সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জাগো.......

খুব বেশিদিন আগে নয় কলেজের ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা হলো। সিলেটের SUST এ পড়ে দু'জন, আর বাকীরা ঢাকার-ই বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে (আমিসহ)। ওদের যেই গেট-টুগেদারগুলোতে আমার যাওয়া হয়, সেখানে হয় পুরোটা সময় আমি চুপ থাকি আর মৃদু-মৃদু হাসি, নয়তো আমিই কথা বলতে থাকি, বাকিরা মাঝে মাঝে দু-চারটা বলার সুযোগ পায় ! সেদিন পরিবেশ অনুকুলে পেয়ে সিরিয়াস নানান বিষয়ে কথা শুরু করে দিলাম। প্রথম কথা শুরু "হয়ে গেলো" "জাগো ফাউন্ডেশান" নিয়ে। শেষমেষ অবশ্য ভাগ্য নির্ধারিত কিনা, এটা নিয়েই তর্ক চলেছিলো।

ঘটনা হলো, জাগো ফাউন্ডেশান বলে যে একটা কিছু আছে, সেটাই জানতাম শুধু। তবে, এটা সম্পর্কে প্রথমেই আমার মতামত নির্ধারিত ছিলো। সেটা হয়েছিলো এইভাবে-- ভাই-বোনদের আড্ডা চলছিলো, আর সেসাথে মেজাপু ফেইসবুকে দু-চারটা ব্রাউজিং করছিলো। তারপর জাগো নিয়ে কিছু লিঙ্ক বের হলো। সবাই সোৎসাহে হলুদ টি-শার্টদের অপকর্মের প্রমাণ দেখলো এবং ছিঃছিঃ করলো, সেইসাথে এর প্যাট্রনাইজ করে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী কী হতে পারে -- সবই বর্ণিত হয়ে গেলো।
আমার ক্লান্ত লাগছিলো বলে সোফার 'পর শুয়েই থাকলাম। বিস্তারিত কিছুই জানার চেষ্টা করলাম না। তবে জানলাম-- এরা ইয়াং জেনারেশানের ব্রেইনকে zombie বানাচ্ছে, বিশেষ উদ্দেশ্যে। এমন যেকোনো বিষয়ে আমার ফ্যামিলির (বাবা-মা, ভাই-বোন) যেকারো মন্তব্যেই আমি সেটা নিশ্চিন্তে সত্য বলে মেনে নিতে পারি, কারণ জানি, সেটা যুক্তি-প্রমাণ বিহীন নয়। সে যাক, ওসব প্রশংসা করতে ব্লগ লিখতে বসি নি।

যাহোক, আমার সেই তথ্য-প্রমাণ বিহীন কিন্তু নিজের কাছে "খাঁটি সত্য" মতামত -- "ফালতু জাগো ফাউন্ডেশান" আমি বেশ জোর গলায় ফ্রেন্ডদের সামনে ঘোষণা করলাম। আমি কি জানতাম লিমন আর নাহিয়ান সিলেট থেকে আসবার আগে জাগোর জন্যে কাজ করে এসেছে ? Protest এর সম্মুখীন হলাম, কিন্তু যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া তেমন কিছু বলতে পারলাম না।
তবুও, কথায় হেরে আসি নি।

ক'দিন আগে অসুস্থতাজনিত বাধ্যতামূলক অবসর কাটাচ্ছি, এমন সময় সেই কথা খেয়াল হলো। সেজাপুকে বললাম, জাগোর সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশান বের করে দেন তো !
আমি সেসব সেইভ করে রাখলাম। অনেক টেক্সট, অনেক ছবি। তারপর আজ পড়লাম, দেখলাম।



