সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

৫ই মে ২০১৩ : বাংলাদেশে ইসলামের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

৫ই মে ২০১৩। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে ইসলামের ইতিহাসের একটি অধ্যায় সূচিত হলো। জয়-পরাজয়ের এই অধ্যায়ের সূচনা থেকে যে উপলব্ধি ও শিক্ষাগ্রহণ, তা এখানে লিখে রেখে যেতে চাই।

ঘটনার শুরুটা এরকম ছিলো :
৫ই মে ফজরের পর থেকেই ঢাকার ৬টি প্রবেশমুখে লক্ষ লক্ষ মানুষের অবরোধ, বেলা বাড়ার সাথে সাথে মোট সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। উপস্থিত পুলিশদেরকে নিজেদের খাবার-পানি-শরবত দিয়ে আপ্যায়ন করলো হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। দুপুর থেকে সেই অ্যাপ্যায়নের জবাব হিসেবে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ শুরু হলো, এবং থেমে থেমে চলতে লাগলো। আন্দোলনের নেতা আহমদ শফি সাহেব মতিঝিলের মঞ্চে পৌঁছাতে পারলেন না নিরাপত্তার অভাবে। অনির্দিষ্টকালের অবস্থান শুরু হলো মতিঝিলে। সন্ধ্যার আগ দিয়ে জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে দুটি লাশ প্রবেশ করলো মঞ্চে; সেই লাশ দেখে কান্না উত্তেজনায় পরিণত হলো। মানুষজন রাস্তার আইল্যান্ডের গাছের ডাল ভেঙে নিতে শুরু করলো। এটি ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দেবার ডিসাইসিভ মোমেন্ট। ইতিহাস বদলে দেবার জন্য তখন প্রয়োজন ছিলো শুধু একটি নির্দেশের : রক্তের বদলা নিতে যুদ্ধে নেমে পড়া। পরিবর্তে নির্দেশ এলো শান্ত থাকার, ধৈর্য ধারণ করার এবং জিকির করার। কিন্তু শয়তান আরো দ্রুত কাজ করছিলো।

পল্টনে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছিলোই, এমতাবস্থায় গভীর রাতে যা করা হলো :
বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে পুরো এলাকা অন্ধকার করে দেয়া হলো, বিভিন্ন টিভির লাইভ সম্প্রচার তো আগেই জোরপূর্বক বন্ধ করেছিলো, সেইসাথে উপস্থিত সকল মিডিয়াকর্মীকে সরিয়ে দেয়া হলো স্পট থেকে। দিগন্ত টিভির সম্প্রচার যন্ত্র খুলে নিয়ে যাওয়া হলো, বন্ধ হয়ে গেলো দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার। এরপর রাত আড়াইটায় কিছু জিকিররত এবং কিছু ঘুমন্ত ও ক্লান্ত মানুষের উপর তিন বাহিনীর ১০-১২ হাজার সদস্য ক্র্যাকডাউন শুরু করলো। RAB, পুলিশ ও বিজিবি হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ির ছাদ থেকে প্রফেশনাল শ্যুটার দিয়ে গুলিবর্ষণ এবং মাটিতে থাকা বাকি সকলে থামতে নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ৪০-৪৫ মিনিট ধরে গুলি চালালো। সেইসাথে পিপার স্প্রে, জলকামান, হ্যান্ড গ্রেনেড, সাউন্ড গ্রেনেডসহ হেভি আর্টিলারি, রায়টকার ছিলো। লক্ষ লক্ষ ক্লান্ত, নিস্তেজ ও ঘুমন্ত মানুষের মাঝে যারা বেঁচে পালাতে পারলো, তাদেরকেও ঢাকার সীমানা ত্যাগ করার আগেই খুঁজে খুঁজে ধরে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হলো। আর কিছু অংশে অভিযানের নাটক চিত্রায়িত করা হলো, এবং এতক্ষণ অনুপস্থিত থাকা সময় টিভি, একাত্তর টিভি, এরা সেগুলো ধারণ করলো : পিকআপ ও বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা হেফাজত কর্মীদেরকে পুলিশ গুলি করছে না, এমনকি লাঠি দিয়ে মারছেও না, কেবল লাঠি দিয়ে মারের ভঙ্গি করে ভয় দেখিয়ে "যা, ভাগ, পালা, দৌড় দে" ইত্যাদি বলে তাড়িয়ে দিচ্ছে। অল্প কয়েকজন পড়ে থাকা মানুষকেও ভিডিও করলো তারা। কিন্তু বাকি লক্ষ লক্ষ মানুষ কোথা দিয়ে কিভাবে কোথায় গেলো এবং তাদের কী হলো, সেই শাপলা চত্বরের চতুর্দিকের ভিডিও তারা দেখালো না।

