সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

রকমারি - ৩

জীবনের অনেক সময় অনেক কাজে নষ্ট করেছি। কিন্তু সেজন্যে অনুতাপ করি না। মনে হয় জীবনের অনেকটা সময় বাকি আছে। মনে হয় আরো অনেক কিছু করতে পারবো। রঙিন মুহুর্ত তৈরী করার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করেছি। যখনই সুযোগ পেয়েছি, আর সব ফেলে রেখে সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করেছি। স্মৃতি তৈরী করেছি। ডায়রির পাতা ভরিয়েছি। পরে, এক একটা সময়ে ঐ কাজগুলোকে অর্থহীন মনে হয়েছে; যখন দেখেছি সেই রঙগুলো সাদাকালো হয়ে গিয়েছে ! কিন্তু তবু আমি অনুতাপ করি নি। মনে হয় করবোও না কখনো। কারণ , অন্তত ঐ মুহুর্তের জন্যে হলেও তো সময়গুলো চমৎকার ছিলো ! এটা তো নির্দোষ মদের মত, যে মদে পাপ হয় না। খাবার সময়টা অনেক সুখানুভুতি, কিন্তু আফটার ইফেক্টস সুখের হবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না ! এই নির্দোষ মদে অনেক সময় পার করেছি। আফটার ইফেক্টগুলো যখন চমৎকার হয় নি, তখন ঘড়ির দু' ঘন্টাকে চার ঘন্টা মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, চারটি ঘন্টা শেষ করে ফেলেছি, এবং তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তবে অনুতাপ করি নি। শিক্ষা হয়েছে অনেক। এখন মনে হয় ভালো মদ চিনতে শিখেছি ! নইলে অন্তত "মাত্রা" জানি ! তবু এই নেশা ছাড়তে পারি না। ভাগ্যের শিশুর মত ...

পয়লা রমজান, আমার নতুন বছর

১লা জানুয়ারীতে আমার এক বছর যায় না। আমার এক বছর যায় ১লা রমজানে, রোজার ঈদে আর আমার জন্মদিনে। আজ তেমনি আমার একটা বছর শুরু হচ্ছে। এসময় আমি ডায়রি কিংবা ব্লগ লিখবোই। গত রোজা থেকে এই রোজায় অনেক পার্থক্য। একটা সময় ছিলো, যখন এত দ্রুত সবকিছুর পরিবর্তন হতো না। কিন্তু তখন লিখবার প্রবল আগ্রহের কারণে পাতার পর পাতা ডায়রি লিখে যেতাম। এখন, যখন লিখবার এত্তকিছু আমার হাতে, তখন কেনো যে শিরোমানহীনের গান শুনতে শুনতে লেখার হাত অসাড় হয়ে আসে ! ভাড়া থাকা জীবন। সাড়ে ষোল বছর একই বাসায় থাকবার পর নতুন বাসায় এলাম। ভালো হোক, মন্দ হোক -- ওটাই ছিলো "আমাদের" বাসা। ওখানেই আমি আমার স্মৃতিগুলো তৈরী করেছি, আমার শৈশব-কৈশোর, আমার ছেলেবেলা -- সবতো ওখানেই ! এই নতুন বাসায় এসে এমন একটা অনুভুতি হয় যে এই বাসা "আমাদের" নয়, এটা ছেড়ে দিতে হবে একসময়। যদিও আগের বাসাটাও নিজেদের ছিলো না, কিন্তু সেখানে এমন অনুভুতি হতো না। তখন ছোট ছিলাম যে ‍!

প্রথম আলো, বিশ্বাস-অবিশ্বাস আর তথ্য-প্রমাণের দৌড়

ফেইসবুকে বন্যার পানির মত ভেসে যাওয়া শত শত পোস্টের মাঝে একটা পোস্টে চোখ আটকে গেলো। ফেইসবুকে নয়া দিগন্তের  পেইজ একটা লেখা শেয়ার দিয়েছে, সেটা আবার শেয়ার করেছে যীনাত। আমি নয়া দিগন্ত পত্রিকায় খুঁজে নিউজটা পেলাম না। যাহোক, পোস্টের শিরোনাম : " চট্টগ্রামের ফয়'স লেকে মাদক বিরোধী কনসার্টের নামে অশ্লীলতা ছড়ানো অভিযোগ   " পোস্টে কোনো পত্রিকার লিঙ্ক দেয়া হয় নি, এবং কোনো তারিখ উল্লেখ ছাড়াই একটা ছবির সাথে যা যা লেখা হয়েছে, তার মূল কথা এই : "প্রথম আলো, কনকর্ড, বাংলালিঙ্ক এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম ফয়'স লেকে আয়োজিত মাদক-বিরোধী কনসার্টে অশ্লীলতার চর্চা হয়েছে -- তরুণ-তরুণীরা একত্রে পানিতে নেমে উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে ওঠে।" আমি সাধারণত এজাতীয় জিনিস ইগনোর করে যাই, তবে যে জিনিসটা আমাকে এই ব্লগ লিখতে এবং একঘন্টা গুগল সার্চে ব্যয় করতে বাধ্য করলো তা এই (স্ক্রিনশট) :

HP ProBook 4430s

২০ জুন ল্যাপটপ কিনলাম। ভেবেছিলাম খুব কম সময়ে কাজ সেরে বেরিয়ে আসবো। কিন্তু তা হয় নি। আমি যে মডেলটা চেয়েছি, ঠিক আগেরদিন সেটার লাস্ট পিস বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নিচতলা থেকে চারতলা খুঁজেও পেলাম না। একটা পাওয়া যেতো, কিন্তু কনফিগারেশানে ছাড় দিতে হতো। দামেও কম হতো। কিন্তু কনফিগারেশানে কিছুতেই ছাড় দেয়া যাবে না। শেষমেষ Superior Electronics নামের এক দোকানে তারা বললো, এনে দেয়া যাবে, কিন্তু সময় লাগবে। BCS Computer City তে নতুন এক চালান এলো, তার মাঝে এই ProBook 4430s একটা ছিলো। এই জিনিস পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হলো প্রায় তিন ঘন্টা। সবই মিললো, শুধু স্ক্রিন সাইজ মিললো না। তাতে কী -- এই 14"-ই খারাপ কি বা ! মিডটার্ম পরীক্ষা চলে এসেছে, এখন দুই ঘন্টাও অনেক সময়। যাহোক, "জিনিসটা" নিয়ে বাসায় এলাম আমি আর মেজাপু। ProBook 4430s এবং Logitech M185

বন্ধু - বন্ধুত্ব - জন্মদিন

ডিসট্র্যাকটেড মানুষের সাথে কথা বলা কঠিন। অনেকটা কথা বলার পর দেখা যায়, আমার কথা সে কিছুই খেয়াল করে নাই। তখন রাগ হয়। আর যে মানুষের সাথে রাগ করা যায় না, তার ক্ষেত্রে হয় কষ্ট। কিন্তু কিছু করার থাকে না। *                                        *                                        *                                        * ব্লগ লেখার সময় হঠাৎ করে উঠে যেতে হলে কিংবা কারেন্ট চলে গেলে পরে আবার বসলে সেই আগের মুড আর থাকে না। ভালোলাগার মুডে যখন-তখন যাওয়া যায় না, কিন্তু দুঃখ-বিষাদকে যেকোনো পরিস্থিতিেত মনের ভিতর থেকে টেনে বের করা যায়। যাহোক, আমি মনে হয় না দুঃখ-বিষাদের গল্প লিখব এখন। *                             ...

