সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শিয়া লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মিনা ট্র্যাজেডি, ইয়েমেনে আগ্রাসন ও আলে সৌদের ইতিহাস

১. ক্রেন দুর্ঘটনা ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫, জুমাবার। মসজিদুল হারাম সম্প্রসারণের কাজে নিয়োজিত বিন লাদেন গ্রুপের প্রায় ১০০টি বিশালায়তন ক্রলার ক্রেন মসজিদের চতুর্দিকে বসানো। বিকেল পাঁচটা বিশের দিকে ঝোড়ো আবহাওয়ায় এর একটি ক্রেন ভেঙে মসজিদের পূর্ব পাশের ছাদের উপর পড়ে, এবং ছাদ ভেঙে কংক্রিটের স্তুপের নিচে চাপা পড়ে শহীদ হন শতাধিক হাজী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সৌদি সরকারের হজ্জ্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে সাধারণ নির্মানকাজেই ক্রেনের আশপাশ থেকে মানুষ সরিয়ে নেয়া হয়, সেখানে হজ্জ্ব মওসুমে লক্ষ লক্ষ হাজীর আগমণ হবে জেনেও সৌদি সরকার কেন হাজার কেজি ওজনের ক্রেনগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখলো না, এই অভিযোগ মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকল বিবেকবান মানুষের। সৌদি রাজা বা সৌদি প্রিন্সদের কেউ কি অমন অনিরাপদ কনস্ট্রাকশন সাইটে যেতেন? এই মর্মান্তিক ক্রেন দুর্ঘটনায় আল্লাহর মেহমান হাজীদের প্রতি সৌদি সরকারের এই উদাসীনতাই ফুটে উঠেছে যে, আল্লাহর মেহমানদের জীবনের কোনো মূল্য আলে সৌদের কাছে নেই। ২. হোটেলে অগ্নিকাণ্ড এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ...

আশুরা : ভালোবাসা ও যুক্তিতর্ক

আজ ১০ই মহররম (আশুরা)। কারবালার প্রান্তরে দুশ্চরিত্র জালিম শাসক ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সাথীর শাহাদাত দিবস। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা সবারই কমবেশি জানা আছে, এবং এ বিষয়ে ইন্টারনেটে প্রচুর লেখা রয়েছে, যা সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। তাই সেই ঘটনার উপর আলোকপাত করছি না। কিন্তু ইয়াজিদপন্থীদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে যারা জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে কারবালার মহিমাকে খাটো করার জন্য নানারূপ কথা বলছেন, বিশেষত এই দিনে শোক পালনের বিরোধিতা করছেন, ইন্টারনেটে তাদের নানামুখী অপপ্রচার ও হৃদয়হীন বাক্যের সয়লাব দেখে কিছু কথা লেখা নিতান্তই প্রয়োজন হয়ে পড়লো। সহজ দৃষ্টিকোণ : কারবালার ঘটনা স্মরণ করে এইদিনে একদল মানুষ শোক প্রকাশ করছে। আরেকদল শোক প্রকাশকারীদের শোক পালনের বিরোধিতা করছে এবং এইদিনে ইসলামের ইতিহাসে আরো কী কী গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের ঘটনা ঘটেছিলো, তা প্রচার করছে।

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প ইমাম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ আল মুসাভী আল খোমেনী। বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি , যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো , এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র - পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে , বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো , তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

অগুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয়ে বিবাদ করা প্রসঙ্গে

“ হে মানবজাতি ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি , যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে - ই সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ , সবকিছুর খবর রাখেন।” ( সূরা আল হুজুরাত , ৪৯ : ১৩ ) “ তারা যখন অবাঞ্ছিত কথাবার্তা শ্রবণ করে , তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে , আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। সালামুন আলাইকুম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।” ( সূরা আল - কাসাস , ২৮ : ৫৫ ) “ আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিলো , তারা বললো – ' সালাম ', তিনিও বললেন – ' সালাম ' । ...” ( সূরা হুদ , ১১ : ৬৯ ) “ এবং তাদের ( ছেলেদের ) দিক থেকে তিনি ( ইয়াকুব ) মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন : হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে ! এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেলো। এবং অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট।” ( সূরা ইউসুফ , ১২ : ৮৪ ) “ তিনি বললেন : আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা...

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম । যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ। আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজ...