সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Kiss me, kiss me a lot, for I am afraid to lose you, to lose you afterwards...

প্রতিটা প্লেন কত স্বপ্ন বয়ে আনে। এই স্বপ্নগুলোকে সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট মানুষদের চেষ্টার কমতি থাকে না। তবুও দুর্ঘটনা ঘটে যায়, কিছু করার থাকে না।

ইউএস বাংলার ফ্লাইট BS211 নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফেইসবুকে সেসব ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। নববিবাহিতার মেহেদী রাঙা হাত, আঙুলে রিঙ পরা -- ধ্বংসস্তুপের নিচে। হানিমুনে 'সাধ্যের মধ্যে' নেপাল যাচ্ছিল হয়ত!
মেডিকেলের একটা বই -- আধপোড়া। চার বছর বাংলাদেশে পড়াশুনা করে নিজদেশ নেপালে ফিরে যাচ্ছিল, স্বপ্নের 'ডাক্তার' হবার জন্য! কেজানে সেজন্যে গত চারটা বছর কত সাধ আহ্লাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেছে, নির্ঘুম রাত পার করেছে!
একটা ছোট চিরকুট, তাতে ইংলিশে লেখা -- "জানি না তোমার এটা পছন্দ হবে কিনা, তবুও এটা প'রো।"

এমন আরো অনেক ছবি। প্রতিটা ছবি এক একটা গল্প। এগুলো আমরা জানতে পারছি, কারণ ফ্লাই করার আগে তাদের সেলফি দেবার মত ক্যামেরা ছিল, উপহার দেবার মত টাকা ছিল, চিরকুটে ভালোবাসার কথা লিখবার মত সুন্দর আবেগ ছিল, কিংবা নেপাল থেকে বাংলাদেশে গিয়ে ডাক্তারি পড়বার টাকা ছিল। অপরদিকে ঢাকার মিরপুরে যে বস্তিতে আগুন লেগে আট হাজার ঘর পুড়ে গেছে, তাদের গল্পগুলো আমরা জানতে পারছি না। কারণ তাদের সেলফি দেবার মত ফোন নেই, ভালোবাসার কথা চিরকুটে লিখবার সাক্ষরতা নেই, দেশ-বিদেশ ঘুরতে যাবার সুন্দর গল্প নেই। তাই সেই ২৫ হাজার মানুষের গল্পগুলো আমাদের ফেইসবুকে উঠে আসে না। কিন্তু তারাও মানুষ। আমাদের প্লেন ক্র্যাশের বেদনা থেকে তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে যাবার বেদনা কিছু অংশে কম নয়। কেবল আমরা সেসব জানতে পারি না -- আমাদেরই আত্মীয় তারা -- অথচ কতটা 'ডিসকানেক্টেড'।
.........................................................................................

আমি টিভি দেখি না। তবে জানি, এই প্লেন ক্র্যাশের ঘটনা নিয়ে মিনিটে মিনিটে আপডেট দিয়েছে টিভিগুলো। তাই দেখে অস্থির লাগা স্বাভাবিক। খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! রানওয়ে টাচ করার পরও মানুষগুলো বেঁচে ফিরতে পারলো না। ল্যান্ড করার আগে এয়ারপোর্টের উপরে আকাশে দুইবার চক্কর খেয়েছে প্লেনটা। কেজানে তখন যাত্রীদের মনের অবস্থা কেমন ছিল! এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সাথে প্লেনের ক্যাপ্টেনের কথোপকথনের রেকর্ড ইউটিউবে পাওয়া গেছে। তাতে মনে হচ্ছে, দুই পক্ষের কোনো কিছু বুঝতে বা বলতে ভুল হয়েছিল।

যেটাই ঘটে থাকুক, এটার তদন্ত হবে। আমরা 'তদন্ত' শব্দটাকে যেমন  ব্যাঙ্গাত্মকভাবে নেই, সেই তদন্ত না। সত্যিকার ইনভেস্টিগেশান। অনেকদিন ধরে সব বিশ্লেষণ করা হবে, ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা পর্যন্ত করা হবে। দুর্ঘটনার সবগুলো কারণ খুঁজে বের করা হবে। তারপর ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এমনটা না ঘটে, সেজন্যে এই তথ্যগুলোকে সব দেশের সিভিল এভিয়েশনের কাছে পৌঁছানো হবে। এভাবে করে এযাবতকালের প্রতিটা এয়ার ক্র্যাশের তথ্য সংরক্ষণ করা আছে, সেগুলো নিয়ে সারা দুনিয়ায় পড়াশুনা করা হয়, গবেষণা করা হয়। ভবিষ্যতে একই ঘটনা যেন আবার না ঘটে, সেটার ব্যবস্থা নেয়া হয়।

