সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সমসাময়িক লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একটি বাংলাদেশ, অনেকগুলো লোলুপ দৃষ্টি, আর আমাদের সাময়িক বিজয়োল্লাস

বাংলাদেশের রাজনীতিকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে চিন্তা করাটা বোকামী। এটা খুবই দুঃখজনক যে , বাংলাদেশের মত ভূ - রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকার অধিবাসীদের রাজনৈতিক চিন্তা হাসিনা - খালেদার ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। অথচ বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ভূখণ্ডের ভূ - রাজনৈতিক গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের রাজনীতিক , রাজনৈতিক নেতা - কর্মী এবং সর্বোপরি সচেতন মানুষের পক্ষে আর হাসিনা - খালেদা ও বাংলাদেশ - ইন্ডিয়া - আমেরিকার সরল সমীকরণে থাকা চলবে না। বরং এই দেশ ও এর জনগণ আরো বড় সমীকরণের অংশ ; বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের একটি নিয়ামক , যা কিনা কিছুদিন আগে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে চীন। বাণিজ্যিক বিষয় ছাড়া চীন সাধারণতঃ কোনো দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলে না। খুব সচেতনভাবেই তারা এটাকে এড়িয়ে চলে। দিল্লিকা লাড্ডু হলেও সারাবিশ্ব যেখানে গণতন্ত্রের এক দুর্বোধ্য স্ট্যান্ডার্ডের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে , সেখানে গোটা বিশ্ব ব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্যোশালিস্ট রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছে চীন।...

সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং ইরান

(মিশরের আলোচনা একটু থিতিয়ে পড়তেই সিরিয়ায় উত্তেজনা শুরু হলো। আমি হয়তো লিখতাম না, কিন্তু  সিরিয়া ইস্যুতে লেখাটা এখন কর্তব্য হয়ে পড়েছে। এই কারণে নয় যে সিরিয়া-কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের পলিটিক্সের স্বচ্ছ ধারণা এদেশীয় মুসলমানদের নেই, বরং লেখা কর্তব্য এই কারণে যে ছোট-বড় ইসলামপন্থীদের চরম বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা কার্যত বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে। ) সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু (অনলাইনে এসব ছবি ও ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে)। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা তৎক্ষণাত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তারা (সম্ভবত) হামলা চালাতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় বিদেশী মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সাথে ২১ অগাস্ট রাজধানী দামাস্কাসের অদূরে সিরীয় সেনাদের সাথে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয় বিদ্রোহী গ্রুপের। যুদ্ধের কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহীরা ফেইসবুক পেইজে দাবী করে যে সিরীয় সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এরপরের ঘটনা সবার জানা। ২০১১ সাল থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্র...

বৃহত্তর স্বার্থ ও মুসলমানদের ঐক্যের ভিত্তি

( পূর্বকথা : এই লেখার শিরোনাম হতে পারতো : "অমুকের মুখোশ উন্মোচন" কিংবা "শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব" অথবা "সিরিয়ার আসাদ-বিরোধীদের সমর্থন দেবো কি ?" কিন্তু তা না করে সেই পুরনো শিরোনামটাই দিলাম, যেটা টেবিলের সামনে কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ঝুলছিলো। পরীক্ষা সামনে, কিন্তু হঠাৎই এই বিষয়ে লেখাটা জরুরী হয়ে পড়েছে।) ভণিতা না করে আসল কথায় আসি। সেদিন "ফেসবুকে সুপরিচিত" একজন ইসলামপন্থী লেখক অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে একটি লিঙ্ক শেয়ার দিলেন। সামহোয়্যারইনব্লগের একটি লেখা , শিরোনাম হলো "শিয়া মতবাদ : ইসলামের নামে ভয়ংকর বিশ্বাস ও মুনাফেকির বৃত্তান্ত।" বিভক্তির বিষয় উপস্থাপন করাটা বৃহত্তর স্বার্থে ভালো হবে না, এই মূল বক্তব্যের একটি বড়সড় কমেন্ট পোস্ট করলাম। কিছুক্ষণ পরে লেখক আমার কমেন্টটা মুছে দিলেন। কমেন্ট মোছার কাজ নাস্তিক-শাহবাগিরা করে থাকে; সেই কাজ ইসলামপন্থী লেখককে করতে দেখে বিস্মিত হলাম। সেদিনই আবার একই বিষয়ে গুগল প্লাসে ইসলাম বিষয়ক কমিউনিটির একটি পোস্টে আমার মন্তব্যের প্রতি-উত্তরের জবাব দিতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম, আমাকে ব্যান করা হয়েছে। তাই আলাদ...

