সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

বেহেশতের রঙ অথবা শঙ্খচিলের গল্প

এখন ভোর। আকাশের মেঘ দ্রুত সরে সরে যাচ্ছে। সদা জাগ্রত সশব্দ শহরে এটুকুই নীরবতা। এই একই ভোর, আর আকাশের সেই মৃদু আলোতে মেঘেদের দ্রুত পলায়ন  –  এই ঘটনা জীবনে হাজারবার ঘটেছে। কখনো সেটা হয়েছে প্রচণ্ড শীতে পুকুর পাড়ে মাছ ধরা দেখতে দেখতে, কখনো মাটির চুলায় পিঠার হাঁড়ির পাশে, কখনোবা বড়দের সাথে হাত ধরে হাঁটতে বের হয়ে, আর কখনো শিশিরভেজা শিউলি ফুল কুড়াতে গিয়ে। অথবা কাগজ-কলম হাতে অঝোর ধারার বৃষ্টি দেখে দেখে। আর অসংখ্যবার এমন ভোর পার হয়েছে নির্বোধের মতন ঘুমিয়ে। অথচ প্রতিটা ভোরেরই আলাদা রহস্য আছে : বেহেশতের রঙ বয়ে আনে তারা। কিন্তু সোনা-রূপায় বন্দী মানুষ তড়িঘড়ি করে রাত্রির অন্ধকার খোঁজে। হতাশ ফেরেশতারা রঙের ডালি নিয়ে ফিরে যায়। "আয় খোদা ! এরা যে নিজেদের দুনিয়ার রঙে রাঙিয়েছে।" সাত আসমানের ওপারে খোদা আবারো মৃদু হাসেন। পরদিন ভোর হলে ফেরেশতারা আবারো আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন বলতে বলতে দুনিয়ায় আসে। রঙের খরিদ্দার খোঁজে।

তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থনা ও আল্লাহর নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ

সারকথা : " আপনি কি তাদেরকে দেখেননি , যারা দাবী করে যে , তারা বিশ্বাস করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্ববর্তীদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। ( কিন্তু ) তারা বিরোধের বিষয়ে বিচারের জন্য তাগুতের মুখাপেক্ষী হয় , যদিও তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে একে ( তাগুতকে ) প্রত্যাখ্যান করতে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। " ( – সূরা নিসা , ৪ : ৬০ ) আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী : এখানে সাধারণ অর্থে সেসব মানুষকে বুঝানো হয়েছে , যারা নিজেদের হকপন্থী বলে দাবী করে , কিন্তু নিজেদের লাভের জন্য ন্যায়বিচারক নয় , এমন মানুষকে বিচারক মেনে নেয়। ইমাম খোমেইনী : স্বৈরাচারী সরকারের বিচারব্যবস্থা , নির্বাহী ও রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গ মিলেই হলো " তাগুত " । কারণ তারা শয়তানি আইন তৈরী , প্রয়োগ এবং তাকে বিচারব্যবস্থার ভিত্তি করার মাধ্যমে ঐশী বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। এদেরকে অবিশ্বাস ( প্রত্যাখ্যান ) করতে আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ করেছেন। ম ুহাম্মাদ বিন আবদুল ওহাব : তাগুত ৫ প্রকার , এর মাঝে এক প্রকার হলো আল্লাহর আইন বিরোধী অত্যাচারী শাসক। ( আলোচনাটিকে নিরপেক্ষ...

ঐশী গ্রন্থ চেনার উপায় : কুরআনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য