পৃথিবীর এমাথা থেকে ওমাথা প্রতি মুহুর্তে শত শত প্লেন উড়ছে। কোন মুহুর্তে কোথায় কোন প্লেন আছে, তা প্রতিটা এয়ারপোর্ট জানতে পারে, এর ত্রিমাত্রিক চিত্র দেখতে পারে। যেকোনো প্লেন ফ্লাই করার আগে তার গোটা চলার পথ, কোথায় গিয়ে নামবে, কয়টার সময় নামবে, ইত্যাদি নিশ্চিত করা হয়। এগুলো হলো এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC)-র কাজ। গোটা সিস্টেমটা একবার ডিজাইন করার পর আর ঝামেলা নেই; ঝামেলা থাকত না, যদি প্রতিটা প্লেনের উড্ডয়ন-অবতরণ নিয়মমাফিক হতো। কিন্তু তা হয় না। এই জায়গাতেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

একটা প্লেন মাঝপথে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়ত কেবলই নিচের দিকে নামছে। ঐ মুহুর্তে ক্যাপ্টেন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে সেটা জানায়। ATC-তে যারা বসে থাকে, তাদেরকে তখন কয়েক সেকেন্ড কিংবা তারও কম সময়ে বেশ কয়েকটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়: যে প্লেনটা নিচের দিকে নামছে, তার নামার পথে অন্য কোনো প্লেন এসে পড়বে কিনা। দুটো প্লেনই চলন্ত অব্স্থায় আছে, দুটোর স্পিড কার কত, থ্রিডি স্পেইসে কে কোন পয়েন্টে আছে, এবং তাদের সংঘর্ষ হবে কিনা -- ইত্যাদি ক্যালকুলেট করতে হয়। তারপর দুটো প্লেনকেই নতুন পথ বলে দিতে হয়, কত ডিগ্রিতে ঘুরে যেতে হবে, কিংবা কত ফিট উপরে/নিচে যেতে হবে, ইত্যাদি।

এধরণের সিচুয়েশানে মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ঐ সময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করা খুবই কঠিন। যদিও পাইলটদেরকে সিমুলেটরে ট্রেনিং দেয়া হয়, কৃত্রিম ককপিট তৈরী করে সেখানে ঝড়, ইত্যাদিসহ সবরকম পরিস্থিতির ট্রেনিংই দেয়া হয় -- কিন্তু সিমুলেটর আর রিয়েল লাইফ সিনারিও ভিন্ন জিনিস। ক্যাপ্টেনের হাতে তখন কয়েকশ' মানুষের জীবন। সেইসাথে মৃত্যুভয় কার কতটা কাজ করবে, তা বলা যায় না। প্রিয়মুখ চোখে ভাসে, আবেগে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসতে পারে। কত কিছুই হতে পারে!

অথচ এমন সময়ে ATC্ আর ক্যাপ্টেনকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। দেরী করা যাবে না, কেননা, প্লেন প্রচণ্ড গতিতে উড়ছে, ধীরেসুস্থে ক্যালকুলেশান করার সময় নেই।

এসব ক্যালকুলেশানের অধিকাংশই এখন সফটওয়্যারে করা হয়। এগুলোকে রিয়াল টাইম সিস্টেম (RTS) বলে। যেই সফটওয়্যার হ্যাং করা যাবে না, ক্যালকুলেশন করতে কয়েক ন্যানোসেকেন্ডের বেশি নেয়া যাবে না -- ইত্যাদি। আমরা সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ারিঙে রিয়াল টাইম সিস্টেম নিয়ে পড়ি, এগুলোর ইতিহাস দেখি। তখন এমন এয়ার ক্র্যাশের ঘটনাও প্রসঙ্গক্রমে আসে। একজন সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ারের কোডের একটুখানি ভুলের কারণে শত শত মানুষ মারা যেতে পারে। হয়ত কোড লিখতে গিয়ে একটু ঘুম চলে এসেছিলো, কিংবা উদাসমনে কিছু একটা ভাবতে গিয়ে ছোট্ট একটা ফুলস্টপ কিংবা সেমিকোলন মিস হয়ে গেছে...। তারপর সেটার প্রভাব এতদূর পর্যন্ত গড়ায় যে, শত শত মানুষ মারা যেতে পারে মুহুর্তে!