মতিঝিল গণহত্যা বিষয়ে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন : একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

৫ই মে'র গণহত্যার ইন্টারন্যাশনাল কাভারেজকে ইসলাপন্থীরা গুরুত্বসহকারে প্রচার-প্রকাশ করছেন। কিন্তু একইসাথে খেয়াল রাখা দরকার যে, ৫ই মে সহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে ইসলাম সার্বিকভাবে জড়িত, এবং ইসলামের বিষয়ে এই মিডিয়াগুলোর অ্যালার্জির কথা অজানা নয়। এজন্যে এদের বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। আমি সাধারণত এগুলো পড়ে দেখি না। কয়েকটা কারণে : ১. বাংলাদেশের বিষয়ে বাস্তবতা জানার জন্য আমাকে বিদেশী (এবং বাংলাদেশের শত্রু দেশের) মিডিয়ার শরণাপন্ন হতে হবে না। ২. ইসলামবিরোধী দেশগুলোর মিডিয়া সত্য-মিথ্যা বিকৃত করে কী লিখলো, এটা জানা থাকা দরকার বটে, কিন্তু সেটা দরকার পড়লে ঐ তারিখের নিউজ বের করে দেখা যাবে। তারা সাধারণত বাংলাদেশের আওয়ামী সরকারের মত নিউজ / তথ্য গুম করে না। মোটামুটি একই কারণে আমি পড়ি না প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, বিডিনিউজ২৪, ইত্যাদি। কারণ কোনো ঘটনায় ওরা কী নিউজ করবে তা ওদের আগেই লিখে দেয়া সম্ভব। যাহোক, ইকোনমিস্টের আগামীকালের প্রকাশিতব্য ম্যাগাজিনের এই লেখাটি অনলাইনে এসেছে :  Political violence in Bangladesh In hot blood The killing of Islamist hardliners promi...

বাঁশেরকেল্লা, ফেইক ছবি আর তথ্য-প্রমাণের দৌড়

পেইজ : বাঁশেরকেল্লা । লাইক সংখ্যা : আড়াই লাখ। পাঠকগোষ্ঠী : ইসলামপন্থী, সরকারবিরোধী, শাহবাগ-বিরোধী। পেইজ : শাহবাগে সাইবার যুদ্ধ । লাইক সংখ্যা : এক লাখ। পাঠকগোষ্ঠী : উপরের বিপরীত। বাঁশেরকেল্লা পেইজ কেনো ৫ই মে'র গণহত্যার নামে কয়েকটা ফেইক ছবি পাবলিশ করলো, তাই নিয়ে গালিগালাজ করে দেশ উদ্ধার করছে তারা। অথচ সেই একই বাঁশেরকেল্লায় প্রকাশিত গণহত্যার অন্যান্য ছবি যেনো তারা দেখতেই পায় না ! দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, আমার দেশ পত্রিকা -- বর্তমান সরকার ইসলামপন্থী মিডিয়াগুলোকে বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সঠিক তথ্য জানার জন্য তাই প্রায়ই বাঁশেরকেল্লা পেইজে ঢোকা হয়। অথেনটিক নিউজ পাবলিশ করার ক্ষেত্রে তাদের চেষ্টার ত্রুটি নাই। এবং না জেনে ভুল নিউজ / ছবি পাবলিশ করার পর সেটার প্রমাণ পেলে বা বুঝতে পারলে তাদেরকে পোস্ট রিমুভ করতে দেখেছি। ৫ই মে'র গণহত্যার পর শাহবাগীদের পেইজে তাদের বক্তব্য/গালিগালাজগুলো দেখলাম, পড়লাম। প্রাসঙ্গিক কিছু কথা এখানে লিখে রেখে যাই : প্রসঙ্গ : ভেরিফাইড সোর্স বাঁশেরকেল্লা পেইজ কোনো নিউজ পাবলিশ করলে মানুষ প্রশ্ন করতে পারে - সোর্স দেখান। ...