UNTITLED-8

বেশ ক'দিন হলো ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিচ্ছি। ক'দিন মানে মোটামুটিভাবে এই সিমেস্টারের শুরু থেকে। এতে আমার বেশ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। একটা ক্লাস শেষে পরবর্তী ক্লাস কিভাবে নিলে আরও ইফেক্টিভ হবে, তা চিন্তা করেছি। প্রশ্ন / নোট তৈরীর সময় স্টুডেন্ট সাইকোলজি নিয়েও একটু ভেবেছি। শিক্ষকতার মাঝে আনন্দ আছে। কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং দুনিয়ায় সত্যিকারের কাজ না করলে যেনো কিছুই করা হয় না -- এমন ধারণা অনেকের। আমারও অনুভুতি অনেকটা তেমনই। কিন্তু মানুষকে পড়ানোর মাঝেও অনেক আনন্দ ! খুব ভালোভাবে কাউকে কিছু বুঝাতে পারলে ভালোই লাগে ! আমাদের স্কুল অব সায়েন্সের ডিন একরাম স্যার অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তি। পরীক্ষার খাতা দেখে উনি এভাবে বলে দিতে পারেন -- অমুকের খাতা দেখেছে অমুক, আর তারটা থেকে দেখেছে এ। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা মানুষের সাইকোলজি বোঝেন সহজে। নিতান্তই অ-ভালো ছাত্র ছাড়া আর সবারই হয়তো এমন অভিজ্ঞতা আছে যে টিচার সারাটা ক্লাস তার দিকে তাকিয়েই পড়া বুঝিয়েছে। এমন হলে একটু অস্বস্তি লাগে। Integral Calculus ক্লাসটা ছাড়া মোটামুটি অন্যান্য ক্লাসে স্যার আমার দিকে তাকিয়ে পড়া বুঝান প্রায়...

UNTITLED-7

সব সাংবাদিকই কি এভাবে গান গায় ? যেমনটা আব্বু গায় -- "হুঁহু হুঁহু হুঁ.... উহু হু... হু হু হু... মমম.. হম... হুম... হু..." সেজাপু বলে, সাংবাদিকেরা সবাই নাকি এভাবেই গান গায়। অবশ্য আমাদের তেমন একটা সাংবাদিক দেখা হয় না -- আমরা প্রায় আলাদা একটা দুনিয়ায় বাস করি। তবে খেয়াল করেছি, আরিফ ভাইয়াও এভাবে গান গায়। (হঠাৎ মনে পড়লো, বিয়ের আগে আরিফ ভাইয়া যখন শুধু আমাদের বাসায় আসত আর আমরা তাকে সত্ত্বর বিয়ে দেওয়ার পক্ষে বাসায় ওকালতি করতাম, তখন সে শুধু তার ল্যাপটপ বের করে "আমি তোমার মনের ভিতর" গানটা বাজাত !) আমি গান গাইতে পারি না।

রকমারি - ২

প্রেম কী বুঝলাম নারেএএএ এ এ এ এ এঁহে হে হেঁ হেঁ হেঁ হেঁ.... কেউ তো বললো না রে, আই লাভ ইউ উ উ উ উ উ বাসার পিছনে বস্তিতে কয়েকদিন যাবৎ এই গানটা বাজাচ্ছে। আমার মাথার মধ্যে বেশ রেকর্ড হয়ে গিয়েছে ! এই গানের আরেকটা লাইন এরকম : মজা তো করলাম না রে... (!?) ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...    ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...   ...   ... আমার ছাত্রকে যখন আমি পড়াচ্ছি, তখন বস্তিতে রিকশাঅলা মনের সুখে গান বাজিয়ে যাচ্ছে। পড়ানোর মাঝে একটু নীরবতা যখন আসে, তখন ছাত্র পড়ার দিকে মন না দিয়ে হেসে ওঠে, আমিও হেসে উঠি। কারণ তখন হয়তো দু'জনের মনের মধ্যে ঐসব গানের লিরিক্স ঢুকে গিয়েছে -- সারা দুনিয়া তোমার আমার বাসর ঘর (!?)