পক্ষে-বিপক্ষে অনেক লেখা পড়লাম। জাগোর সাইটে ঘোরাঘুরি করলাম।
"জাগো" কে নিয়ে কথা শুরু করার আগে ছোট্ট একটা কথা বলে নিই। কয়েকদিন আগে যীনাতকে বলছিলাম, এখনকার জেনারেশান এমন যে তুমি যদি বলো-- "এই এই কারণে শেখ মুজিব খারাপ মানুষ ছিলো", তখন সে বলবে-- "তাইতো ! শেখ মুজিব খারাপ।" তারপর ইউনিভার্সিটিতে যাবার পর আরেকজন যখন তাকে বুঝাবে-- "এই এই কারণে শেখ মুজিব ভালো মানুষ ছিলেন", তখন সে বলবে-- "আরে হ্যাঁ, তাইতো ! শেখ মুজিব তো খুব ভালো মানুষ।" আবার তোমার কাছে এসে আরেক কথা শুনলে সেটাই..........। এ হলো যীনাতের এক ফ্রেন্ড সম্পর্কে কথা। আমি ব্লগ লিখতে বসেছি আমার ফ্রেন্ডদের জন্য, যারা যীনাতের ঐ ফ্রেন্ডের মতই। যখন আমার মুখে বড় বড় তত্ত্বকথা শুনবে, তখন বেশ খানিক তর্ক করে একমত হবে, আবার দু-দিন পরে কথা-কর্মে বুঝিয়ে দেবে-- "হেঃ হেঃ, কচু !"

জাগো প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, আমেরিকা ফেরত একুশের যুবক করভী রাখসান্দের নেতৃত্বে, সাতজনকে নিয়ে, রায়েরবাজার বস্তিতে। প্রথম থেকেই জাগো ফাউন্ডেশান বস্তির পাশে রুম ভাড়া করে "পথ-শিশুদের" ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেখা করাচ্ছে। তাদের স্কুল শুধু এদের জন্যেই। এখন তাদের স্কুলে ছাত্র-সংখ্যা ৬০০ এর বেশি। সারাদেশে জাগো এর ৭০০০ এর অধিক ভলান্টিয়ার আছে, এরা সবাই কমবয়েসী, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি লেভেলের। প্রথম প্রথম তারা নিজেদের টাকা দিয়ে স্কুল চালিয়েছে, তারপর বিত্তশালীদের কাছে অনুদান চেয়েছে, তারপর, এই ২০১১ সালে, এখন তাদের অনেকগুরো স্পন্সর, পার্টনার হয়েছে : KFC, Pizza Hut, গ্লোবাল বেভারেজ, ভার্জিন, শার্ক, DHL, ঢাকা ব্যাংক, অ্যালায়েন্স হোল্ডিংস, PATCH, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, EVATIX, ADDCOMM, DFID, আর্কিটেকচার ফর হিউম্যানিটি, গ্রিন ওয়ার্ল্ড, থ্রু দ্য লেন্স-- বাংলাদেশ,  UN HABITAT, Wonderland, Dhaka American Women's Club এবং আরো কিছু।