৫ই মে ২০১৩ : বাংলাদেশে ইসলামের ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

৫ই মে ২০১৩। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে ইসলামের ইতিহাসের একটি অধ্যায় সূচিত হলো। জয়-পরাজয়ের এই অধ্যায়ের সূচনা থেকে যে উপলব্ধি ও শিক্ষাগ্রহণ, তা এখানে লিখে রেখে যেতে চাই। ঘটনার শুরুটা এরকম ছিলো : ৫ই মে ফজরের পর থেকেই ঢাকার ৬টি প্রবেশমুখে লক্ষ লক্ষ মানুষের অবরোধ, বেলা বাড়ার সাথে সাথে মোট সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। উপস্থিত পুলিশদেরকে নিজেদের খাবার-পানি-শরবত দিয়ে আপ্যায়ন করলো হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। দুপুর থেকে সেই অ্যাপ্যায়নের জবাব হিসেবে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ শুরু হলো, এবং থেমে থেমে চলতে লাগলো। আন্দোলনের নেতা আহমদ শফি সাহেব মতিঝিলের মঞ্চে পৌঁছাতে পারলেন না নিরাপত্তার অভাবে। অনির্দিষ্টকালের অবস্থান শুরু হলো মতিঝিলে। সন্ধ্যার আগ দিয়ে জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে দুটি লাশ প্রবেশ করলো মঞ্চে; সেই লাশ দেখে কান্না উত্তেজনায় পরিণত হলো। মানুষজন রাস্তার আইল্যান্ডের গাছের ডাল ভেঙে নিতে শুরু করলো। এটি ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দেবার ডিসাইসিভ মোমেন্ট। ইতিহাস বদলে দেবার জন্য তখন প্রয়োজন ছিলো শুধু একটি নির্দেশের : রক্তের বদলা নিতে যুদ্ধে নেমে পড়া। পরিবর্তে নির্দেশ এলো শান্ত থাকার, ধৈর্য ধারণ করার ...

লংমার্চ নিয়ে আশা-হতাশা : ৬-ই এপ্রিলের একটি পূর্বাপর বিশ্লেষণ।

সকালে পত্রিকায় দেখলাম news analysis : Hefazat's  tough threat, soft program. RTNN.net লিখেছে : হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য খুব দুর্বল। প্রথম আলো লিখেছে : ১৮ দলীয় জোটের আশা পূরণ হয়নি। অন্তত টানা দু'দিন হরতালসহ হেফাজতের অবস্থান গ্রহণ আশা করেছিলো তারা। আমার দেশ পত্রিকাটির উপলব্ধি অবশ্য ভিন্ন ছিলো, সম্পাদকীয়তে তারা পূর্বাপর এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে ফোকাস করে bigger picture দেখানোর চেষ্টা করেছে। ছবি : ৬-ই এপ্রিল ২০১৩, মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ আমরা বাংলাদেশীরা একটি লজ্জাজনক কাজ করে ফেলেছি। অবশ্য আমাদের লাজ-লজ্জা কম কিনা; তা হলো -- যেকোনো বড় ধরণের মুভমেন্ট শুরু হবার আগেই তাকে তাহরির স্কয়ারের সাথে তুলনা করছি। এটা একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি ইসলামের বিরুদ্ধে কার্যতঃ যুদ্ধ ঘোষণাকারী শাহবাগ আন্দোলনকে ইসলামী জাগরণ তাহরির স্কয়ারের সাথে তুলনার ধৃষ্টতাও দেখানো হয়েছিলো। অবশ্য জনগণকে দোষ দিয়েই বা কী -- খোদ সরকারই এই ভয়ে কয়েকবার কেঁপে উঠেছে। মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে একবার খালেদা জিয়ার "চলো চলো ঢাকা চলো" কর্মসূচীকে কেন্দ্র কর...

শত লাশ যখন ধ্রুব হয়ে যায়...

এখন ভোর হচ্ছে। আসলে ভোর পেরিয়ে এখন সকাল, সকাল সাতটা। শীতকালটা কেবল যেতে শুরু করেছে, তাই রোদের তেজ এখনও কম। ছবিটা তুলেছি ক'দিন আগে, তবে এখনও ছবির মতই আলো এসে পড়ছে দেয়ালে।