রকমারি - ১

আমার ছাত্র সাজিদ। ক্লাস এইটে পড়ে, মনিপুর স্কুলে। আমি তাকে ইংরেজী পড়াই। এক বছর হলো পড়াচ্ছি। বাসায় এসে প্রথমে সে চেয়ারে বসে। আমি হয়তো বলি -- একটু বসো, আমি নামাজটা পড়ে আসি। কিংবা, এখনও ভাত খাই নি ভার্সিটি থেকে এসে, আমি একটু খেয়ে আসি। সে বসে পত্রিকা দেখতে থাকে। তারপর আমি আরেকটা চেয়ার নিয়ে আসি। টেবিলের এক পাশে রেখে বসি। আমি বসামাত্রই সে "হাহ....." করে দম ছাড়ে। এটা ঘটবেই। এমন নয় যে সে ক্লান্ত, কয়েক মিনিট পথ হেঁটে এসেছে, চেয়ারে বসে দম ছাড়ছে। কিন্তু না -- আমি দশ মিনিট পরেই আসি কি সাজিদ চেয়ারে বসবার পরপরই আমার চেয়ারে বসি -- সে দম ছাড়বেই ! তার এই দম ছাড়ার বিষয়টি আমার চেয়ার বসার সাথে সম্পর্কিত। মাঝে মাঝে এমন হয় -- আমি হয়তো খেয়াল করি নাই ও দম ছাড়লো কিনা, আমি হঠাৎ জিজ্ঞাসা করি -- কী ব্যাপার, আজকে সাজিদ দম ছাড়লে না ? তখন সে হেসে বলে -- হুম, ছাড়সি। :D

জাফর ইকবাল

গুগল প্লাসে এই ভিডিও শেয়ার দিয়ে আমি লিখেছিলাম :   এই হলো আমাদের "জাফর ইকবাল", বিশিষ্ট "সুশীল", "মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি"। ৩রা ডিসেম্বর, ২০১১ এর পোস্ট। তারপর সেখানে কী ইন্টারেস্টিং কনর্ভাসেশানই না হলো !

মেগাপিক্সেল

- ভাবতেসি সিলেট ট্যুর করবো। - বাহ ! বেশ তো। - ফ্রেন্ডরা মিলে যাবো, আর... - যাও, মজা করো। - যাবা ? - ছবি তুলে এনো, আমি দেখবো। - আমার ক্যামেরার মেগাপিক্সেল কম... মেগাপিক্সেলের কথা চলে এলো। ভাবলাম, মেগাপিক্সেল কম, তাতে কী ? তার ফ্রেমটা তো বেশ। সেকথা বলায় আরেক বন্ধুর কথা বললো -- তার ফ্রেমটা নাকি আরো বড়। বেশ তো ! বড় ফ্রেম, বড় ছবি।

কোনদিন জাগিবে না আর...

(এই ব্লগটা দয়া করে কেউ পড়বেন না। যদিও ব্লগ একেবারেই ওপেন জিনিস, তবুও ইচ্ছা হচ্ছে এই ব্লগটা কেউ না পড়ুক। আমি এখানে কোনো বিশেষ কিছু লিখবো না, লিখবো না কোনো গোপন কথাও। বরাবরের মতই গান শুনতে শুনতে বা মিউজকি চালিয়ে লেখা ব্লগ ! পুরো ব্লগটাই বরাবরের মত। কিন্তু আপনি না পড়লে আমার ভালো লাগবে !) (ধন্যবাদ ব্লগে আসার জন্য, একটা সুন্দর ছবি দেখুন : )