যাহোক, কী বলতে কী বলছিলাম। এমন আরো অসংখ্য বিষয় বিবেচনা করে তারপর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করা হয়, সফটওয়্যার ডিজাইন করা হয়, প্লেন ফ্লাই করা হয়। প্রতিটা বিষয়ই একটার সাথে আরেকটা এত বেশি জড়িত যে, কোনো একটা জায়গাতেও বিন্দুমাত্র ভুল করার সুযোগ নেই। তবু আমাদের ভুল হয়ে যায়!
...................................................
আমার বেশ অনেকবার প্লেনে চড়া হয়েছে। আমার মনে আছে, গতবছর দেশে যাবার সময় মাঝরাতে হঠাৎ ক্যাপ্টেন মাইক অন করে অ্যানাউন্স করলো: "আমাদের ওয়েদার কন্ডিশান খারাপ, সবাই সিটবেল্ট বেঁধে সতর্ক অবস্থায় বসুন।" তখন মাঝরাত, সবাই ঘুমাচ্ছে। আর যারা জেগে আছে, তারা IFE-তে মুভি দেখছে। বিশাল বড় প্লেনটা তখন বেশ কাঁপছে, আমার জানালার পাশে সিট, তাকিয়ে দেখি ডানাটা কাগজের মত করে নড়ছে!

সেই ফ্লাইটে কিছু হয়নি। নিরাপদে দেশে গিয়েছি, একবছর থেকেছি, আবার এসেছি এস্তোনিয়ায়। এবার আসার সময় খুব ঝামেলা হয়েছে। ঢাকা থেকে ফ্লাইট চার ঘন্টা পরে ছেড়েছিলো। কেন? কারণ তুরস্ক থেকে প্লেন চার ঘন্টা দেরীতে ছেড়েছিল, আর ঐ প্লেনেই আমাদের তুরস্ক যাবার কথা, ঢাকা টু ইস্তাম্বুল টু তালিন। আমার মনে আছে, ঢাকা এয়ারপোর্টে সবাই তখন কত মেজাজ গরম করছিল! কারণ ইস্তাম্বুল থেকে তারা বলেছে ঢাকার ওয়েদার খারাপ, অথচ ঢাকার এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বলেছে যে আমরা দেখতে পাচ্ছি আকাশ ঝকঝকে!
তবুও, সতর্কতা হিসেবে সেই ফ্লাইটের চার ঘন্টা ডিলের কারণে আজকে হয়ত বেঁচে আছি, কে জানে! সেই ফ্লাইট ডিলের কারণে ইস্তাম্বুলে দুই ঘন্টার জায়গায় চল্লিশ ঘন্টা স্টে করতে হলো। তারপর এস্তোনিয়ার ফ্লাইটে যখন উঠলাম, ফ্লাই করার পর প্রায় দশ মিনিট ধরে মনে হলো, একটা কাগজের বাক্সের ভিতরে আছি, আর কেউ সেটাকে খুব করে নাড়াচ্ছে! প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস, তার মধ্যে খুব স্ট্রাগল করে প্লেনটা মেঘের স্তরের উপরে উঠে গেল। ক্যাপ্টেন একটু পরপর মাইক অন করে বলছে: "সবাই সিটবেল্ট বেঁধে বসে থাকুন...।"
...................................................
তারপর আমি আবার এখন স্বপ্ন দেখছি, এইতো কয়দিন পর সামারে দেশে যাব। ঢাকা এয়ারপোর্ট, সেখানে প্রিয়মুখ, তারপর বাসায়, তারপর...। প্রিয়জনদের সাথে প্রতিদিন সেই গল্প বুনি!

অথচ সেই গল্পগুলো বাস্তব নাও হতে পারে। শত স্বপ্ন বয়ে নিয়ে আসা প্লেনটা ক্র্যাশ করে মুহুর্তেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে! আরো কতভাবেই তো স্বপ্নগুলোর কবর হয়ে যেতে পারে! হাতের নিশ্চিত চায়ের কাপটাতে যে ঠোঁট স্পর্শ করাতে পারবেন, তারই বা কী ভরসা আছে? There are many tips between the cup and the lips -- হাতের নিশ্চিত চায়ের কাপ আর দুই ঠোঁটের মাঝপথে অসংখ্য ছোট ছোট মুহুর্ত আছে, এর যেকোনো মুহুর্তে একটা কিছু হয়ে যেতে পারে, চা-টা আর না-ও খাওয়া হতে পারে।

এজন্যে আমি জীবনে খুব দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যান নেই না। আমি চেষ্টা করি ২৪ ঘন্টার সাইকেলে জীবন যাপন করতে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমানো পর্যন্ত -- এটুকুর মধ্যে বাঁচার চেষ্টা করি। কারণ, আগামীকাল আর না-ও আসতে পারে। একটা মেক্সিকান গান শুনেছিলাম। গানটার কথা অনেকটা এরকম: Kiss me, kiss me a lot, for I am afraid to lose you, to lose you afterwards (আমায় চুমু দাও, আরো, আরো বেশি -- কারণ আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলবার ভয় করি, আর এক মুহুর্ত পরেই!).

