়।
হেফাজতে ইসলাম চরমপন্থী ইসলামী দল, আর আহমদিয়ারা (কাদিয়ানী) "নিরীহ", তাই না ? এবার মিলিয়ে দেখুন প্রথম আলোর হলুদ সাংবাদিকতা : হেফাজতের "তাণ্ডব", আর পুলিশের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট।]

4. Such regressive calls go entirely against the moderate Islam practised by most Bangladeshis,...অনুবাদ : অধিকাংশ বাংলাদেশী যে মডারেট ইসলামের চর্চা করে, পশ্চাৎমুখী এইসব দাবী তার নিতান্তই বিরুদ্ধে...

[লক্ষ্য করুন : হয় আমরা চরমপন্থী মুসলিম, নয় ওদের সংজ্ঞায়তি মডারেট মুসলিম, নয়তো ওদের তৈরী নিরীহ কাদিয়ানি মুসলিম; "প্রকৃত ইসলাম" বা শুধু "ইসলাম" বলে ব্রিটিশদের কাছে কিছু নেই। এবার খেয়াল করে দেখুন পুলিশের গুলির বিপরীতে হেফাজতের ছোঁড়া ইট-পাটকেল, টিয়ার সেল থেকে বাঁচতে জ্বালানো আগুন, ইত্যাদি নিয়ে শাহবাগিদের বক্তব্য : "ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে  কোন ধরণের ইসলাম বাস্তবায়ন করতে চায় হেফাজত?"
কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন ? অর্থাৎ, মূল ইসলাম বা শুধু ইসলাম বলে কিছু নেই; ইসলাম অনেক প্রকার, তার মাঝে এক প্রকার হলো শাহবাগি নিরীহ (শয়তানের বশংবদ) ইসলাম, আরেক প্রকার হলো হেফাজতের তালিবানি স্টাইল জিহাদী সহিংস সশস্ত্র ইসলাম। তারপর, "ইসলামে কি আছে যে মসজিদের কার্পেটে আগুন দিতে হবে ? পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা - এটা কোন ধরণের ইসলাম ?" অর্থাৎ, ওরা চায় আচার-সর্বস্ব "নিরীহ" ইসলাম, যেই ইসলামে "জিহাদ" বলে কোনো শব্দ নেই, যেই ইসলাম জানে না "প্রতিরোধ", যার অনুসারীরা রক্তের বদলা নেয় না, যারা গুলির মুখেও চুপ করে থাকে। এই ইসলাম-ই তো শাহবাগিরা চায়। এদেরকে যে কোথা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ব্রেইন ওয়াশিং যে কোথা থেকে দেয়া হয়, ইনপুটগুলো যে কোথা থেকে আসে, তা বুঝতে কি আরো প্রমাণ লাগবে ?]

5. The BNP's Islamist credentials are growing more explicit.
অনুবাদ : বিএনপির ইসলামিস্ট পরিচয় আরো পরিষ্কার হচ্ছে।

[লক্ষ্য করুন : বিএনপি হেফাজতকে সমর্থন দেয়ায় ইকোনমিস্ট ক্ষুণ্ণ, এবং তারা এটা পছন্দ করছে না যে বিএনপি ইসলামপন্থীদের ইসলাম সংক্রান্ত দাবীতে সমর্থন জানাচ্ছে। এতে তারা শঙ্কিত। এবার মিলিয়ে দেখুন সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মুখে একই কথা : "খালেদা জিয়া হলো জামাতে ইসলামীর মহিলা আমীর।" কোনো মিল খুঁজে পান ?]

