সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

তত্ত্বকথা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বেহেশতের রঙ অথবা বাঁশিওয়ালার গল্প

বহুকাল যাবৎ মানুষ সুরের সন্ধান করে আসছে। সেজন্যে বানিয়েছে কত বাদ্যযন্ত্র, লিখেছে কত গান, কত সুর। তবু মনে শান্তি নেই। এক গান শেষে আরেক গান। এক সুর ছেড়ে আরেক সুর। অস্থির অশান্ত মানব মন। সব গান আর সব সুর শোনা শেষ হয়, তবু তৃপ্তি নেই। ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... তারপর একদিন সব গান আর সুরের জগত মন্থন শেষে সুরপাগল শুনল নতুন এক সুর। পাখির গান, পাতার শব্দ, জলের কোলাহল আর মাটির ঘ্রাণের সাথে শিশিরভেজা ঘাসের স্পর্শ আর ভোরের আলো-আঁধারির লুকোচুরি একত্রে মিশালে হয় সেই সুর। আর সুশীতল এক বাতাস বয়ে নিয়ে যাবে সেই সুরকে। সেই সুরেলা বাতাসের গতি অনুসরণ করে সুরপাগল পৌঁছে গেল সাত আসমানের ‘পার। খোদার আরশ আছে সেইখানে। সুরপাগল তখন দেখে বেহেশতের রঙ। ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... ..... খোদাতায়ালা কথা বলেন না। তিনি কেবল ইশারা করেন। তিনি হাসেন। ভালোবাসেন। মানব-হৃদয়ের গভীরে, রক্তে ঢেউ তোলেন। তিনি সুরপাগলের নাম দিলেন বাঁশিওয়ালা। বাঁশিওয়ালা ফিরে আসে। মানুষকে ডেকে বলে, খোদাতায়ালা আমার নাম দিয়েছেন বাঁশিওয়ালা। আমাকে শিখিয়েছেন সুর। এসো, আমরা একসাথ...

বেহেশতের রঙ অথবা শঙ্খচিলের গল্প

এখন ভোর। আকাশের মেঘ দ্রুত সরে সরে যাচ্ছে। সদা জাগ্রত সশব্দ শহরে এটুকুই নীরবতা। এই একই ভোর, আর আকাশের সেই মৃদু আলোতে মেঘেদের দ্রুত পলায়ন  –  এই ঘটনা জীবনে হাজারবার ঘটেছে। কখনো সেটা হয়েছে প্রচণ্ড শীতে পুকুর পাড়ে মাছ ধরা দেখতে দেখতে, কখনো মাটির চুলায় পিঠার হাঁড়ির পাশে, কখনোবা বড়দের সাথে হাত ধরে হাঁটতে বের হয়ে, আর কখনো শিশিরভেজা শিউলি ফুল কুড়াতে গিয়ে। অথবা কাগজ-কলম হাতে অঝোর ধারার বৃষ্টি দেখে দেখে। আর অসংখ্যবার এমন ভোর পার হয়েছে নির্বোধের মতন ঘুমিয়ে। অথচ প্রতিটা ভোরেরই আলাদা রহস্য আছে : বেহেশতের রঙ বয়ে আনে তারা। কিন্তু সোনা-রূপায় বন্দী মানুষ তড়িঘড়ি করে রাত্রির অন্ধকার খোঁজে। হতাশ ফেরেশতারা রঙের ডালি নিয়ে ফিরে যায়। "আয় খোদা ! এরা যে নিজেদের দুনিয়ার রঙে রাঙিয়েছে।" সাত আসমানের ওপারে খোদা আবারো মৃদু হাসেন। পরদিন ভোর হলে ফেরেশতারা আবারো আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন বলতে বলতে দুনিয়ায় আসে। রঙের খরিদ্দার খোঁজে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, জিহাদ, হারানো মুসলিম গৌরব এবং সেই আদিম বিরোধ

অহিংসা মুসলমানের পরম ধর্ম নয় ! আমরা মুসলমানেরা যোদ্ধার জাতি। এই দুনিয়ায় যদি কারো যুদ্ধ করা সাজে তো সেটা মুসলমানদের। কারণ আমরা যুদ্ধ করি আল্লাহর রাহে। আর খোদার রাহে যে যুদ্ধ , তার চেয়ে অধিক সঙ্গত যুদ্ধ আর কী হতে পারে ! অহিংসা তো আমাদের পরম ধর্ম নয় ! হ্যাঁ , এটা সত্য যে আমরা সদা সহিংস নই। আমরা অনেক সময় ইসলাম প্রচারের জন্য শত অত্যাচার নির্যাতন নীরবে সহ্য করে যাই। দশ কোটি অমুসলিমের মাঝে যখন আমি একা মুসলমান , তখন আমার হাতের অস্ত্র হবে শুধুই কুরআন। আর সেই কুরআনের বাণী প্রচারের জন্য যদি আমাকে মৃত্যুও বরণ করতে হয় , তবুও আমি সশস্ত্র সংগ্রাম করবো না। এ হলো আমাদের নবীর শিক্ষা , আল্লাহর আদেশ। আবার এ - ও সত্য যে আমরা চির - অহিংস নই। যখন আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল রয়েছে , যখন দশ কোটির মাঝে আমরা নয় কোটিই মুসলমান ; তখনও আমরা মুখ বুঁজে নির্যাতন সয়ে যাবো , এ আমাদের নীতি নয়। তখন প্রতিষ্ঠিত ইসলামকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ আমাদের উপর ফরজ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করেছেন , যদিওবা আমরা তা অপছন্দ করি ( কুরআন , ২ : ২১৬ ) । আবার কখনো কখনো যুদ্ধ নিষিদ্ধও করেছেন , যদিওবা সীমাহীন নির্যাতন আমাদেরকে অস্ত্র...

Secularism vs Religion : An Improper Fight ?

The problem with the secularists is that they don't understand history, even though they may read it. They don't understand the pulse of time, and most importantly, they don't understand religion, even though they may study it for the sake of studying their enemy. They don't understand human, though they gain expertise in human psychology. I'll clarify these points shortly. Looking at the human history, it has always been and still is religion that dominates changes, though it may be in positive or negative way. On the other hand, Secularism seems to have lived only for a short period of time, compared to the known history of man. And after the event of 9/11, religion seems to be taking its place back on the table of discussion. Why is that ? This simple observation, a little looking at the past, does not trigger thought in them. That is why they are failing. They are failing everywhere. Now don't get me wrong – because I am saying that secularism is f...

ইসলাম ?

ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে অনেককেই দেখেছি খুব দ্রুত ( বিবদমান দুটি পক্ষের ) একটি পক্ষ নিতে চান। আমি তাদেরকে দোষ দিচ্ছি না , বরং এর একটি ভিন্ন দিকে আলোকপাত করতে চাচ্ছি। আমি যতদূর বুঝতে পেরেছি তা হলো , এর পিছনে একপ্রকার অনিরাপত্তার অনুভুতি (feeling of insecurity) কাজ করে। আর তাদের এই ইনসিকিওর ফিল করার পিছনে একটি বড় কারণ আমরা নিজেরাই। বিশেষত যারা ঐ বিভক্তির বিষয়ে লড়াই করছেন এবং যারা বিভক্তির বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন। কিভাবে , তা বলি। সবচে ' সহজ উদাহরণ হলো শিয়া - সুন্নি বিভেদ। কেউ হয়তো নতুন নতুন ইসলামের প্রতি ঝুঁকছেন , ইসলামের আচার - অনুষ্ঠান পালন করার চেষ্টা করছেন , পড়াশুনা করার চেষ্টা করছেন। একটা পর্যায়ে এসে শিয়া - সুন্নি বিভেদের বিষয়টি জানতে পারলেন। ব্যক্তিটি নিজে হয়তো সুন্নি সমাজে বেড়ে ওঠা , সুন্নি পরিবারের সদস্য। এদিকে একদল ( বা একজন ) শিয়াপন্থী ব্যক্তি তার সামনে সুন্নিদের ব্যাপক সমালোচনা করছে , বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করে ভুল ধরছে , সুন্নিদেরকে ভ্রান্ত বলছে।

ভালোবাসা : তবুও...