সমস্ত আবেগ কেটে-ছেঁটে, সারকথায় আসি।
১. পার্টনার / স্পন্সর : নামগুলো একটু কপি করি, অামেরিকান / আমেরিকা সমর্থিত অর্গানাইজেশানগুলোকে চেনা যাচ্ছে ?
"KFC, Pizza Hut, গ্লোবাল বেভারেজ, ভার্জিন, শার্ক, DHL, ঢাকা ব্যাংক, অ্যালায়েন্স হোল্ডিংস, PATCH, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, EVATIX, ADDCOMM, DFID, আর্কিটেকচার ফর হিউম্যানিটি, গ্রিন ওয়ার্ল্ড, থ্রু দ্য লেন্স-- বাংলাদেশ,  UN HABITAT, Wonderland, Dhaka American Women's Club এবং আরো কিছু।"
২. সংখ্যানুপাত : সাত সালে প্রতিষ্ঠা হয়ে এখন এগারো সাল, পুরোপুরি চার বছর তো পেরিয়েছেই। চার বছর পর এখন তাদের ছাত্র সংখ্যা (এবং এরা পথশিশু) ছয় শতাধিক। ধরলাম ৭০০। ভলান্টিয়ার সংখ্যা ৭০০০। প্রতি একজন পথশিশুর জন্যে দশজন  করে তরুণ / তরুণী। পথশিশু : ইয়ুথ = ১ : ১০। কী অস্বাভাবিক অনুপাত !
৩. খরচের হিসাব : আমি একটা ট্রাস্ট (দাতব্য প্রতিষ্ঠান) এর কথা জানি, যেখানে প্রায় তিনশ এতিম বড় হচ্ছে। তাদের থাকা-খাওয়া-পড়াশুনা-- এভরিথিং ট্রাস্ট দিয়ে থাকে। সেখানে মাসিক খরচ (exact figure মনে নেই) দশ লাখের মত (শিক্ষকদের বেতন, ইলেকট্রিসিটি, গ্যাস-বিল, পোশাক-আশাক, খাবার, কম্পিউটার ট্রেইনিং, মডার্ণ অ্যামেনিটিজ....)। এই টাকা দেয়া হয় বিদেশী অনুদান (ডোনেশান) থেকে।
আমার উল্লিখিত ট্রাস্টের ডোনাররা, জাগোর ডোনারদের কাছে কিছুই নয়। DFID, US Embassy, UN HABITAT, Standard Chartered ব্যাংক, ইত্যাদি। এরা যখন ডোনেশান করে, তখন দুই-দশ হাজার কিংবা লাখ টাকা ডোনেট করে না, এদের ডোনেশানের অঙ্ক অনেক, অনেক বড়। যে পরিমাণ টাকা জাগো ফাউন্ডেশান পাচ্ছে, সে টাকার খুবই ক্ষুদ্র অংশ খরচ হচ্ছে এই বস্তির শিশুদের পড়াশুনা করাতে। বাকি টাকা কোথায় যাচ্ছে ? বাকি টাকার অনেকখানি যাচ্ছে এই ৭০০০ ভলান্টিয়ারদের সংহত রাখতে, তাদের পরস্পরের গেট-টুগেদার, কনসার্ট, সিসা-ক্লাব (ছবি নিচে) খরচ, মদ-খরচ, এগুলোতে। আগেই উল্লেখ করেছি পথশিশু আর ভলান্টিয়ারদের অস্বাভাবিক সংখ্যানুপাত। এই অল্পকিছু পথশিশুকে কেন্দ্র করে তরুণ সমাজের একটা বিশেষ নেটওয়ার্ক তৈরী করা হচ্ছে। নইলে ৭০০ পথশিশুর জন্যে ৭০০ ভলান্টিয়ার মোর দ্যান ইনাফ, ৭০০০ এর তো প্রশ্নই আসে না।
৪. ফুল বিক্রি করা : যে ছেলে-মেয়েগুলোকে বুঝানো হচ্ছে যে তাদের "ফুল-বেচা টাকা" দিয়ে পথশিশুদের পড়াশুনা করানো হচ্ছে; তারা খুব উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এই হলুট টি-শার্ট পরা ছেলে-মেয়েগুলো প্রতিদিন ফুল বেচে না, অকেশনালি ক্যামেরা হাতে ফুল বেচতে যায়। কেউ ছবি তোলে, কেউ ফুল বেচে। খুবই পরিষ্কার যে এই অকেশনাল ফুল বেচা টাকা দিয়ে ৭০০ স্কুল ছাত্রের পড়াশুনার খরচ এবং স্কুল চালানো সম্ভব না। ফুল বেচা টাকা, স্কুল চালানোর খরচের তুলনায় খুবই নগন্য। তাহলে কেনো মাঝে মাঝে এই ৭০০০ তরুণ-তরুণীকে দিয়ে ফুল বিক্রি করানো ? যেখানে স্কুলের খরচ চালাচ্ছে উল্লিখিত পনরো-বিশটা প্রতিষ্ঠান ? উদ্দেশ্য হলো, এই স্পন্সর কোম্পানিগুলোর প্রতি এই "শিক্ষিত" তরুণ সমাজের ভালোবাসা জাগ্রত করা, এদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা। কারণ তারা দেখছে যে ভালো কাজে প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা ব্যয় করছে।
৫. ব্রেইন ওয়াশ : আমাদের দেশে "গরীবকে লোন দেয়া NGO" গুলোর চরিত্র এখন সবার কাছেই পরিষ্কার। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা, ঘরের টিন খুলে নিয়ে যাওয়া, গুন্ডা বাহিনী লেলিয়ে দেয়া-- এসবই সবার জানা। তারা গরীবের টাকা চুষে খাচ্ছে। আমি এদের নিয়ে ব্লগ লিখি নি, লেখার দরকারও নেই। কিন্তু এই জাগো কে নিয়ে লিখতেই হলো, কারণ এরা গরীবের টাকা মারছে না, এরা "শিক্ষিত" তরুণ সমাজের ব্রেইনকে ওয়াশ করছে। এটা কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট। বাংলাদেশে আমেরিকাপন্থী তরুণ সমাজ তৈরী করা। অলরেডি ইংলিশ মিডিয়ামের ছেলে-মেয়েদের মাঝে এমন মনোভাবে অনেকাংশে বিদ্যমান। এবার বাংলা মিডিয়ামের, পাবলিকের, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদেরও সে দলে নেয়া হচ্ছে। এদের সংহত করে রাখা হচ্ছে, যেকোনো সময় কাজে লাগানো হবে। এরা জানতেও পারবে না, নিজ-অজান্তেই কিভাবে দেশ-বিরোধী কাজে লিপ্ত হবে / হচ্ছে।
৬. ভলান্টিয়ার : নিচের ছবিগুলো জাগোর সব ভলান্টিয়ারকে রেপ্রিজেন্ট করে না, আমার ফ্রেন্ড-ও জাগোর জন্যে কাজ করেছে। তবে, এই ছেলে-মেয়েগুলো নৈতিকতার লেভেল এবং চরিত্র সম্পর্কে কিছু লিখবারই প্রয়োজন হয় না। উদ্দাম জৈবিকতায় মেতে ওঠা এই এরাই যে দু-এক বছর পর ইংলিশ বুলি কপচানো পথশিশুদের (যখন এরা একটু বড় হবে) অনুরুপ উদ্দামতা শিখাবে, তা পরিষ্কার।
৭. ব্রাঞ্চ : অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ইউকে, ইউএসএ, জাপান, মালয়েশিয়া-- এই দেশগুলিতে তাদের ব্রাঞ্চ আছে।