আমি জানি, এরকম যখন যা-খুশি করার পরিবেশ পরিস্থিতি সবার থাকে না। নিজের ইচ্ছামত জীবন যাপন করার সৌভাগ্যও সবার হয় না। এখন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে সে সৌভাগ্য দিয়েছেন। আমি তা থেকে অনেকিছু পেয়েছিও। এজন্যে আমি তৃপ্ত, আলহামদুলিল্লাহ। এইতো, সামারে দেশে আসব ইনশাআল্লাহ, কিন্তু প্লেনটা ক্র্যাশ হয়ে মরে গেলেও আমার আফসোস নেই। কারণ আমি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করিনি। আমি এই মুহুর্তের জন্য বাঁচতে চেয়েছি, এবং ভালোভাবে বাঁচতে চেয়েছি। ভবিষ্যতের বিনিময়ে বর্তমানকে কিনেছি।

"এখন কয়েক বছর চোখ-মুখ বন্ধ করে সব সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে পড়াশুনা/ক্যারিয়ার/ব্যবসা করি, পরে উপভোগ করব" -- এটা আমার কাছে খুব বোকা মানুষদের বাজি বলে মনে হয়। "পরে ফল ভোগ করব" -- এই নিশ্চয়তা আমাদেরকে কে দেয়? আল্লাহ? নাকি শয়তান? নাকি আমাদের নাফস?
..................................................
 বেশিরভাগ মানুষই গৎবাঁধা নিয়মের কাছে আত্মসমর্পন করেন। এবং তখন সর্বশক্তি দিয়ে আমার এই 'ভবিষ্যতের বিনিময়ে বর্তমান কেনা'-র বিরোধিতা করেন। আমি কিছু বলি না, কেননা তারা সবাই-ই আমার ভালোবাসার মানুষ। আমি কেবল আমার 'অনেক উজ্জল ভবিষ্যতগুলোর' বিনিময়ে অল্পকিছু রঙ কিনে এনে বর্তমানে জীবন রাঙাতে চাই। আর হঠাৎ হঠাৎ যখন সেটা করতে পারি, তখন একটা সুন্দর গল্প রচিত হয়। আমি নিজেই তা চেয়ে চেয়ে দেখি। আমার প্রিয়জনেরাও তখন আর আমার বিরোধিতা করেন না। কারণ তারাও হয়ে যান সেই গল্পের অংশ!

আমার শুধু একটাই অনুরোধ, দুনিয়ার জীবনের মধ্যে যে 'ভবিষ্যত', সেই ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে ছাড় দেবেন না। বরং সেই ভবিষ্যতের বিনিময়ে বর্তমানকে কিনুন। সেইসাথে খোদাতায়ালাকে সঙ্গে রাখুন। দেখবেন, বর্তমানে বাস করেও খুব সুখী থাকা যায়, প্রশান্ত থাকা যায়, এবং 'সত্যিকার ভবিষ্যতের' জন্য অনেককিছু সঞ্চয় করা যায়।

মৃত্যু আসবেই। তাকে ভয় পেয়ে বা তাকে ভুলে থেকে জীবন যাপনের কোনো মানে নেই। বরং তাকে সাথে নিয়ে বাঁচার মধ্যেই জীবন নিহিত আছে। সেভাবে যারা বাঁচতে পারে, তারাই জীবিত। বাকিরা বেঁচে থেকেও মৃত।

নূরে আলম
মার্চ ১৩, ২০১৮
তালিন, এস্তোনিয়া

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগ এবং আহমেদ দিদাতের ইরান অভিজ্ঞতা

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।)
আহমেদ দিদাত (১৯১৮-২০০৫) এর নাম হয়তো অনেকের অজানা থাকবে। তবে ডা. জাকির নায়েকের নাম নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডা. জাকির নায়েকের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হলেন আহমেদ দিদাত। আহমেদ দিদাত, যিনি কিনা ডা. জাকির নায়েকের নাম দিয়েছিলেন "দিদাত প্লাস" – পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেকচার দেয়া ছিলো তাঁর কাজ। যাহোক, ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামী ইরানের জন্ম হয়। বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে ভিজিট করেন আহমেদ দিদাত, সাক্ষাৎ করেন ইমাম খোমেইনীর সাথে এবং নিজদেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরেন। আহমেদ দিদাতের নানা বিষয়ে বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা বাংলা ভাষায় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু শিয়া-সুন্নি ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর চমৎকার বক্তব্যের অনুবাদ কোথাও না পেয়ে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই অনুবাদ করে ফেললাম। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। মূল অডিও কোথাও কোথাও শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। কোথাওবা অডিও নিঃশব…