ঐশী গ্রন্থ চেনার উপায় ও কুরআনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করার আগে মানুষের চিরন্তন অপূর্ণতা সংক্রান্ত দর্শনের উপর কিছুটা আলোকপাত করা প্রয়োজন। মানুষের সকল ধর্মচিন্তার মূলে রয়েছে উৎসের সন্ধান। এমনকি ছোট একটি বাচ্চাও কোনো শব্দ শুনলে সেই শব্দের উৎসের সন্ধান করে : শব্দের দিকে মুখ ফিরিয়ে খুঁজতে থাকে – কোথা থেকে শব্দটা এলো ? ঘরের মাঝে অচেনা কোনো জিনিস দেখলে সোৎসাহে সেটার দিকে ছুটে যায় , জিনিসটা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে : ভাবে – কোথা থেকে এলো এই অদ্ভুত জিনিস ? আরো বড় হবার পর জীবনের একটা সময়ে মানুষের মাঝে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা আসে। নিজের উৎসের সন্ধান করতে করতে মানুষ চিন্তা করে যে , দুনিয়ার প্রথম মা ' কে কে সৃষ্টি করেছিলো ? পৃথিবীর প্রথম মানুষটির সৃষ্টি হয়েছিলো কিভাবে ? এই উৎসের সন্ধান মানুষের নিতান্তই মৌলিক চাহিদা। প্রতিদিনকার খাওয়া দাওয়ার চাহিদা পূরণ হওয়া সত্ত্বেও মানুষের মাঝে নিজের উৎসকে জানার চাহিদা বিদ্যমান থাকে। এমনকি দুনিয়ার আরাম - আয়েস , সুখ - শান্তি ইত্যাদি সকল কিছু পাবার পরও দিনশেষে মানুষ অতৃপ্ত থেকে যায়। নিজের উৎস সম্পর্কে না জানা পর্যন্ত সে তৃপ্ত হয় না। ঠিক যেভ...

নবী চেনার উপায়

নবী রাসূলগণ আজীবন নিষ্পাপ ছিলেন কিনা , নিষ্পাপ হলেও নির্ভুল ছিলেন কিনা , এই মূল আলোচনা শুরু করার জন্য যে গ্রাউন্ড সেট ( পটভূমি বিস্তার ) করা প্রয়োজন , তাতেই মূল প্রশ্নের উত্তর আলোচিত হয়ে যাবে আশা করি। প্রথম প্রশ্ন হলো : নবী কী ? আলোচনা শুরুর আগে মানুষ ও তার সৃষ্টিকর্তার মাঝের সম্পর্ক ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রথমেই সংক্ষেপে উল্লেখ করা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইচ্ছায় তাঁর সৃষ্টিক্ষমতার স্বাধীন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। মানুষকে পৃথিবীতে থাকতে দেয়া হয়েছে। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই জীবনকাল সীমিত। এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা মানুষের দুনিয়াবি জীবনে তার উপর বিভিন্ন নিয়ম - নীতি ও সীমা আরোপ করে দিয়েছেন , যাকে সার্বিকভাবে কার্যকারণবিধি (cause and effect law, or, law of causality) বলা যেতে পারে। আল্লাহ তায়ালা সকল পজিটিভ ( গুণবাচক , ধণাত্মক ) গুণের অধিকারী , এবং “সীমা” বিষয়টি তাঁর জন্যে প্রযোজ্য নয়। অপরপক্ষে , মানুষ “সৃষ্টি” , অর্থাৎ সৃষ্টবস্তু (created) বলেই সে সীমিত গুণবৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আল্লাহ মানুষকে সীমিত পরিমাণে স্বাধীনতা ( অর্থাৎ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি অনুযায়ী কাজ করার ক্ষমতা...

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, জিহাদ, হারানো মুসলিম গৌরব এবং সেই আদিম বিরোধ

অহিংসা মুসলমানের পরম ধর্ম নয় ! আমরা মুসলমানেরা যোদ্ধার জাতি। এই দুনিয়ায় যদি কারো যুদ্ধ করা সাজে তো সেটা মুসলমানদের। কারণ আমরা যুদ্ধ করি আল্লাহর রাহে। আর খোদার রাহে যে যুদ্ধ , তার চেয়ে অধিক সঙ্গত যুদ্ধ আর কী হতে পারে ! অহিংসা তো আমাদের পরম ধর্ম নয় ! হ্যাঁ , এটা সত্য যে আমরা সদা সহিংস নই। আমরা অনেক সময় ইসলাম প্রচারের জন্য শত অত্যাচার নির্যাতন নীরবে সহ্য করে যাই। দশ কোটি অমুসলিমের মাঝে যখন আমি একা মুসলমান , তখন আমার হাতের অস্ত্র হবে শুধুই কুরআন। আর সেই কুরআনের বাণী প্রচারের জন্য যদি আমাকে মৃত্যুও বরণ করতে হয় , তবুও আমি সশস্ত্র সংগ্রাম করবো না। এ হলো আমাদের নবীর শিক্ষা , আল্লাহর আদেশ। আবার এ - ও সত্য যে আমরা চির - অহিংস নই। যখন আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল রয়েছে , যখন দশ কোটির মাঝে আমরা নয় কোটিই মুসলমান ; তখনও আমরা মুখ বুঁজে নির্যাতন সয়ে যাবো , এ আমাদের নীতি নয়। তখন প্রতিষ্ঠিত ইসলামকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ আমাদের উপর ফরজ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করেছেন , যদিওবা আমরা তা অপছন্দ করি ( কুরআন , ২ : ২১৬ ) । আবার কখনো কখনো যুদ্ধ নিষিদ্ধও করেছেন , যদিওবা সীমাহীন নির্যাতন আমাদেরকে অস্ত্র...