মেসেজ : সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আমার অবস্থান

বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশীরা বহুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মুসলিম ছাড়া আর কোনো লেবেল নিজের গায়ে লাগাতে না চাইলেও ট্যাগিং অস্ত্রের শিকার হয়ে পড়েছি। দুঃখজনকভাবে সেটা "রহিম-করিমদের" কাছ থেকেই। একারণে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা কর্তব্য। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাহরির স্কয়ারের মত ইসলামী বিপ্লবের আলো দেখা যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামের কবর রচনা করার প্রকাশ্য ঘোষণা হচ্ছে। আমরা যে মুসলিম বিশ্ব ও বৈশ্বিক ইসলামী জাগরণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উল্টো পথে চলছি, তা আশঙ্কাজনকভাবে সত্য। সাম্প্রতিককালে ঢাকার শাহবাগে যে মুভমেন্টটা শুরু হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ইসলামপন্থীরা একে বরাবরের মত একটি "ব্যর্থ সরকারী প্রচেষ্টা" মনে করলে ভুল করবেন। এটা সত্য যে পাঁচদিন ধরে সমস্ত মিডিয়ায় ঢাক-ঢোল পিটিয়েও তারা ৫০ হাজার লোক আনতে পারে নাই। কিন্তু এ-ও সত্য যে ইসলামবিরোধী সকল শক্তি এখানে একত্রিত হয়ে একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কার্যতঃ ইসলামকে ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছে। এই "নতুন মুক্তিযুদ্ধের" মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বপন করে আসা ঘৃণার বীজে...

জাফর ইকবাল : একজন স্বাধীন লেখক

আজকের প্রথম আলোতে জাফর ইকবাল সাহেবের একটি সাদাসিধে কথা প্রকাশিত হয়েছে : “ বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। আবেগী কথাবার্তা আর " স্যার - স্যার” সম্বোধনের আড়ম্বর বাদ দিয়ে মুল কথাটা বলে যাই। গত ৭ ডিসেম্বর ও আজকে , ২০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে জাফর ইকবালের দুটি লেখা। শিরোনাম যথাক্রমে " তোমরা যারা শিবির করো” এবং “বিশ্বজিতের লাল শার্ট”। তার আজকের লেখার শিরোনামটা চমৎকার , তবে তার লেখনীতে আমরা এমন শিরোনাম দেখি না : " মুজাহিদের সাদা টুপি " ( ১৭ বছর বয়সী শিবির কর্মী , যাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে ) " নাম - না - জানা ছেলের নীল শার্ট " ( ৪ ডিসেম্বরে মিরপুরের কালশীতে রাস্তায় ফেলে যেই শিবিরকর্মীকে লীগের ছেলেরা পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলো ) “ নাম - না - জানা বৃদ্ধের স্বজনদের কান্না” ( বিশ্বজিত হত্যার একই দিনে , ৯ ডিসেম্বরে যেই বৃদ্ধ জামাত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিলো ) “ ২৮শে অক্টোবরের দুঃসহ স্মৃতি ” ( ২৮শে অক্টোবর , ২০০৬ এ লীগের ছেলেরা লগি - বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে ৫ জন শিবির কর্মীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশের উপর নেচেছিলো ) কিংবা আরো অনে...

মেসেজ

কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই বাংলাদেশে মানুষকে অনেক ভাবে ভাগ করা যায়। আওয়ামী লীগ সমর্থনের ভিত্তিতে, বিএনপি সমর্থনের ভিত্তিকে, জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থনের ভিত্তিকে এবং আরো অনেক কিছুর ভিত্তিতে। কিন্তু এই বিবেচনার বাইরে আমি এদেশের মানুষকে ভাগ করেছি ২৮শে অক্টোবর, ২০০৬ এর ঘটনার ভিত্তিতে। ঐদিনের ঘটনাকে যারা সমর্থন করেছে, তাদেরকে অসভ্য বর্বর জানোয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছি। সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে শিবিরের কয়েকজন ছেলেকে রাস্তার উপর ফেলে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশের উপর নেচেছে আওয়ামী লীগ। এক সাংবাদিক ভাইয়ের আনা সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছিলাম সেই সময়ে। সেই ঘটনা হয়তো এখন পুরনো হয়ে গিয়েছে। হয়তো সেসময়ে অনেকের বয়স কম ছিলো, অনেকে ঘটনাটি দেখেনি কিংবা অনেকের বিবেক-বিচারবুদ্ধি সম্পূর্ণ গড়ে ওঠেনি। তাই আজকে আবার চিন্তা করতে বসেছি। গতকাল, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে যা ঘটে গেলো এই বাংলাদেশে, তার ভিত্তিতে আবার মানুষকে আলাদা করতে বসেছি। শিবিরের মিছিলে কয়েকজন ছেলের উপর সেই ২৮শে অক্টোবরের নারকীয় তাণ্ডব চালালো আওয়ামী লীগ। রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, মাথায়-মুখে লাথি দিয়ে, ...