এবার কথা শেষ করার চেষ্টা করি। বাংলাদেশে অসংখ্য NGO আছে, এবং এদের মাঝে আমেরিকার খুবই পছন্দের নামকরা কিছু NGO আছে, যারা দরিদ্রদের পড়াশুনাসহ আরো অনেক কিছুরই "ব্যবস্থা" করে থাকে। তাদেরকে ডোনেশান বাড়িয়ে না দিয়ে আমেরিকা কেনো JAAGO কে ডোনেট করলো ? JAAGO কে ডোনেট করায় আমেরিকা এবং আমেরিকা সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেনিফিট কী ? তারা তো অন্য NGO গুলোর মত টাকা চুষে খাচ্ছে না, বরং উল্টোটা করছে-- কোটি কোটি টাকা ঢালছে। এই টাকা ঢেকে তরুণদের ব্রেইন ওয়াশ করছে, ভক্ত বানাচ্ছে। আমি নিজে আমার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের কথায় আন্তরিকতা, আবেগ, ইত্যাদি ঢেলে পড়তে দেখেছি জাগো সম্পর্কে কথা বলবার সময়। আবার কেউ কেউ সিসা ক্লাব কিংবা বান্ধবীর পায়ের 'পর হাত রাখা-- এগুলোতে মজা লুটে নিচ্ছে।