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প ইমাম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ আল মুসাভী আল খোমেনী। বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি , যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো , এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র - পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে , বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো , তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

একটি বাংলাদেশ, অনেকগুলো লোলুপ দৃষ্টি, আর আমাদের সাময়িক বিজয়োল্লাস

বাংলাদেশের রাজনীতিকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে চিন্তা করাটা বোকামী। এটা খুবই দুঃখজনক যে , বাংলাদেশের মত ভূ - রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকার অধিবাসীদের রাজনৈতিক চিন্তা হাসিনা - খালেদার ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। অথচ বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ভূখণ্ডের ভূ - রাজনৈতিক গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতিক , রাজনৈতিক নেতা - কর্মী এবং সর্বোপরি সচেতন মানুষের পক্ষে আর হাসিনা - খালেদা ও বাংলাদেশ - ইন্ডিয়া - আমেরিকার সরল সমীকরণে থাকা চলবে না। বরং এই দেশ ও এর জনগণ আরো বড় সমীকরণের অংশ ; বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের একটি নিয়ামক , যা কিনা কিছুদিন আগে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে চীন। বাণিজ্যিক বিষয় ছাড়া চীন সাধারণতঃ কোনো দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলে না। খুব সচেতনভাবেই তারা এটাকে এড়িয়ে চলে। দিল্লিকা লাড্ডু হলেও সারাবিশ্ব যেখানে গণতন্ত্রের এক দুর্বোধ্য স্ট্যান্ডার্ডের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে , সেখানে গোটা বিশ্ব ব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্যোশালিস্ট রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছে চীন।...

অগুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয়ে বিবাদ করা প্রসঙ্গে

“ হে মানবজাতি ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি , যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে - ই সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ , সবকিছুর খবর রাখেন।” ( সূরা আল হুজুরাত , ৪৯ : ১৩ ) “ তারা যখন অবাঞ্ছিত কথাবার্তা শ্রবণ করে , তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে , আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। সালামুন আলাইকুম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।” ( সূরা আল - কাসাস , ২৮ : ৫৫ ) “ আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলো , তারা বললো – ' সালাম ', তিনিও বললেন – ' সালাম ' । ...” ( সূরা হুদ , ১১ : ৬৯ ) “ এবং তাদের ( ছেলেদের ) দিক থেকে তিনি ( ইয়াকুব ) মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন : হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে ! এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেলো। এবং অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট।” ( সূরা ইউসুফ , ১২ : ৮৪ ) “ তিনি বললেন : আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা...

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম । যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ। আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজ...

শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগ এবং আহমেদ দিদাতের ইরান অভিজ্ঞতা

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। ) আহমেদ দিদাত ( ১৯১৮ - ২০০৫ ) এর নাম হয়তো অনেকের অজানা থাকবে। তবে ডা . জাকির নায়েকের নাম নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডা . জাকির নায়েকের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হলেন আহমেদ দিদাত। আহমেদ দিদাত , যিনি কিনা ডা . জাকির নায়েকের নাম দিয়েছিলেন " দিদাত প্লাস " – পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেকচার দেয়া ছিলো তাঁর কাজ। যাহোক , ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামী ইরানের জন্ম হয়। বিপ্লব - পরবর্তী ইরানে ভিজিট করেন আহমেদ দিদাত , সাক্ষাৎ করেন ইমাম খোমেইনীর সাথে এবং নিজদেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরেন। আহমেদ দিদাতের নানা বিষয়ে বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা বাংলা ভাষায় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু শিয়া - সুন্নি ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর চমৎকার বক্তব্যের অনুবাদ কোথাও না পেয়ে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই অনুবাদ করে ফেললাম। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। মূল অডিও কোথাও কোথাও শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা ...