ভোর হবার আগেই ৮-৯টি বা তারও বেশি (২৫টিও হতে পারে) ময়লার ট্রাকে করে লাশ গুম করা হলো, তুরাগসহ তিনটি নদীতে, এবং পিলখানায় বিজিবির হেডকোয়ার্টারে। রক্তের চিহ্ণ যথাসম্ভব মুছে ফেলা হলো। ফজরের নামাজ শেষে উঠে ল্যাপটপে অসংখ্যা লাশের ছবি-ভিডিও দেখলাম, কিন্তু সবই ফেইসবুকে, মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলোতে নয়। যারা কাভার করতো, তাদের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো আগেই।

কেউ কখনোই সঠিক জানবে না সেই এক-দেড় ঘন্টার গণহত্যায় আসলে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইসলামবিরোধী পত্র-পত্রিকাগুলো ৩, ৫, ৮ ইত্যাদি লিখছে, কেউবা বলছে ৫০-৫২, আর ফেইসবুকের ছবিতে অসংখ্য। অনেকে গোপন সূত্রে বিভিন্ন মিডিয়া কর্মী ও পুলিশ-বিজিবি সদস্যের বরাত দিয়ে বলছে যে কমপক্ষে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম দাবী করেছে ৩ হাজার আলেমকে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আসলেই অজানা, সেটা এমনকি দশ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উপলব্ধি এই যে, মুসলমানের জীবনের দাম সংখ্যা দিয়ে নিরূপন হয় না। যখন থেকে আমরা মুসলমানের মৃত্যুর "সংখ্যাকে" দাম দিতে শুরু করেছি; যখন থেকে ৫ এর চেয়ে ১০ এর দাম বেশি, তার চেয়েও আমাদের কাছে দাম বেশি ১৫০ জনের কিংবা আজকের শহীদ ৩০০০ জনের, তখন থেকেই আমরা শহীদের সিঁড়িতে উঠে পড়েছি।
যখন ৫ জন মুসলমানকে হত্যার বদলা না নিয়ে আমরা "পাঁচ জন !" এই সংখ্যার ভয়াবহতা নিয়ে পড়লাম, তখন শয়তান জেনে গেলো যে ৫ জনকে হত্যা করলে তারা পার পেয়ে যাবে। যখন এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ১৫০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করলো তারা, এবং আমরা বদলা না নিয়ে, পাল্টা আঘাত না করে শত্রুর পাশবিকতার প্রমাণস্বরূপ সংখ্যা নিয়ে প্রচারণা-ব্যবসা শুরু করলাম; হত্যার বদলা নেবার চেয়ে "১৫০" সংখ্যাটির ভয়াবহতা প্রচার আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো, তখন শত্রু বুঝে গেলো যে, ১৫০ জনকে হত্যা করলে তারা পার পেয়ে যাবে, আমরা বদলা নেবো না। যখন ৫ই মে দিবাগত রাতে ৩ হাজারে অধিক মানুষকে তারা হত্যা করলো, এবং আমরা বদলা না নিয়ে দোয়া দিবস পালন এবং সংখ্যা নিয়ে শত্রুর সাথে কাড়াকাড়ি শুরু করলাম, তখন তারা ৩ হাজারের অধিক মানুষকে হত্যা করার সাহস পেয়ে গেলো; জেনে গেলো যে ভবিষ্যতেও যখন তারা ৩ হাজার মানুষকে শহীদ করবে, তখনও আমরা শত্রুর সাথে সংখ্যা নিয়েই কাড়াকাড়ি করবো, এবং তাদের কাছে ও বিশ্বের কাছে বৃহৎ সংখ্যার প্রমাণ হাজির করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকবো।

মুসলমানের জীবন তো পয়সার মত খরচ করার জিনিস নয় যে যত খরচ করবো, তত দামী জিনিস বিনিময়ে পাবো ! এটা তো এমন নয় যে ৩০ জনের জীবনের বিনিময়ে একদিনের হরতাল কিনবো, ১৫০ জনের জীবন খরচ করলে বিখ্যাত আলেমকে মুক্ত করতে পারবো, ৩ হাজার জনের জীবন খরচ করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পাবো, আরো ৫ হাজার খরচ করলে সরকারে যাবো আর লক্ষাধিক জীবন খরচ করলে ইসলামী রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবো ! মুসলমানের জীবন তো পয়সার মত খরচ করার জিনিস নয় ! শহীদের সংখ্যার যেই সিঁড়িতে আমরা উঠতে শুরু করেছি, অতি সত্ত্বর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তা থেকে নেমে সমতলে না আসলে আমরা আল্লাহর কাছে জালিমের সহায়তাকারী হিসেবে পরিগণিত হবো। এবং এই ক্ষতির চেয়ে বড় ক্ষতি আর নাই।

৫ই মে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে ইসলামের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এর সূচনাকারী মাহমুদুর রহমান, প্রথম নেতৃত্বদানকারী আল্লামা আহমদ শফী; এবং এই অধ্যায়ের কেবল শুরু : এতে আরো নাম যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।  বাংলাদেশের গণ মুসলমান বড় আশা করে হেফাজতে ইসলাম ও আহমদ শফী সাহেবের দিকে তাকিয়ে ছিলো। ৫ই মে দিবাগত রাতের হত্যাযজ্ঞের পর তাদের অনেকেরই হয়তো আশাভঙ্গ হয়েছে, অনেকেই হতাশ হয়েছেন। কাফির-মুনাফিকদের কথায় পরে আসছি, কিন্তু আমরা ইসলামপন্থীরা ৫ই মে তে একদল জয়ী হয়েছি, এবং একদল হয়েছি পরাজিত। জয়ী হয়েছেন সেই লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা সৎ নিয়তে আল্লাহ-রাসূলের ভালোবাসায় জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছেন, এবং সেই মানুষেরা, যারা শহীদ হয়েছেন। যারা সেদিন মাঠে নেমেছিলেন, তারা পরকালের জন্যে অসীম পাথেয় সংগ্রহ করে পাপমুক্ত হয়েছেন, আর যারা শহীদ হয়েছেন, তারা অতি দ্রুত প্রতিশ্রুত পুরষ্কার পেয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গিয়েছেন। এই সান্নিধ্য আমাদের অতি নিকটে অবস্থান করে, যেকোনো মুহুর্তে চলে যেতে হতে পারে তাঁর কাছে।
আজকের এই গুম হয়ে যাওয়া বিকৃত লাশগুলো জান্নাতের সুবাতাস লাভে এখন ধন্য। অপরদিকে পরাজিত হয়েছে তারা, যারা সামর্থ্য ও দায়িত্ব সত্ত্বেও পথে নামে নাই, যারা আজকে এই গণহত্যা অবলোকন করলো, যারা অতীতেও করেছে, এবং যারা হয়তো ভবিষ্যতেও করবে। তারা পরাজিত হয়েছে, তারা জান্নাতের প্রতিশ্রুতি কিনতে পারে নাই। আর জয়ী হয়েছে তারা, যারা শহীদি মৃত্যুর মাধ্যম সেই প্রতিশ্রুতি কিনে নিয়েছে; আর পুরষ্কার পেতে তাদের বিলম্বও হয়নি।

(কার্যতঃ) গ্রেফতার হবার আগে আল্লামা আহমদ শফী সকলকে সর্বোচ্চ সংযম ও ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন। এই আদেশে অনেকে ক্ষুব্ধ, অনেকে মনোক্ষুণ্ম। বিজয় সবসময় প্রত্যাশিত পথে আসে না। বিজয় একদিনেও অর্জিত হয় না। ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকা এই সময়ের সবচে' কঠিন এবং সবচে' গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে এই শান্ত হবার মানে নমনীয় হওয়া নয়। যখন আমি এই ব্লগ লিখছি, তখনও থেমে থেমে সরকারী সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে হেফাজত কর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিদের চিৎকার, কান্না কানে ভেসে আসছে, আজ ফজরের পর থেকেই এমনটা চলছে। এই শান্ত হওয়ার মানে নমনীয় হওয়া নয়, এই ধৈর্য ধারণের মানে দায়িত্ব ও কর্ম ত্যাগ করা নয়। এই ধৈর্য ও সংযম এর অর্থ বিচার-বিশ্লেষন, শিক্ষা গ্রহণ ও উপলব্ধি। এর অর্থ দৃঢ়তা অর্জন, এবং মাহমুদুর রহমান ও আল্লামা শফী যেই আলোর ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন, সময়ের সাথে তা বহন করা।