6. It remains allied to Jamaat-e-Islami, a religious party that serves as a standard-bearer for Saudi Arabia's strident strand of Islam.
অনুবাদ : সউদি আরবের রুক্ষ ইসলামের প্রচারক ধর্মীয় দল জামাত-ই-ইসলামীর মিত্র হিসেবে আছে বিএনপি।

[লক্ষ্য করুন : আরেক প্রকার ইসলাম তারা আবিষ্কার / তৈরী করেছে : সউদি আরবের রুক্ষ ইসলাম : Saudi Arabia's strident strand of Islam। এবার মিলিয়ে দেখুন বাংলাদেশে কারা জামাতের সাথে সউদি কানেকশান প্রচার করতে সরব। শাহবাগি এবং সমমনারা যে রেডিওর মত দূর নিয়ন্ত্রিত বুদ্ধিহীন প্রচারযন্ত্র, তা বুঝতে কি আরো প্রমাণ লাগবে ?]

7. A war-crimes tribunal will continue issuing verdicts on trials of Islamist hardliners, nearly all of them leaders of Jamaat, over atrocities committed during the 1971 war of independence from Pakistan.
অনুবাদ : ১৯৭১ এর পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কট্টর ইসলামপন্থীদের বিচারের রায় দিতে থাকবে, যাদের প্রায় সবাই-ই জামাতের নেতা।

[লক্ষ্য করুন : alleged শব্দটা ব্যবহার করে নাই। এবং জামাতের নেতারা "কট্টর ইসলামপন্থী" বলে ব্রেইনওয়াশিং দেওয়া হচ্ছে।]

..................................................

খেয়াল করে দেখুন, বাংলাদেশের বিষয়াবলী কত গভীরভাবে তারা পর্যবেক্ষণ করে, এবং তারপর সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে বিশ্ববাসীকে সহ তাদের জনগণের ব্রেইনওয়াশিং করে ! তার বিপরীতে আমাদের দেশের ক'টা মিডিয়া আমেরিকার অভ্যন্তরীন বিষয়, ব্রিটেনের বিভিন্ন দলের আচরণ, বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণামূলক লেখা লেখে ? ক'জন ব্যক্তি লেখে ? কেউ না। একটাও না।

একটা দেশকে দখলে রাখতে হলে, সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, তারপর তার বুদ্ধিজীবিদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেখানে নিজস্ব মতাদর্শের লোক তৈরী করতে হয়। তারা তো তৈরীও করেছে : প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, Daily Star, Daily Sun, বিডিনিউজ, বাংলানিউজ, সময়, ৭১, ATN....।

মিথ্যার প্রচারে অসংখ্য যন্ত্রপাতি-কলাকৌশলের প্রয়োজন হয়। ইসলামের রাস্তা সহজ এবং সরল। তার প্রচার প্রসারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় না। আমাদের মিডিয়া নেই এটা নিশ্চয়ই দুর্বলতা, কিন্তু তার বাইরে ইসলামের প্রচার-প্রসারই বা কতটুকু ? মানুষকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার চেষ্টাই বা কতটুকু ? যারাও বা বিচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তারাও পারস্পরিক যোগাযোগের অভাবে অসহায় ও একলা বোধ করছেন।

..................................................

শেষ কথা : অমুসলিম রাষ্ট্র ও মিডিয়া কী বললো বা বিবৃতি দিলো, তা দিয়ে মুসলমানদের অপকার বৈ উপকার হওয়ার কথা না। বিপদে পড়ে মুসলমানেরা অমুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহায়তা চাইবে, জাতিসংঘ, US government এর কাছে পিটিশন করবে, মামলা দায়ের করবে, এটা একদিকে যেমন মুসলমানদের জন্য অপমানজনক, অপরদিকে তেমনি নীতিবিরুদ্ধ এবং আত্মঘাতমূলক। মুসলমানদেরকে আল্লাহ মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মধ্যমপন্থী -- যারা উভয়ের কথা শোনে, এবং অতঃপর সর্বশ্রেষ্ঠ আইনগ্রন্থ কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিচার করে।

মুসলমানেরা অন্যের কাছে ন্যায়বিচার দাবী করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই দুনিয়ার বুকে শ্রেষ্ঠ বিচারক।


নূরে আলম
মে ১০, ২০১৩।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…