সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভালোবাসা : তবুও...

জীবনে খুব কম মানুষের মনের কথা জানার সুযোগ হয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও অনাবৃত মনের জোয়ার-ভাটা দেখেছি। হয়তো সে জোয়ারে বাঁধ দিতে পারিনি বলে তা আমায় সিক্ত করে গিয়েছে -- কিন্তু ভাটার সময় আমি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি;  যদিও আপন সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারিনি। যে চাঁদ সাগরে জোয়ার আনে, সে যে নিজেও পৃথিবীর কাছে বাঁধা পড়ে আছে !
..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... .....
বাঁধনহারা হবার বাসনাটা অত্যাচারী। কিন্তু যে কখনো বাঁধ ভাঙেনি, সে কী করে বুঝবে বাঁধ ভাঙার আনন্দ !

কিছু বাঁধ ভাঙার পর আর জোড়া দেয়া যায় না। তারা চিরস্থায়ী ক্ষরণের ব্যবস্থা করে দেয়। ছিন্ন ঘুড়ির পরিণতিটা হয়তো খুব করুণ, কিন্তু অসীমাকাশে মুক্ত উড়ে বেড়ানোর যে আনন্দ ঐ বন্ধনহীন মুহুর্তগুলো এনে দেয়, জীবনের দাম কি তার বাজি হতে পারে ?

কেউ জানে না। যখন জানে, তখন আর ফিরে আসার সুযোগ থাকে না। এ এক অদ্ভুত বাজি।
..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... .....
পথিককে ছায়া দিতে যে গাছ রোদে পোড়ে, সেই গাছের জন্য পথিক কী করেছে ?

..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... .....

জীবনে দু'জন অদ্ভুত মানুষকে দেখেছি। তারা তৃষ্ণার্ত পথিকের পানপাত্র হতে পারেনি, বরং আজীবন চাতক থেকে গিয়েছে। যখন সেটা বুঝেছি, তখন তাদের উপর রাগটা করুণায় বদলে গিয়েছে।

ভালোবাসবে, অভিমান করবে, অপছন্দ করে দূরে সরে যাবে, তবুও ভালোবেসে ফিরে আসবে। হায় তৃষ্ণার্ত মরুপথিক ! সে থামবে, পেয়ালা ভরে পানি পান করবে, আবার শুরু করবে যাযাবর যাত্রা। প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হলে হয়তো পায়ের ছাপগুলি আবার দেখা দেবে ! ভালোবেসে পানপাত্র হয়তো আবারও পূর্ণ হয়ে উঠবে। লোকে গালমন্দ করবে, কিন্তু ভালোবেসে ক'জনের বাড়িতে যাযাবর আসে ? গৃহী আর সন্ন্যাসীর মত দুটো ভিন্ন জীবন-পথ যদি মা-শিশুর সম্পর্কে পরস্পর অতিক্রম করে, তবে সেইটুকু একটা গল্প রচনা করে দিয়ে যায়। সবাই হয়তো দেখে না; কিন্তু সেই চাতক নয়ন যে দেখে, সে ঐ গল্পের অংশ হয়ে যায়।

..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... .....

যে আঁখি কখনো জলে ভেজে নি, ভালোবেসে তার জন্য অশ্রু বিসর্জনের অভিমান অনেক।



নূরে আলম
এপ্রিল ১৫, ২০১৩।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…