জীবনে খুব কম মানুষের মনের কথা জানার সুযোগ হয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও অনাবৃত মনের জোয়ার-ভাটা দেখেছি। হয়তো সে জোয়ারে বাঁধ দিতে পারিনি বলে তা আমায় সিক্ত করে গিয়েছে -- কিন্তু ভাটার সময় আমি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি;  যদিও আপন সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারিনি। যে চাঁদ সাগরে জোয়ার আনে, সে যে নিজেও পৃথিবীর কাছে বাঁধা পড়ে আছে ! ..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... ..... বাঁধনহারা হবার বাসনাটা অত্যাচারী। কিন্তু যে কখনো বাঁধ ভাঙেনি, সে কী করে বুঝবে বাঁধ ভাঙার আনন্দ ! কিছু বাঁধ ভাঙার পর আর জোড়া দেয়া যায় না। তারা চিরস্থায়ী ক্ষরণের ব্যবস্থা করে দেয়। ছিন্ন ঘুড়ির পরিণতিটা হয়তো খুব করুণ, কিন্তু অসীমাকাশে মুক্ত উড়ে বেড়ানোর যে আনন্দ ঐ বন্ধনহীন মুহুর্তগুলো এনে দেয়, জীবনের দাম কি তার বাজি হতে পারে ? কেউ জানে না। যখন জানে, তখন আর ফিরে আসার সুযোগ থাকে না। এ এক অদ্ভুত বাজি। ..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... ..... পথিককে ছায়া দিতে যে গাছ রোদে পোড়ে, সেই গাছের জন্য পথিক কী করেছে ? ..... ..... ..... ..... ..... ..... .... ..... ..... ....

বাংলাদেশ এবং ভালোবাসা

এখনকার দিনে কি কেউ আর ছবির অ্যালবাম দেখে ? এমনকি পিসিতেও স্টোর করে বলে মনে হয় না। সব অ্যালবাম তো এখন "ফেসবুক অ্যালবাম" ! বাসায় কতগুলো অ্যালবাম আছে। সবচে' পুরনো অ্যালবামটা হলো ইরানি অ্যালবাম। কী আশ্চর্য ! আব্বু-আম্মু সেখানে আট বছর ছিলো, আমাদের ছ'জনের মাঝে চার ভাই বোনেরই জন্ম হলো সেখানটায়, কিন্তু ছবি মোটে শ' খানেক হবে কিনা সন্দেহ ! অথচ সেখানকার কত প্রভাব আমাদের উপর -- আমরা "সালাম" বলি, "আসসালামু আলাইকুম" বলি না, এবং আরো অনেক কিছু। এই নিয়ে কতবার নানাজীর কাছে শুনতে হয়েছে -- "তোমাদের ইরানি কায়দা...।" বাংলাদেশ যখন কঠিন সময় পার করে, তখন উদ্বিগ্ন হই, কাগজে-কলমে, পত্রিকায় কিংবা কিবোর্ডে চিন্তার ঝড় তুলে ফেলি। আবার যখন আমেরিকার মুখের উপর কঠোর জবাব দিয়ে ইরান প্রযুক্তিতে এগিয়ে যায়, তখন ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা অনুভব করি। ইউটিউবে হঠাৎ-ই ইরানি ঘুমপাড়ানি গান আবিষ্কার করে থ্রিলড হই। সেজাপু-মেজাপুকে ডেকে শুনাই। কিংবা সেজাপু যখন ইরানি মুভি ডাউনলোড করে -- Song of Sparrows -- তখন মুভি না দেখা আমিও মুভি দেখতে বসি। কিন্তু সেই ইরানের শ' খা...

You can only connect the dots backwards...

বহুদিন পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হারিয়ে যাওয়া কোনো বন্ধুকে ফেইসবুকে খুঁজে পেলে মনটা লাফ দিয়ে আকাশ ছুঁয়ে আসে। তারপর স্থির হয়ে বসি। একটু প্রোফাইলটা ঘুরে দেখা যাক। মনে মনে বলি -- বাপরে... ও কত বদলে গিয়েছে ! চেনাই যায় না। কিংবা -- আরে এইটা অমুক ! একদম হুজুর হয়ে গেলো কবে ? স্টিভ জবসের বিখ্যাত একটা কোটেশান হলো -- you can only connect the dots backwards. তা বটে ঠিক। একজন সফল ব্যক্তি যখন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে বক্তব্য রাখে, তখন সে সহজভাবে বলতে পারে -- you can only connect..., সে সহজভাবে বলতে পারে -- আমি টিনের ক্যান কুড়িয়ে খাবার যোগাড় করতাম। কিন্তু যে ব্যক্তির ক্যানভাসে এই কষ্টের ডটগুলোর শেষ মাথা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যায় না, কিংবা অনারারি পিএইচডি বয়ে আনে না, সে আর বয়স হবার পর বলতে পারে না -- you can only...

