সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

টরেন্ট ব্যবহার পদ্ধতি

টরেন্ট হল, সোজা ভাষায়, ফাইল ডাউনলোড করার একটা পদ্ধতি।
আমি অনেকসময় ৭০০ মেগাবাইট সাইজের কিংবা ৯০০ মেগা কিংবা ১.২ বা ১.৪ গিগাবাইট সাইজের মুভি ডাউনলোড করি টরেন্ট দিয়ে।
আমার নেট স্পীড 15-17 KBPS. ২৪ ঘন্টায় লোডশেডিং চলে ৬-৭ ঘন্টা। কিন্তু তারপরও, দুইদিনেই আমার একটা মুভি টরেন্ট দিয়ে ডাউনলোড করে দেখা শেষ হয়ে যায়। টরেন্ট ছাড়া কোনভাবেই দুইদিনে মুভি ডাউনলোড করে দেখা সম্ভব হত না!

টরেন্ট আসলে একটা ফাইল শেয়ারিং সিস্টেম।


আমি যদি অ্যাডোবি ফোটোশপ ডাউনলোড করতে চাই অ্যাডোবির ওয়েবসাইট থেকে, তাহলে আমাকে অ্যাডোবির ওয়েবসাইটে গিয়ে কয়েকটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেয়ে তারপর ডাউনলোড করতে হবে। কিন্তু ডাউনলোড দেওয়ার কয়েক ঘন্টা 
পর লোডশেডিং হলে পুরো ডাউনলোডটাই গেল নষ্ট হয়ে- ৯৭৯ মেগাবাইটের ফাইল এভাবে কখনোই ডাউনলোড করতে পারব না।
এই একই ফাইল (অ্যাডোবি ফোটোশপ ইনস্টলার) যদি আমি টরেন্ট দিয়ে ডাউনলোড করি, তাহলে Availability -র উপর ভিত্তি করে দু-তিন দিনেই ডাউনলোড কমপ্লিট হবে। যেটুকু সময় ইলেকট্রিসিটি থাকবে, সেটুকু সময় আমার পিসিতে যদি টরেন্ট ওপেন থাকে, ডাউনলোড চলতে থাকবে। ইলেকট্রিসিটি যাওয়ার কারণে যেটুকু ডাউনলোড হয়েছে, সেটুকু নষ্ট হবে না।
শুধু লোডশেডিং বলে কথা না, আমি যদি ২-৩ গিগাবাইটের ফাইল ডাউনলোড করতে চাই, তাহলে ইলেকট্রিসিটি থাকলেও আমাকে অনেক্ষণ পিসি/নোটবুক চালু রাখতে হবে- যেটা হয়ত আমি চাই না। আমি যখনই পিসি/নোটবুক অন করব, তখনই বাকী অংশ ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে, আমার চেক করতে হবে না। ডাউনলোড শেষ হয়ে গেলে নোটিফিকেশান পাওয়া যাবে।

টরেন্ট শেয়ারিং সিস্টেমটাকে বলা হয় পিটুপি শেয়ারিং(Peer to Peer Sharing)।
এটা কীভাবে কাজ করে বোঝার জন্য নিচের ছবিটা দেখতে হবে।

প্রথম ছবিটা হল সার্ভার বেইজড ডাউনলোডিং সিস্টেম। দ্বিতীয়টা p2p।
অ্যাডোবির ওয়েবসাইট থেকে অ্যাডোবি ফোটোশপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে প্রথম ছবিটা প্রযোজ্য। একদম মাঝখানে যে সিপিইউ এর ছবি, সেটা হল অ্যাডোবির ওয়েব সার্ভার। সেখানে অ্যাডোবি ফোটোশপ ইনস্টলার ফাইলটা আছে। যেকোন ব্যক্তি সেটা ডাউনলোড করতে চাইলে ঠিক ঐ একটা সার্ভার থেকেই তাকে ডাউনলোড করতে হবে, অর্থাৎ অ্যাডোবির সার্ভার (ছবির কেন্দ্রের সি.পি.ইউ) থেকে তার পিসিতে ফাইলটা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কপি হবে। অ্যাডোবির সার্ভারের ইন্টারনেট স্পীড যদি 100 KBPS হয় (যদিও বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি) তাহলে কী হবে? পাঁচজন একই সময়ে ওদের সার্ভার থেকে কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড করলে সবাই পাবে 100/5 = 20 KBPS স্পীড।
আর যদি দশজন ডাউনলোড করতে চায়? তাহলে প্রত্যেকে পাবে মাত্র 10 KBPS করে স্পীড। অর্থাৎ, সার্ভার বেইজড নেটওয়ার্কের একটা অসুবিধা হল, এক্ষেত্রে সার্ভিস ডিপেন্ড করে ঐ সার্ভারের ক্যাপাসিটির উপর।