ছোট অ্যাপারচার থেকে

আমি ইদানিং গান শুনি না। গান শোনাকে অহেতুক কাজ বলে মনে হয়। মনে হয়, এতে চিন্তার ফোকাস সরে যায়। মানুষের মনের দূর্বল দিকগুলো জেগে উঠতে চায়। মাটির নিচ থেকে কেউ উঠে আসতে চায় যেনো। তাই আমি গান শুনি না। দিনের মধ্যে কয়েকবার নিজের মনে বলি -- Focus ! Concentrate ! ব্লগার চিন্তা ঝাড়ার জায়গা না। আমার পরিচিত এক ব্লগার আছে, সে ব্লগারকে মনে করে চিন্তা ঝাড়বার জায়গা। ব্লগারে এসে যত এলোমেলো বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলোকে ঝেড়ে ফেলে নিজের জীবনটাকে, চিন্তাগুলোকে ঠিক-ঠাক রাখে। সে বলে -- ব্লগের আমি আর বাস্তবের আমি আলাদা। গার্মেন্টস এ কাপড় তৈরী হবার পর যে এলোমেলো আকৃতির কাপড়ের টুকরো বের হয়, সেগুলো যেনো সে তার ব্লগারে সাজিয়ে রেখে যায়। আমার বানানো কাপড়গুলোয় আমি অমনটা হতে দিই না। আমি তাদের নিখুঁত চাই। আমি চাই না তাদের বানাবার সময় কতগুলো উচ্ছিষ্ট বেরোক, যাদের নিয়ে আমি ব্যস্ত হয়ে পড়বো ! আর আমি জানিও না কোথায় তাদের রাখতে হয়, না ফেলতে হয়। ব্লগে এমন অ্যামবিগিউয়াস কথা লেখা ঠিক না। অনেকে ব্লগ পড়ে। ভদ্রতা করে পড়ে। আগ্রহ করে পড়ে। সার্চ করতে এসে ল্যান্ড করলে পড়ে। হাবিজাবি কথা দিয়ে অপরের সময...

Copyright

আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই। তবে, যে বিচার-বুদ্ধি ও বিবেক সকল আইনের উৎস, তা দিয়ে আমি Copyright & Piracy rethink করতে বসেছি। ১. কেনা-বেচা : আদিযুগ থেকে মানুষের মাঝে ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া চলে আসছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কিছু বিক্রি করেন, তখন সেই জিনিসটার উপর থেকে তার সত্ত্ব চলে যায়, বস্তুটার মালিকানা চলে যায় ক্রেতার কাছে। যেমন, আলু, চা, মাছ, মাংস, শার্ট, প্যান্ট, জুতা, ইত্যাদি যখন আমরা কিনি, তখন সেটার সমস্ত মালিকানা আমাদের হােত চলে আসে। আমরা সেটাকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করতে পারি -- কাউকে দান করতে পারি, ভোগ করতে পারি, কিংবা নিছক নষ্ট করতে পারি। আদিকালে যত সমস্ত বস্তু কেনা-বেচা করা যেত, তার সবের উপরেই ক্রেতার এ ধরণের অধিকার ছিলো। এখনও আমরা এ ধরণের বস্তুর উপর অনুরূপ অধিকার ভোগ করে থাকি। ২. প্রডাক্টের ধরণ :  প্রডাক্টকে একাধিক ভাবে একাধিক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, পচনশীল দ্রব্য (expense) আর পুনর্ব্যবহার্য দ্রব্য(asset)। Expense এর উদাহরণ খাদ্যদ্রব্য, কলম, পেন্সিল, ইত্যাদি। Asset এর উদাহরণ চেয়ার-টেবিল, ফার্নিচার, ইত্যাদি; এছাড়াও হাউজহোল্ড অ্যাসেটও আছে। এই দুই ধরণের প্রডাক্টই আম...

যথার্থই...

পরীক্ষা শেষ হলো আঠারো তারিখ দুপুরে। বাসায় এসে গোসল-নামাজ-খাওয়া সেরে ঠিক চারটায় বেরোলাম কলেজের বন্ধুদের সােথ দেখা করতে। দু'জন আবার সিলেট থেকে এসেছে গোলমালে ইউনিভার্সিটি বন্ধ থাকার সুযোগে (!)। একজন, দুইজন, তিনজন, চারজন... চারটা, পাঁচটা, ছ'টা, সাতটা...। এলোমেলো, অসংহত বিচ্ছিন্ন সব আলাপ, কারো সিগারেট, কারো ফোনে ফেসবুক থেকে নেয়া নাম-না-জানা সুন্দরীর ছবি, কারো ফোনে মেটালিকার গান, কাঁচের কাপে দুধ দেয়া চা, কলা-ভেরি কিংবা লেইট গুডবাই আর কারো অশ্লীল কথা : এইসব মিলে -- একে বলে, 'আড্ডা'। অহেতুক তত্ত্বের কচকচানি শুরু করবো না, তবে, একে 'সামাজিকতা', কিংবা 'মেইনটেইন করা'-ও বলে।

Remember... Life is just a memory...