UNTITLED - 9

এক ফ্রেন্ডের স্বপ্নের কথা বলি। স্বপ্নটা এমন -- মনে হয় আমি বাড়ির বারান্দায় বসে থাকবো। হাতে কোনো বই থাকবে। বিকেল বেলা। "ও" বারান্দায় এসে বসবে। বলবে, কী করছো। বলবো, এইতো, কিছু না। তারপর ও বলবে, দাঁড়াও, তোমার জন্য চা বানিয়ে আনি। চা আমার খুব পছন্দ। তারপর ও আমার জন্য চা বানিয়ে আনবে। তারপর... বাকিটুকু বলবো না।  বন্ধুটি যখন তার কল্পনার সংসারের গল্প বলতে থাকে, তখন -- না, আমি নিজের সংসার কল্পনা করি না।  তবে আমি তার কল্পনার প্লট তৈরী করে ফেলি মনে মনে ! উপরের কথাগুলো এক ফ্রেন্ডের, কিন্তু সেগুলো শুনবার সময়ে আমি কল্পনা করলাম গুলশান-২ এর ১০৩ নাম্বার রোডের এক বাড়ির D শেপের খোলা বারান্দাটা। সেখানে একটা দোলনা রাখা -- দু'জন বসা যায়, এমন। ছিমছাম, রডের তৈরী মিনিমালিস্টিক ডিজাইনের দোলনা। সেখানে বসে বন্ধুটি কোনো একটা বাংলা উপন্যাস পড়ছে। পাতলা একটা বই। বিকেল বেলা। যদিও সামনেই ব্যস্ত রোড, কিন্তু আজ সেখানে শব্দ নেই। মৃদুমন্দ বাতাস, যেটাতে গরম লাগে না। তারপর তার "ও" (ওয়াইফ) বারান্দায় এলো। এসে পেছন থেকে "কী করছো" বলে... । তারপর বন্ধুটা একটু হেসে বলবে, এইতো, কিছু ন...

রকমারি - ৩

জীবনের অনেক সময় অনেক কাজে নষ্ট করেছি। কিন্তু সেজন্যে অনুতাপ করি না। মনে হয় জীবনের অনেকটা সময় বাকি আছে। মনে হয় আরো অনেক কিছু করতে পারবো। রঙিন মুহুর্ত তৈরী করার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করেছি। যখনই সুযোগ পেয়েছি, আর সব ফেলে রেখে সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করেছি। স্মৃতি তৈরী করেছি। ডায়রির পাতা ভরিয়েছি। পরে, এক একটা সময়ে ঐ কাজগুলোকে অর্থহীন মনে হয়েছে; যখন দেখেছি সেই রঙগুলো সাদাকালো হয়ে গিয়েছে ! কিন্তু তবু আমি অনুতাপ করি নি। মনে হয় করবোও না কখনো। কারণ , অন্তত ঐ মুহুর্তের জন্যে হলেও তো সময়গুলো চমৎকার ছিলো ! এটা তো নির্দোষ মদের মত, যে মদে পাপ হয় না। খাবার সময়টা অনেক সুখানুভুতি, কিন্তু আফটার ইফেক্টস সুখের হবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না ! এই নির্দোষ মদে অনেক সময় পার করেছি। আফটার ইফেক্টগুলো যখন চমৎকার হয় নি, তখন ঘড়ির দু' ঘন্টাকে চার ঘন্টা মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, চারটি ঘন্টা শেষ করে ফেলেছি, এবং তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তবে অনুতাপ করি নি। শিক্ষা হয়েছে অনেক। এখন মনে হয় ভালো মদ চিনতে শিখেছি ! নইলে অন্তত "মাত্রা" জানি ! তবু এই নেশা ছাড়তে পারি না। ভাগ্যের শিশুর মত ...