সবচেয়ে সহজ যে জিনিসটা তরুণ সমাজ ( যারা এগুলোতে সময় ব্যয় করছে ) বুঝতে পারছে না, তা হলো-- এত রাঘব-বোয়াল প্রতিষ্ঠান যদি পথশিশুদের সাহায্যই করবে, তবে তােদর কী এত প্রয়োজন এসব কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে-পেলেদের দিয়ে ফুল বিক্রি করানো ? তারা তো চাইলেই একমাসের ভিতরে রায়েরবাজার বস্তিসহ সারা ঢাকা শহরের সব বস্তিকে অত্যাধুনিক লিভিং প্লেস করে দিতে পারে, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, যেনো বাপ-মায়েরা বাচ্চাদের খালিপায়ে ফুল / বাংলাদেশ প্রতিদিন বিক্রি করতে পাঠাতে বাধ্য না হয়; তারা তো চাইলেই ঢাকার সব বস্তির সব ছেলে-পেলেদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনার ব্যবস্থা করে দিতে পারে। এ জন্যে এই তরুণ সমাজের কী প্রয়োজন ? নাকি তারা বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মোটেই অবগত ছিলো না, হঠাৎই করভীর কর্মকান্ড দেখে তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলো আর তাই তারা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে শুরু করলো ?
আসল ব্যাপার এই যে এসব পথশিশুদের সহায়তা করা একটা ছুতা মাত্র; এটাকে কেন্দ্র করে তরুণ সমাজের মাঝে আমেরিকার  / সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভক্তি আনা হচ্ছে, ধীরে ধীরে ব্রেইন কিনে নেয়া হচ্ছে। একারণেই ৭০০ পথশিশুকে কেন্দ্র করে ৭০০০ তরুণ-তরুণী move করছে, এবং এর সংখ্যা বাড়ছে।
তারপর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এদেরকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুকৌশলে ব্যবহার করা হবে। এরা বুঝতেও পারবে না, কিভাবে তাদেরকে স্ক্রু ড্রাইভারের মত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঠিক যেভাবে কিছুদিন আগে ব্যবহার করা হয়েছিলো ইরানের ইন্টারনেট সুবিধা-প্রাপ্ত তরুণ সমাজের একটা অংশকে, ইলেকশান বানচাল করার জন্য, দেশের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য।
ইউনুস অর্থনীতিতে নোবেল না পেয়ে শান্তিতে নোবেল পেলো মইন-ফখরু সরকারের সময়, আর ঘরোয়া রাজনীতি পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকাবস্থায় সে মুক্তধারা না কী যেনো এক দল খুলে বসলো। তার "গ্রামীন" যে গ্রামীন জনপদে কত শান্তি এনেছে, তা ঐ টিনের চাল খুলে নেয়া ভিটের মালিকদের জিজ্ঞাসা করলে জানা যাবে (যদি এতদিন পর্যন্ত তাদের ঐ ভিটেমাটি টুকু অবশিষ্ট রেখে থাকে তারা)।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেইনি বলেছিলেন, পৃথিবীর দূরতম প্রান্তে কোনো অপকর্ম ঘটলে বুঝতে হবে এর পেছনে কোনো না কোনোভাবে আমেরিকার হাত আছে।
একদম খাঁটি সত্য কথা।


নূরে আলম,
ডিসেম্বর ৪, ২০১১।

(ছবিগুলো ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে, সেখান থেকেই নেয়া।)




করভী এবং...


FUN !


রাস্তায়, প্রকাশ্যে












প্রকাশ্য রাস্তায়...




সিসা ক্লাবে


কোনো একজন মেয়েটির মান-সম্মান বাঁচাতে মুখ ব্লার করে দিয়ে পোস্ট করেছে।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…