When you try your best but you don't succeed / when you get what you want but not what you need... When you leave something you can't replace / when you love someone but it goes to waste / could it be worse... Lights will guide you home / and ignite your bones / and I will try to fix you... গান শুনতে শুনতে ব্লগ লেখার অভ্যাস মরে যায় নি তাহলে ! সে যাক। আজ দশ নাম্বার নেমেছিলাম। রাস্তার দু-ধারে কয়েকটা দোকানে প্রিন্টের কাজ করা হয় কিনা, সেই খোঁজ নিলাম। রাস্তাটা প্রশস্ত হয়েছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময়। ময়লার স্তুপটাও সরানো হয়েছিলো-- এখন আবার রিস্টোর করেছে। সাধু যোসেফের নব্যালয়, ম্যাগনোলিয়া ভিলা, এগুলো পার করে ডানের রাস্তায় ঢুকলাম। কিছুদুর এগোনোর পর ডানের রাস্তায় তাকালাম, কোনো কম্পিউটার কম্পোজ / প্রিন্টের দোকান চোখে পড়ে কিনা। "ওয়ারদা টেলিকম" এর ছেলেটা তো এই রাস্তার কথাই বুছিয়েছে। তারপর সামনে তাকালাম। হায় আমি ! হায় আমার ব্রেইন ! এই রাস্তায় তো আমি বহুবার এসেছি। এবছরই এসেছি। গতবছরও এসেছি। কী করে আমি সেই রাস্তাকে ভুলে গেলাম ? এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলাম, মামা ...

স্বপ্নগুলোকে কবর দিয়ে...

"না, এটা আগে পিটিয়ে শক্ত করতে হবে। তাহলে সুবিধা হবে। এখনও অনেক নরম।" "আরে, এটার সাথে তো পেপার লেগে গেসে।" "আমি বেশিরভাগ পিষছি, আপনি বাকিটুকু করেন।" "দেখসেন, চালার পর কতটুকু হয়ে গেসে ! হরলিকস এর মাত্র দুই বোয়েমেই ভরে গেসে ! অথচ প্রথমে কত বেশি দেখাচ্ছিলো !" তারপর আমাদের বসে মাটির খেলনা বানানো। মাটির পাখি, তার নাম দেয়া হলো স্কুলের বইয়ের সেই পাখিটার নামে-- রংরাং পাখি। হাতি-- তার পিঠের মাঝে পয়সা রাখার ব্যবস্থা করা হলো ! মাটির ঘর, তার মাঝেও পয়সা রাখা যাবে। মাটির ঘন্টা-- কিন্তু দোকানের সেই মাটির ঘন্টার মত শব্দ তো আর হলো না ! মাটির নৌকা, ফুল, হাঁস, মসজিদ আর মন্দির ! আর মাটির নীল রঙের ডলফিনটা। মাটির ঘোড়া, যার লেজটা বানাবার সময় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যাবার অবস্থা-- কুকুরের মত হয়ে যাচ্ছিলো বারবার ! তারপর মাটির শেষ গুঁড়োটুকু দিয়ে শাড়ি-পরা, কলসি কাঁখের দুই সেন্টিমিটার লম্বা ছিপছিপে মহিলাটা। এরপর আবার দিন গড়াতে থাকে। মাটি নিয়ে খেলার দিন শেষ হয়ে যায়। মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সে বড় হয়ে যায়। সবাই তো আর বড় "হয়" না-- অন...

জাগো.......