প্রথম আলো, বিশ্বাস-অবিশ্বাস আর তথ্য-প্রমাণের দৌড়

ফেইসবুকে বন্যার পানির মত ভেসে যাওয়া শত শত পোস্টের মাঝে একটা পোস্টে চোখ আটকে গেলো। ফেইসবুকে নয়া দিগন্তের  পেইজ একটা লেখা শেয়ার দিয়েছে, সেটা আবার শেয়ার করেছে যীনাত। আমি নয়া দিগন্ত পত্রিকায় খুঁজে নিউজটা পেলাম না। যাহোক, পোস্টের শিরোনাম : " চট্টগ্রামের ফয়'স লেকে মাদক বিরোধী কনসার্টের নামে অশ্লীলতা ছড়ানো অভিযোগ   " পোস্টে কোনো পত্রিকার লিঙ্ক দেয়া হয় নি, এবং কোনো তারিখ উল্লেখ ছাড়াই একটা ছবির সাথে যা যা লেখা হয়েছে, তার মূল কথা এই : "প্রথম আলো, কনকর্ড, বাংলালিঙ্ক এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম ফয়'স লেকে আয়োজিত মাদক-বিরোধী কনসার্টে অশ্লীলতার চর্চা হয়েছে -- তরুণ-তরুণীরা একত্রে পানিতে নেমে উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে।" আমি সাধারণত এজাতীয় জিনিস ইগনোর করে যাই, তবে যে জিনিসটা আমাকে এই ব্লগ লিখতে এবং একঘন্টা গুগল সার্চে ব্যয় করতে বাধ্য করলো তা এই (স্ক্রিনশট) :

Copyright

আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই। তবে, যে বিচার-বুদ্ধি ও বিবেক সকল আইনের উৎস, তা দিয়ে আমি Copyright & Piracy rethink করতে বসেছি। ১. কেনা-বেচা : আদিযুগ থেকে মানুষের মাঝে ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া চলে আসছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কিছু বিক্রি করেন, তখন সেই জিনিসটার উপর থেকে তার সত্ত্ব চলে যায়, বস্তুটার মালিকানা চলে যায় ক্রেতার কাছে। যেমন, আলু, চা, মাছ, মাংস, শার্ট, প্যান্ট, জুতা, ইত্যাদি যখন আমরা কিনি, তখন সেটার সমস্ত মালিকানা আমাদের হােত চলে আসে। আমরা সেটাকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করতে পারি -- কাউকে দান করতে পারি, ভোগ করতে পারি, কিংবা নিছক নষ্ট করতে পারি। আদিকালে যত সমস্ত বস্তু কেনা-বেচা করা যেত, তার সবের উপরেই ক্রেতার এ ধরণের অধিকার ছিলো। এখনও আমরা এ ধরণের বস্তুর উপর অনুরূপ অধিকার ভোগ করে থাকি। ২. প্রডাক্টের ধরণ :  প্রডাক্টকে একাধিক ভাবে একাধিক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, পচনশীল দ্রব্য (expense) আর পুনর্ব্যবহার্য দ্রব্য(asset)। Expense এর উদাহরণ খাদ্যদ্রব্য, কলম, পেন্সিল, ইত্যাদি। Asset এর উদাহরণ চেয়ার-টেবিল, ফার্নিচার, ইত্যাদি; এছাড়াও হাউজহোল্ড অ্যাসেটও আছে। এই দুই ধরণের প্রডাক্টই আম...

জাগো.......

খুব বেশিদিন আগে নয় কলেজের ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা হলো। সিলেটের SUST এ পড়ে দু'জন, আর বাকীরা ঢাকার-ই বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে (আমিসহ)। ওদের যেই গেট-টুগেদারগুলোতে আমার যাওয়া হয়, সেখানে হয় পুরোটা সময় আমি চুপ থাকি আর মৃদু-মৃদু হাসি, নয়তো আমিই কথা বলতে থাকি, বাকিরা মাঝে মাঝে দু-চারটা বলার সুযোগ পায় ! সেদিন পরিবেশ অনুকুলে পেয়ে সিরিয়াস নানান বিষয়ে কথা শুরু করে দিলাম। প্রথম কথা শুরু "হয়ে গেলো" "জাগো ফাউন্ডেশান" নিয়ে। শেষমেষ অবশ্য ভাগ্য নির্ধারিত কিনা, এটা নিয়েই তর্ক চলেছিলো। ঘটনা হলো, জাগো ফাউন্ডেশান বলে যে একটা কিছু আছে, সেটাই জানতাম শুধু। তবে, এটা সম্পর্কে প্রথমেই আমার মতামত নির্ধারিত ছিলো। সেটা হয়েছিলো এইভাবে-- ভাই-বোনদের আড্ডা চলছিলো, আর সেসাথে মেজাপু ফেইসবুকে দু-চারটা ব্রাউজিং করছিলো। তারপর জাগো নিয়ে কিছু লিঙ্ক বের হলো। সবাই সোৎসাহে হলুদ টি-শার্টদের অপকর্মের প্রমাণ দেখলো এবং ছিঃছিঃ করলো, সেইসাথে এর প্যাট্রনাইজ করে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী কী হতে পারে -- সবই বর্ণিত হয়ে গেলো। আমার ক্লান্ত লাগছিলো বলে সোফার 'পর শুয়েই থাকলাম। বিস্তারিত ক...