Secularism vs Religion : An Improper Fight ?

The problem with the secularists is that they don't understand history, even though they may read it. They don't understand the pulse of time, and most importantly, they don't understand religion, even though they may study it for the sake of studying their enemy. They don't understand human, though they gain expertise in human psychology. I'll clarify these points shortly. Looking at the human history, it has always been and still is religion that dominates changes, though it may be in positive or negative way. On the other hand, Secularism seems to have lived only for a short period of time, compared to the known history of man. And after the event of 9/11, religion seems to be taking its place back on the table of discussion. Why is that ? This simple observation, a little looking at the past, does not trigger thought in them. That is why they are failing. They are failing everywhere. Now don't get me wrong – because I am saying that secularism is f...

বিতর্ক, যুক্তি-প্রমাণ ও কোরআনের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য

বর্তমান যুগের " ইসলামের দিকে দাওয়াত " ও মহানবীর সময়ের " ইসলামের দিকে দাওয়াত " এই দুটির কিছু মৌলিক পার্থক্য অবশ্য - বিদ্যমান : ১ . মুহাম্মাদ ( সা .) ছিলেন আল্লাহর রাসূল। তিনি বলতেন : " আমি একজন সুস্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী মাত্র। " " আমি আল্লাহর রাসূল , তোমরা আমাকে মান্য করো। " " আমি আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট হয়েছি তোমাদেরকে সতর্ক করার জন্য ... । " আমরা কিন্তু এই কথাগুলো বলতে পারবো না। অর্থাৎ নিজেকে রাসূল দাবী করে কোরআনের বক্তব্য পেশকারীর কথার যে গুরুত্ব , আমাদের কথার অনুরূপ গুরুত্ব থাকবে না। আমরা কোরআনের কথা ব্যবহার করতে পারবো ঠিকই , কিন্তু নিজেকে রাসূল দাবী করতে পারবো না। এটি একটি মৌলিক পার্থক্য। ২ . আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে , কোরআন ২৩ বছর ধরে নাযিল হয়েছিলো। গোটা কোরআন পড়লে দেখতে পাই যে , বিভিন্ন স্থানে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করা হয়েছে , যুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে আল্লাহর অস্তিত্ব কিংবা একত্বের ব্যাপারে। এখন , ইতিহাস থেকে আমরা যতটুকু জানি , তাতে এ সংক্রান্ত সকল আয়াত একত্রে নাযিল হয়নি , বরং সময়ের প্রেক্ষিতে এক এক সময়ে ...

ইসলাম ?

ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে অনেককেই দেখেছি খুব দ্রুত ( বিবদমান দুটি পক্ষের ) একটি পক্ষ নিতে চান। আমি তাদেরকে দোষ দিচ্ছি না , বরং এর একটি ভিন্ন দিকে আলোকপাত করতে চাচ্ছি। আমি যতদূর বুঝতে পেরেছি তা হলো , এর পিছনে একপ্রকার অনিরাপত্তার অনুভুতি (feeling of insecurity) কাজ করে। আর তাদের এই ইনসিকিওর ফিল করার পিছনে একটি বড় কারণ আমরা নিজেরাই। বিশেষত যারা ঐ বিভক্তির বিষয়ে লড়াই করছেন এবং যারা বিভক্তির বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন। কিভাবে , তা বলি। সবচে ' সহজ উদাহরণ হলো শিয়া - সুন্নি বিভেদ। কেউ হয়তো নতুন নতুন ইসলামের প্রতি ঝুঁকছেন , ইসলামের আচার - অনুষ্ঠান পালন করার চেষ্টা করছেন , পড়াশুনা করার চেষ্টা করছেন। একটা পর্যায়ে এসে শিয়া - সুন্নি বিভেদের বিষয়টি জানতে পারলেন। ব্যক্তিটি নিজে হয়তো সুন্নি সমাজে বেড়ে ওঠা , সুন্নি পরিবারের সদস্য। এদিকে একদল ( বা একজন ) শিয়াপন্থী ব্যক্তি তার সামনে সুন্নিদের ব্যাপক সমালোচনা করছে , বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করে ভুল ধরছে , সুন্নিদেরকে ভ্রান্ত বলছে।

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু  সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে। ) সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা। ২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্র...