দ্বিতীয় ছবিটা হল পিটুপি বেইজড নেটওয়ার্কের কার্য পদ্ধতি। লক্ষ্য করুন, এখানে প্রতিটা পিসির সাথে প্রত্যেকে যুক্ত। এবং কোন আলাদা সার্ভার নেই। টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে যখন এই ছয়জন অ্যাডোবি ফোটোশপ ডাউনলোড করছে, তখন প্রত্যেকেই পরস্পরের কাছ থেকে অ্যাডোবি ফোটোশপ ইনস্টলার ফাইলের কিছু কিছু অংশ করে ডাউনলোড করছে। অর্থাৎ, প্রত্যেকেই ডাউনলোড করছে এবং কিছূটা করে আপলোড করছে। প্রথম ছবিটার সাথে এটার মিল খুঁজতে গেলে বলা যায়- প্রতিটা পিসি-ই এখানে এক একটা সার্ভার।

সার্ভার বেইজড নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে ফাইল ডাউনলোড হয় শুরু থেকে ফাইলের শুরুর দিক থেকে, পিটুপিতে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোন অংশ যদি অ্যাভাইলেবল হয়, সেই অংশই ডাউনলোড করে ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার। বিষয়টা এরকম(কালো অংশটুকু ডাউনলোড হয়েছে) :

এতে একটা লাভ আছে। টরেন্টে কোন মুভি ডাউনলোড দিয়ে যদি দেখি বেশ খানিকটা কন্টিনিউয়াসলি ডাউনলোড হয়েছে- হোক সেটা মাঝখান কিংবা শুরুতে কি শেষে- আমি সেটুকু প্লে করে দেখে নিই- ভিডিও কোয়ালিটি কেমন।

পিটুপির সমস্যাও আছে। ধরুন, আমি অ্যাভাটার মুভিটা ডাউনলোড করছি। কোন একজনের পিসিতে হয়ত মুভিটার অর্ধেক কেবল ডাউনলোড হয়েছে, আমার টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার সেখানে থেকেই নিচ্ছিল, সে হঠাৎ পিসি বন্ধ করে দিল। তাহলে আমার টরেন্ট ক্লায়েন্ট আর তার পিসি থেকে ডাউনলোড করতে পারবে না। টরেন্টে মাঝে মাঝে এ জাতীয় সমস্যা হয়- কোন একটা ফাইল বেশ ডাউনলোড হয়ে হঠাৎ দেখা গেল আর কোন স্পীড-ই পাচ্ছে না। অবশ্য এটা খুব rarely ঘটে থাকে, কারণ বিশ্বের যেকোন প্রান্তের টরেন্ট ইউজারের পিসি থেকে অপর প্রান্তের টরেন্ট ক্লায়েন্ট ফাইল ডাউনলোড করে। আর টরেন্ট এর ইউজার অনেক।
যেমন, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে এখন যদি আপনি অ্যাভাটার মুভিটা ডাউনলোড করেন টরেন্ট এর মাধ্যমে, তাহলে অবশ্যই আপনার এ জাতীয় সমস্যা হবে না। কারণ, অনেকেই এটা এই মুহুর্তে টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে আদান-প্রদান করছে।

এবার আসল কথায় আসি।
টরেন্ট ব্যবহার করুন এই ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার দিয়ে(যদিও আরো বেশ কিছু সফটওয়্যার আছে)- মিউ টরেন্ট
ইনস্টল হয়ে গেলে অ্যাভাটার মুভিটার টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করুন এখানে থেকে(যদিও আরো অনেক টরেন্ট সার্চ এঞ্জিন আছে)- আইসোহান্ট ডট কম
সার্চ করে প্রথম দিকের রেজাল্ট থেকে ফাইলটা ডাউনলোড করুন। ফাইল সাইজ মাত্র কয়েক কিলোবাইট- ক্লিক দেয়ার সাথে সাথে ডাউনলোড হয়ে যাবে। তারপর ফাইলটা ওপেন করুন। মিউ টরেন্ট দিয়ে ওপেন হবে। কোথায় ডাউনলোড করবেন, সেটা দেখিয়ে দিন। তারপর ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে।
মিউ টরেন্ট এর Options>Preference> Start u torrent on system startup দিয়ে রাখুন। পিসি অন করলেই ডাউনলোড চলতে থাকবে। ডাউনলোড শেষ হলে নোটিফিকেশান দেখাবে।
এইতো- টরেন্ট!

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে।)
সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা।

২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা সিরিয়া…