বৈশ্বিক ইসলামী গণজাগরণের বাংলাদেশের চিত্র আমরা অবলোকন করছি। এই ইতিহাসের আমরা সাক্ষী। প্রতিশ্রুত সেই বিজয় সন্নিকটে। এখন আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে কাফির-মুনাফিক শনাক্ত করা। দায়িত্ব হয়ে পড়েছে তাদেরকে সর্বাবস্থায় বর্জন করা, হোক সে বহু বছরের বন্ধু, হোক হে স্বামী, স্ত্রী কিংবা ভাই-বোন। বিশেষভাবে তরুণ সমাজসহ এদেশের গণ মানুষের নৈতিকতা ধ্বংসের যে চেষ্টা গত ত্রিশ বছর ধরে চলে আসছিলো, যার পিছনে দেশী-বিদেশী শক্তির লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়, এবং যেটা গত কয়েক বছরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিলো, তার সবকিছু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো মাহমুদুর রহমান ও আহমদ শফীর নেতৃত্বে। যাদেরকে ইসলাম বিমুখ করার জন্য শয়তানের এত শ্রম, এত চেষ্টা, সেই তরুণ ছেলে-মেয়েরাই ইসলামের পথে অধিক ঝুঁকে পড়লো। যে ছেলে-মেয়েরা ইসলাম ও ইসলামের ইতিহাসের কিছুই জানতো না, তারাই আজকে ইসলামের পথে চলে আসছে, এবং তাদের এই পরিবর্তন হচ্ছে খুব দ্রুত। ইসলামের পক্ষের এই ডেসপারেট তরুণেরাই ভবিষতে এদেশে ইসলামের পতাকা বহন করবে ইনশাআল্লাহ।

একজন মুসলমানের জীবনব্যাপী দায়িত্ব হলো ইসলামের জ্ঞান অর্জন এবং তার প্রচার-প্রসার করা। পাশাপাশি অন্যায়-অনাচার দেখলে তার প্রতিবাদ ও প্রতিহত করাও দায়িত্ব। আমাদের আশেপাশে মানবতার এত দলন, ইসলামের এত বেশি অবমাননা ও মানুষের উপর এত বেশি অন্যায়-অবিচার যে তার হিসাব করে শেষ করা যাবে না। এগুলো মানুষকে ইসলামের দিকে আরো টেনে এনেছে সত্য, তবে যে সংযম ও ধৈর্য ধারণের চর্চা মুসলমান হিসেবে আমাদের সারা জীবনই করতে হবে, তা যেনো এই অন্যায়-অনাচারের প্রতিবাদ-প্রতিহতের কাছে গৌণ হয়ে না পড়ে। আমাদের মূল দায়িত্ব ইসলামকে জানা ও প্রচার-প্রসার করা। যখন ইসলামের আলোয় প্রতিটা মানুষ আলোকিত হয়ে উঠবে, তখন মিথ্যা আপনা থেকেই দূরীভুত হয়ে যাবে। আমি জানি অসংখ্য মুসলমান আজকে দেশে-বিদেশে কাঁদছে, নামাজে মোনাজাতরত  হাত ভিজে উঠছে, এবং এ-ও জানি যে যখনই মুসলমান আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। আমাদের আবেদন, আমাদের সত্য কর্ম নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে পৌঁছেছে, এবং আল্লাহ অবশ্যই তাতে সাড়া দিয়েছেন। আমাদের শুধু ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সঠিক পথে অবিচল থাকতে হবে : আল্লাহ-ই তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করবেন।

আমাদের অনেক ভুল, অনেক ভ্রান্তি। জ্ঞান অর্জন, তার প্রচার-প্রসার এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার পাশাপাশি সর্বদা আল্লাহর কাছে দিকনির্দেশনা চাইতে হবে, ক্ষমা-প্রার্থনার মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, এবং তিনিই উত্তম কুশলী।

নূরে আলম
মে ৭, ২০১৩।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…