খুব বেশিদিন আগে নয় কলেজের ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা হলো। সিলেটের SUST এ পড়ে দু'জন, আর বাকীরা ঢাকার-ই বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে (আমিসহ)। ওদের যেই গেট-টুগেদারগুলোতে আমার যাওয়া হয়, সেখানে হয় পুরোটা সময় আমি চুপ থাকি আর মৃদু-মৃদু হাসি, নয়তো আমিই কথা বলতে থাকি, বাকিরা মাঝে মাঝে দু-চারটা বলার সুযোগ পায় ! সেদিন পরিবেশ অনুকুলে পেয়ে সিরিয়াস নানান বিষয়ে কথা শুরু করে দিলাম। প্রথম কথা শুরু "হয়ে গেলো" "জাগো ফাউন্ডেশান" নিয়ে। শেষমেষ অবশ্য ভাগ্য নির্ধারিত কিনা, এটা নিয়েই তর্ক চলেছিলো। ঘটনা হলো, জাগো ফাউন্ডেশান বলে যে একটা কিছু আছে, সেটাই জানতাম শুধু। তবে, এটা সম্পর্কে প্রথমেই আমার মতামত নির্ধারিত ছিলো। সেটা হয়েছিলো এইভাবে-- ভাই-বোনদের আড্ডা চলছিলো, আর সেসাথে মেজাপু ফেইসবুকে দু-চারটা ব্রাউজিং করছিলো। তারপর জাগো নিয়ে কিছু লিঙ্ক বের হলো। সবাই সোৎসাহে হলুদ টি-শার্টদের অপকর্মের প্রমাণ দেখলো এবং ছিঃছিঃ করলো, সেইসাথে এর প্যাট্রনাইজ করে কারা, তাদের উদ্দেশ্য কী কী হতে পারে -- সবই বর্ণিত হয়ে গেলো। আমার ক্লান্ত লাগছিলো বলে সোফার 'পর শুয়েই থাকলাম। বিস্তারিত ক...

গ্রামের গল্প

অনেকদিন ব্লগ লেখা হয় না। সর্বশেষ ব্লগটা লিখেছি একমাস আগে। ইদানিং সময় এত দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে যে কিছুই লেখার সময় পাচ্ছি না। অবশ্য এমাসের দুই তারিখ থেকে আঠারো তারিখ পর্যন্ত একদম পড়াশুনা ছাড়া দিন পার করেছি। এমন সময়ের বেশ আনন্দ আছে। আর হ্যাঁ- এই সময়ের মাঝেই কোরবানির ঈদ পার হয়ে গিয়েছে। এই ঈদে লেখার মত বেশ কিছু স্মৃতি সঞ্চয় হয়েছে। ঢাকায় ফিরেই ভেবেছিলাম সেগুলো লিখে ফেলবো, কিন্তু নেট-কম্পিউটার বন্ধ হয়ে থাকায় লেখা হয়ে ওঠে নি। বাসায় একটা নেটবুক আছে, কিন্তু অত ছোট জিনিসে লিখত বসতে মন ওঠে না। সে যাক।

Don't Settle

কিছুদিন আগে এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। তার বোন এবার এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে। সরকারি ইউনিভার্সিটিগুলোতে পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, আবার প্রাইভেটে ভর্তি হবার চিন্তাও করছে। আমি তার সাথে দু-চারটা কথা বললাম। "আব্বু চেয়েছিলো ডাক্তার হবো।" "আপু বলছে ফার্মাসিতে পড়তে।" ..... এইসব কথা। আমি বললাম, "তুমি কী পড়তে চাও ?" সে -- "ঠিক জানে না" কী নিয়ে পড়বে। তখন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্টিভ জবসের দেয়া সেই কথাটা মনে ding দিয়ে গেলো - Don't settle. Keep looking for it.... আমি বললাম, "Don't live anyone else's life." হয়তো সে-ও একসময় "কিছু একটা" হবার স্বপ্ন দেখত...। সময় আর বাস্তবতা সেই স্বপ্নগুলোকে প্রথমে মনের আড়াল করেছে, পরে মেরে ফেলেছে। এখন হয়ত তার দূরতম স্মৃতিতেও সেই স্বপ্নগুলো নেই...। আজ হঠাৎই সেই দিনটার কথা মনে করে ভাবলাম- "আরে, তাইতো ! আমিও একসময় স্বপ্ন দেখতাম !" সময় এখন আর সেই না-হবার-স্বপ্নগুলোর কথা ভাববার অবকাশ দেয় না। আজ কিভাবে যেনো বেশ খানিকটা অলস সময় পেয়ে মন সেই পুরনো ভাবনাগুলোকে তুলে এনেছে। আ...