ঘেটুপুত্র কমলা : হুমায়ুন আহমেদের শেষ কর্ম

হাওরে পানি এলে তিন মাস জমিদারের কোনো কাজ থাকে না। এই কর্মহীন সময়ে আমোদ ফূর্তি করার জন্য জমিদার সাহেব ঘেটুগানের দল ভাড়া করে আনে। ঘেটুগানের দলে কমবয়েসী সুন্দর ছেলে থাকে। এই ছেলে মেয়ে সেজে নাচ - গান করে এবং জমিদারের ইচ্ছানুযায়ী তার সাথে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। এজাতীয় ছেলেদেরকে ঘেটুপুত্র বলা হতো। মুভির ঘেটুপুত্রের নাম কমলা। টাকার অভাবে সে এই কাজে আসে। ঘেটু দলে তার বাবাও থাকে , সে হলো দলের অধিকারী। বেশ ক ' দিন জমিদারকে আনন্দ দেবার পর একদিন জমিদারে স্ত্রীর হিংসার শিকার হয়ে কমলার অপমৃত্যু ঘটে : কাজের মহিলা টাকার বিনিময়ে কমলাকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। হুমায়ন আহমেদের শেষ কর্ম হলো এই " ঘেটুপুত্র কমলা” নামক মুভি। মুভির মূল বিষয় সমকামিতা (homosexuality) । ইতোমধ্যেই এটা বেশ আলোচিত - সমালোচিত হয়েছে। ঈদের দিনে প্রচারিত হয়েছিলো টিভিতে , সেই ভার্সন দেখলাম গতকাল। হুমায়ুন আহমেদের কথা - কর্ম নিয়ে কখনো সেভাবে লেখার প্রয়োজন বোধ করি নাই , কিন্তু মুভিটা দেখা হয়ে যাওয়ায় লেখার প্রয়োজন বোধ করছি। কেউ হয়তো দেখেছেন , কেউ হয়তো দেখেন নি , কেউ হয়তো শুধু পত্র - পত্রিকা ক...

প্রথম আলো, বিশ্বাস-অবিশ্বাস আর তথ্য-প্রমাণের দৌড়

ফেইসবুকে বন্যার পানির মত ভেসে যাওয়া শত শত পোস্টের মাঝে একটা পোস্টে চোখ আটকে গেলো। ফেইসবুকে নয়া দিগন্তের  পেইজ একটা লেখা শেয়ার দিয়েছে, সেটা আবার শেয়ার করেছে যীনাত। আমি নয়া দিগন্ত পত্রিকায় খুঁজে নিউজটা পেলাম না। যাহোক, পোস্টের শিরোনাম : " চট্টগ্রামের ফয়'স লেকে মাদক বিরোধী কনসার্টের নামে অশ্লীলতা ছড়ানো অভিযোগ   " পোস্টে কোনো পত্রিকার লিঙ্ক দেয়া হয় নি, এবং কোনো তারিখ উল্লেখ ছাড়াই একটা ছবির সাথে যা যা লেখা হয়েছে, তার মূল কথা এই : "প্রথম আলো, কনকর্ড, বাংলালিঙ্ক এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম ফয়'স লেকে আয়োজিত মাদক-বিরোধী কনসার্টে অশ্লীলতার চর্চা হয়েছে -- তরুণ-তরুণীরা একত্রে পানিতে নেমে উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে।" আমি সাধারণত এজাতীয় জিনিস ইগনোর করে যাই, তবে যে জিনিসটা আমাকে এই ব্লগ লিখতে এবং একঘন্টা গুগল সার্চে ব্যয় করতে বাধ্য করলো তা এই (স্ক্রিনশট) :

জাফর ইকবাল

গুগল প্লাসে এই ভিডিও শেয়ার দিয়ে আমি লিখেছিলাম :   এই হলো আমাদের "জাফর ইকবাল", বিশিষ্ট "সুশীল", "মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি"। ৩রা ডিসেম্বর, ২০১১ এর পোস্ট। তারপর সেখানে কী ইন্টারেস্টিং কনর্ভাসেশানই না হলো !