তত্ত্বকথা - ২

ক'দিন আগে ইয়াহু মেসেঞ্জারে কলেজের এক ফ্রেন্ডের সাথে কথা হচ্ছিলো। অনেকদিন তার সাথে আমার দেখা হয় না, কথা হয় না। "কেমন আছো ?"- জিজ্ঞাসা করলে সে বলে- "আলহামদুলিল্লাহ।" আমাকেও একই কথা জিজ্ঞাসা করলো সে। আমি বললাম, "ভালো আছি, বেশ ভালোই আছি। গতদিন আমার বাসায় অমুক, অমুক আর অমুকেরা এসেছিলো। বেশ এক আড্ডা হয়ে গেলো।" - আমার কেনো জানি আর ফ্রেন্ড ভালো লাগে না। মেবি অনেক ধাক্কা খেয়েছি ফ্রেন্ডদের থেকে, এইজন্য। আমি ফ্রেন্ডদের জন্য আছি কিন্তু ফ্রেন্ডরা কেউ আমার জন্য নাই। - ঠিক ধরেছো। এই জিনিসটা বুঝতে তোমার এতদিন লেগেছে। - জানো মাসুদ, আমি সবসময় ফ্রেন্ডদের জন্য যা করেছি, নিঃস্বার্থভাবে করার চেষ্টা করেছি। আলাদা একটা দুনিয়া-ই ছিলো আমার ফ্রেন্ডদের জন্য। ওদের প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে দিন নেই রাত নেই যখন বলেছে ঠিক তখন পাশে পেয়েছে আমাকে। সত্যি বলতে আমি সেটা পাই নি। - হুম, তা ঠিক। - সবাই শুধু স্বার্থ দেখে। খুব কষ্ট হয় মাঝে মাঝে। - ......., তুমি খুব আবেগী ছেলে। - আমি এখন আমার ফ্যামিলির মানুষগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি কেয়ারিং। লাইফে যা করছি বা করবো শুধু তাদের জন্যই করবো...

মণিকোঠায়.....

একটা মানুষের মনে ক ’ জনকে স্থান দেয়া যায়? গত ক ’ দিন হল এই চিন্তাটাই মাথায় ধপসিয়ে(অর্থাৎ, ধপাস করে) পড়েছে। অনেকে বলেন- “ ছোট থাকতেই ভালো ছিলাম। ” হয়তোবা। আমিও অনেকসময় নিজেকে একথা বলি। ছোট থাকতে ভাবতাম- বড় হলে এই করব, সেই করব, যত জনের উপর মনে রাগ আছে, ঝাল মিটিয়ে নেব, এইসব ;) এখন, যখন কিছুটা বড় হয়েছি, তখন মনে হয়- ছোট থাকতেই ভালো ছিলাম, এত কিছু বুঝতাম না, ঝামেলাও ছিলো না, চিন্তাও ছিল না। কিন্তু মানুষ বড় হয়ে যায়।

হরবোলা

১. একদিন ক্লাস হচ্ছিল না বলে কয়েকজন ফ্রেন্ড বসে গল্প করছিলাম। এখনকার জেনারেশনের ছেলে- মেয়েরা সাধারণত যে গল্প করে, তা হল অমুকের নতুন মোবাইল সেট, অমুকের এই ল্যাপটপ, কিংবা ফেইসবুক অথবা কাপড়-চোপড়, গাড়ি ইত্যাদি। এসব নিয়েই গল্প করছে সবাই। আমি এসব কথায় খুব একটা পার্টিসিপেইট করতে না পেরে শেষে দেশের কথা তুললাম। বিডিআর মিউটিনির কথাটা স্বাভাবিকভাবেই এল। দু-একজন ফ্রেন্ডকে দেখলাম এ বিষয়ে আমার সাথে কথায় অংশ নিতে পারল। আর বাকীদের অবস্থা না বললেই নয়- রাজনীতি কিংবা দেশের খবর, কিছুই জানা নেই তাদের। বিডিআর এর এই ঘটনায় কীভাবে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে, তাতে বাংলাদেশের কী কী ক্ষতি হতে পারে, সীমান্তে প্রতিদিন কীভাবে গুলিবর্ষণ করে বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে এসব কথা বলায় কয়েকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।